তারেকের বিষয়ে ইসির কিছু করার নেই

2

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়। আর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনাটি ফৌজাদারি অপরাধ।

এ ধরনের অপরাধ তদন্তের এখতিয়ার পুলিশের। দুটি ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশনের করার কিছু নেই।
গতকাল সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ কমিশনের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ ও তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্সের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে পৃথক দাবি জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান হেলালুদ্দীন।

গত রবিবার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দিয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ায় বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিতভাবে এই অভিযোগ জানান। তখন ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশবাসী দেখেছে বাংলাদেশের একজন পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান বিএনপির যাঁরা প্রার্থী, তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন স্কাইপ বা অন্য কোনো মাধ্যমে টেলিকনফারেন্স করে। এটা বাংলাদেশের নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের দুই মাস আগের একটি নির্দেশনা রয়েছে যে তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য কোনো জায়গায় প্রচার করা যাবে না। সুতরাং এটা আমাদের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আদালত অবমাননার শামিল। ’
এ ব্যাপারে হেলালুদ্দীন বলেন, ‘তারেক রহমানকে নিয়ে আওয়ামী লীগ যে অভিযোগ করেছে, ইসির বৈঠকে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তারেক রহমান যেহেতু অনলাইনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন এবং তিনি দেশে নেই, তাই আচরণবিধিমালা উনার জন্য প্রযোজ্য হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। এ মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে ইসির কিছু করণীয় নেই। তবে উনার বক্তব্য প্রচারের বিষয়ে উচ্চ আদালতের যে নির্দেশনা আছে, তা সবার মানা দরকার। ’

এর আগে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময় পুলিশের সঙ্গে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে পুলিশের প্রতিবেদন চেয়েছিল। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণকে ঘিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক ইসিতে অডিও ভিডিওসহ প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ইসি দেখেছে, সেখানে ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওই ঘটনার তদন্ত চলতে কোনো বাধা থাকবে না। এ তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে, যাদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই, তাদের হয়রানি করা না হয় পুলিশকে সেই নির্দেশনা দিতে বলেছে কমিশন।

অন্যদিকে গত রবিবার বিএনপি দলের নেতাকর্মীদের মামলার একটি তালিকা দিয়ে মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার বন্ধে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়েছিল। গতকাল কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে ইসি সাংবাদিকদের বলেন, ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার আগে যেসব মামলা হয়েছে, সেই বিষয়ে ইসি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। আর তফসিলের পর যেসব মামলা হয়েছে, বিএনপির তালিকা পরীক্ষা করে ইসি দেখেছে, সেখানে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

গতকাল আরেকটি চিঠিতে দলের মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ও প্রত্যাহার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে হেলালুদ্দীন বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ এবং ১৬ অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে বলা আছে।-কালেরকন্ঠ