জনগন নৌকাকেই জয়যুক্ত করবে!

55

মো নাজমুল হুদাঃ বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। যেখানে অনেক দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েও উন্নয়নের জোয়ারে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। আমাদেরও উন্নয়ন হয়েছে, তবে তুলামূলক মন্থর। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা সাংস্কৃতিক ভাবধারা সুষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠা আজও পায়নি। তবে সামগ্রিক বিবেচনায় বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবো ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবিরোধী সফল রাষ্ট্র হিসেবে। তবে আমাদের আচরন, মনোভাব ও কিছুটা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হয়তো প্রয়োজন, যেটা সময়ের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মানুষ বিশ্বাস করে।

১৯৭১সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন; পঁচাত্তরের মনন্ত্বরে সেটা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তখন ক্ষমতার পালাবদলে একদল বেইমান, খুনী ও স্বৈরশাসক বাংলার মানুষের কাঙ্খিত উন্নয়নকে বারবার বাধাগ্রস্থ করে। তৎকালীন পাকিস্তানি সকল ষড়যন্ত্র ও তাদেরই সহায়ক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় বিএনপি-জামায়াত। কেননা, প্রথমত এটি হচ্ছে বাংলাদেশের অস্তিস্ত্ব ও স্বাধীনতা বিরোধী একটি শক্তি। অপরদিকে সকল যুদ্ধাপরাধী ও খুনীদের সমন্বয়ে আওয়ামী বিরোধী (এন্টি আওয়ামীলীগ) একটি সংগঠন।

পঁচাত্তর পরবর্তী দীর্ঘ ২১বছর ছিল বাংলার ইতিহাসে কালো অধ্যায়। স্বৈরশাসন পতনের পর ১৯৯১সালে স্বাধীনতা বিরোধীরা পাঁচ বছর এদেশের খুন, লুন্ঠন, গুমের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করে। দেশের প্রতিটি অঙ্গনে অসাধুতা ও দুর্নীতি প্রবেশ করে। তারা যুদ্ধাপরাধীদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তুলে দেয়। দেশের সকল উন্নয়ন ব্যাহত করে অর্থনীতির চাকা দুর্বল করেছে। যেটির ধারা অব্যাহত রেখেছে পরবর্তী ২০০১-০৫ ক্ষমতাকালীন বিএনপি-জমায়াত জোটের দুর্নীতিতে পাঁচ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যেভাবে দেশে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি কায়েম করেছিল, একইভাবে এ সময় তারা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১শে আগস্টের মত নেক্কারজনক কান্ড ঘটাতেও দ্বিধা করেনি। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি।

বাংলাদেশের জনগনের অসীম ভালবাসা আর পিতা মুজিবের আদর্শকে পুজি করে প্রথমবারের মত ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে দেশরত্ন শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করেন। সকল যুদ্ধাপরাধীদের ও বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনিদের বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে জনগনের সেবায় নিয়োজিত করেন।
দেশের শিল্প ও অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ও বেকারত্ব দূর করতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেন এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত-মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সচেষ্ট হন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার এবং ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এসময় তিনি সল্পোন্নত বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেন। ইন্টারনেট, তথ্য প্রযুক্তি, মোবাইল ইত্যাদির মাধ্যমে যোগাযোগে বিস্ময় ঘটান। জনগনের বর্তমান মাথাপিছু আয় (প্রায় ১৭৫২ মার্কিন ডলার) দশ গুন বৃদ্ধি পায়। আর জঙ্গীবাদ নির্মুল, সম্প্রদায়িকতাকে বিলুপ্তকরন ও সকলের সম অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে সুষ্ঠু গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিনত করেছেন।
তাই সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

আসছে ৩০ডিসেম্বর ২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাই দেশের জনগন নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় নিয়ে আসবে। নৌকা হচ্ছে উন্নয়নের প্রতীক, নৌকা হচ্ছে এদেশের স্বাধীনতার প্রতীক। আর একটি সরকার বারবার ক্ষমতায় থাকলে দেশে উন্নয়ন বহুগুন ত্বরান্বিত হবে। মানুষ জেনে গেছে উন্নয়নের বিকল্প মানেই নৌকা; নৌকা হচ্ছে এদেশের জনসাধারনের মার্কা, অর্থনৈতিক মুক্তির মার্কা। আর বাংলাদেশে উন্নয়নের এ ধারাকে অভ্যাহত রাখতে প্রতিটি জনগন নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বারবার জয়যুক্ত করবে।-লেখকঃ অর্থনীতির শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।