কমরেড আইউব রেজা চৌধুরীর অবদান দুইটি

6

ইমাম গাজ্জালীঃ বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতির সংঘটন আর দ্বিতীয়টি হল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট রাজনীতির তত্ত্বগত পূর্নগঠন। এর কোনোটিই একের সঙ্গে অপরের বিরোধাত্মক নয়। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাযুদ্ধের রাজনীতি মূলত উঠে এসেছিল ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে একটি উত্থিত তরুণ প্রজন্মের ভেতর থেকে, তিনি সেই তরুণ প্রজন্মের অন্যতম প্রতিনিধি ছিলেন।১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনের পর স্বৈরাচার আইউব শাহীর রোষানলে পড়েছিলেন সেই সময়ের যে ৯ জন ছাত্র নেতা, তার মধ্যে আইউব রেজা ছিলেন অন্যতম। অন্যান্যরা ছিলেন, সিরাজুল আলম খান, রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর রণো, একেএম ওবায়দুর রহমান, বদরুল হায়দার চৌধুরী, শাহ মোয়াজ্জেম, রেজা আলী, গিয়াস কামাল চৌধুরী। তাদের সকলেই স্বপক্ষ ত্যাগ করলেও ব্যতিক্রম ছিলেন আইউব রেজা চৌধুরী।
কমরেড আইউব রেজা চৌধুরী প্রথমে রুশপন্থী ধারার সঙ্গে ছিলেন, পরে চীনপন্থী কমিউনিস্ট ধারায় যুক্ত হন। এক পর্যায়ে পন্থী রাজনীতির মোহমুক্ত হয়ে এই অঞ্চলের কমিউনিস্ট রাজনীতির তত্ত্বগত পূর্ণগঠনে মনোনিবেশ করেন। এসব কাজ করতে গিয়ে তিনি বিস্তর লিখেছেন। অগ্রগামী নামে একটি তাত্ত্বিক পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। হোক্সাপন্থী, এসইউসিআই, আরএসপি, সিপিআইএম নানা ধারার অনুকরণ প্রবণতাকে বিরোধীতা করতেন আবার তাদের ইতিবাচক দিক কিছু থাকলে সেগুলো গ্রহণের কথা বলতেন। একইভাবে মার্কস এঙ্গেলস ও লেনিনের বাইরে অন্যান্য সকলের অবদান স্বীকার করতেন এবং বিচারমূলক সমালোচনাসহ তাদের ইতিবাচক দিকসমূহ গ্রহণ করতেন। বাংলাদেশের সমাজ রূপান্তরের ক্ষেত্রে ধার করা তত্ত্ব নয়, বরং তত্ত্বগত পূর্ণগঠনের ওপর জোর দিতেন। আজ তার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনে আমরা তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম ভালবাসা জানাই।-লেখক: সাবেক ছাত্র নেতা।