সাংবাদিকতা কেন করব, অথবা কেন করব না

91

মো: বেলাল হোসেনঃ আধুনিক বিশ্বে জ্ঞানের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র ও শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম মাধ্যম সাংবাদিকতা। এটি জ্ঞানের অনুশীলন এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র এবং একটি মহৎ পেশা। সাংবাদিকতা সমাজে অন্যান্য পেশা বৃত্তির চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে সাংবাদিকতা জ্ঞানের ও শক্তির নতুন দিগন্ত উন্মেষণ করেছে। এর মাধ্যমে জ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রে সামান্য হলেও প্রবেশ করা যায়।

সাংবাদিকতা করতে অনেক বেশি সাহস ও ত্যাগের প্রয়োজন। সত্য বলতে হলে অসম্ভব রকমের সাহসী হতে হয় ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। বর্তমানে সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিক নিহতের হার বহু গুণ বেড়েছে গত দুই তিন বছরে। তেমনি পাল্লা দিয়ে হলুদ সাংবাদিকতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ জাতীয় জীবনে সত্য মিথ্যার দ্বন্দ্ব ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

আমি ও সাংবাদিক হতে চাই কিন্তু স্বীকার করি আমি অসম্ভব রকমের সাহসী নই। তবুও বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতা আমার দ্বারা অসম্ভব কিছু নয়। কারণ, সাহস ও ত্যাগ তখনই প্রয়োজন যখন তার ভিতরে লিখনি শক্তি ও বিশ্লেষণি ক্ষমতা থাকবে। সামান্য কিছু হলেও এ ক্ষমতা আমার মধ্যে আছে, ইনশাল্লাহ।

সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং কষ্ট সাধ্য পেশা। রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য অনেক দৌড়ের উপর থাকতে হয়। কষ্টসাধ্য কাজ তবুও আমি রোমাঞ্চিত হয়। সত্যিই একটি ভাললাগার ব্যাপার আমার জন্য। তার উপর রয়েছে খ্যাতির যশ, প্রভাব প্রতিপত্তি। অল্প সময়ে বিখ্যাত হওয়ার অপূর্ব সুযোগ। রাষ্ট্র, সমাজে নিজের মতামত খুব সহজেই চাপানো যায়। চুল পাকলেই বুদ্ধিজীবী খেতাব পাওয়া যায়। সরকারি দলের আক্রোশের শিকারও হয়। আজকাল তো সাংবাদিকরা হরহামেশা জীবনও হারায়।

ভাল সাংবাদিক হিসেবে নাম কামাব, বিখ্যাত হব, দেশ বিদেশে সবাই এক নামে জানবে, অনেক বেশি উপার্জন করব, এটাই স্বাভাবিক ভাবে সবার চাওয়া। এমন কোন ইচ্ছাই আমার নাই। তাহলে কেন আমি সাংবাদিকতা করতে চাই। আমি কি তাহলে আমার অভিভাবক চাই বলেই সাংবাদিকতা করতে চাই। না, স্বপ্নদ্রষ্টারা (শিক্ষক, অভিভাবক, বড়ভাই) আমাকে বলেছে বলে আমি এসেছি তবে এটাই একমাত্র কারণ নয়। তারা আমাকে শুধুমাত্র আমার ভিতরের সুপ্ত প্রতিভার কথা সময় মত জানান দিয়েছে। তোমার এটা করা উচিত, অভিভাবকদের এটাই চাওয়া।

তাহলে কি আমি না বুঝেই সাংবাদিকতা করতে চেয়েছি, না মোটেই না। এত চাওয়া পাওয়ার ভিড়ে আমি অন্য কিছুই চাই। শিখতে চাই, সাংবাদিকতা করতে হলে সব বিষয়ে জানতে হয়। নাহলে সংবাদ সঠিক, সহজ সরল ভাবে উপস্থাপন করা যায় না। কোথায় কি হল, কেন ঘটল, কখন ঘটল, কে করল, কার বিরুদ্ধে করল, এর সবকিছুকে যখন এককথায় বলতে হবে কিভাবে ঘটনা ঘটল? তখন সমস্ত কিছু না জেনে কোন ঘটনা সঠিক ভাবে বর্ণনা করা যায় না। এবং সূক্ষ্ম ভাবে বিশ্লেষণও করা যায় না। এই জন্য ঘটনা সম্পর্কিত সব বিষয়ে জানতে হয়। তবেই সঠিক ভাবে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে ঘটনা সম্পর্কিত সংবাদটি উপস্থাপন যোগ্য হয়। তখন সাংবাদিকের জ্ঞানের শাখা সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, পদার্থ, রসায়ন এর মধ্যই সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না। এত কিছু জানার পরে সংবাদ পরিবেশন করতে হয়। আমিও আমার জ্ঞানের পরিধি অনেক অনেক বিস্তৃত করতে চায়। তাহলে অন্য কিছু কেন নয়, সাংবাদিকতা কেন। যেকোনো পেশা থেকে নিজের ইচ্ছায় অনেক কিছুই শেখা যেতে পারে নিজে নিজে। কিন্তু সাংবাদিকতা হাতে কলমে শেখায়, এখানে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে নিয়ে রিপোর্ট করতে হয়, যেমনঃ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী। এজন্য আগে তাদের কে ভালভাবে স্টাডি করতে হয়।

সত্যিই একটা মজার ব্যাপার। ঘটনা সম্পূর্ণ নিজের মত বিশ্লেষণ করতে জানতে হয় অনেক কিছু যেমন অপরাধবিজ্ঞান,তেমনিভাবে ধারনা রাখতে হয় ডাক্তারি, রাজনীতি, পদার্থ, রসায়ন ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কিত খুঁটিনাটি জ্ঞান।

এজন্য আমি মনে করি সাংবাদিকতা করতে হলে বিদ্যার জাহাজ হতে হয়। আমি আমার অল্প বিদ্যা নিয়ে জাহাজ হতেও চাইনা। আর এটাও জানি আমি অতটা মেধাবীও না।

আমি শুধুমাত্র আমার মেধা যাচাই করতে চাই এই বিদ্যার সাগরে। এবং সর্বদা চেষ্টা করব জাতীয় ও বৈশ্বিক জীবনব্যবস্থায় সত্য মিথ্যার দ্বন্দে, সত্যকে আঞ্জাম দেওয়ার।-লেখকঃশিক্ষার্থী, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।