ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য দীর্ঘমেয়াদী নয় : নাইমুল ইসলাম খান

1

মো: মারুফুল আলম: ‘আমাদের নতুন সময়’ এর সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অনেক দীর্ঘমেয়াদী কোন আকাঙ্খা থেকে ঐক্য করেছে তা নয়, এটা সম্ভবও না। তারা বেশিদিন কাছাকাছি থাকতে পারারও কথা না। রোববার ডিবিসি নিউজ এর টকশো’তে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, তাদের ঐক্য নির্বাচনের পরবর্তী অন্তত একটি টার্ম। আগামি পাঁচ বছরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গণতান্ত্রিক উন্নয়নে হয়তো কিছু এ্যাচিভ করতে চায়। হয়তো দৃঢভাবে আশা করেন যে, বিজয়ী হয়ে তারা ঐসব পরিবর্তনগুলো আনবেন। যদি ক্ষমতায় না যেতে পারেন, তারা তখন কৌশল বদলাবেন। হয়তো শেখ হাসিনার সঙ্গে কো-অপারেট করে বলবেন, ‘এবার পারলাম না, আগামিবার যেন সম্মিলিতভাবে গণতান্ত্রিক উন্নয়ন করতে পারি’। এটি আমার ব্যক্তিগত ধারণা। ধারণা করাই যায়, সত্যি হবে এমন কথা নেই।

নাইমুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী হলেও এই ঐক্য সর্বোচ্চ এক বছর টিকবে। দেখা যাবে, হয়তো ড. কামাল হোসেন লিড এ থাকবেন না। বিজয়ীদের মধ্যে যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ট বিএনপি, তাই বিএনপির হাতেই মূল নেতৃত্ব চলে যাবে। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট যদি বিজয়ী না হয়, সেক্ষেত্রে হয়তো পাঁচ বছর ঐক্য টিকে থাকবে। বিএনপির মধ্যে যে অস্থিরতা আছে, সে অস্থিরতা ড. কামাল হোসনদের প্রজ্ঞামূলক কথাবার্তায় বেশিদিন শান্ত রাখা সহজ হবে না। বিএনপির নেতৃত্ব মানা বা স্থায়ীভাবে তাদের নেতৃত্ব মানা এক কথা না। তাছাড়া তারা বিজয়ী হলে এবং তারেক রহমান দেশে আসলে বা খালেদা জিয়াও মুক্ত হয়ে আসলে ক্যামিস্ট্রিটাই চেঞ্জ হয়ে যাবে।

শুক্রবার মতবিনিময় সভায় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরকে সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খানের করা প্রশ্ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাইমুল ইসলাম খান বলেন, ‘নূন্যতম কিছু বিষয়ে আমাদের এক থাকা দরকার’ ড. কামাল হোসেনের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই আমি জানতে চেয়েছিলাম, সিদ্ধান্তটি তাদের মিলিত-সিদ্ধান্ত কি না। অর্থাৎ ঐক্যফ্রন্ট জয়ী হোক বা পরাজিত হোক পরবর্তী পিরিয়ডে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী আসবে, বঙ্গবন্ধুর শতজন্মবার্ষিকী আসবে এসব বিষয়গুলো ঐ ‘নূন্যতম কিছু বিষয়ে এক থাকার’ মধ্যে পড়ে কি না? সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় সকল ধর্মীয়গ্রন্থ পাঠ করা হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রশান্তিমূলক আলোচনা হয়েছে এবং একইভাবে ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট নিয়েও তাদের কোনো ঐক্যবদ্ধ চিন্তা আছে কি না?

নাইমুল ইসলাম খান বলেন, আমার মনে হয়, বাংলাদেশে নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি বডি ল্যাংগুয়েজ স্পষ্ট হয়েছে যে, বিএনপি নির্বাচন করতে এসেছে। আমরা যদিও বলি, তাদের নেতারা নানাসময় নানা কথা বলে থাকেন, তাদের এসব কথা কিন্তু কৌশলগত। তারা নির্বাচন করবেন এই ডিসিশন গতকাল গতপরশু বা গত মাসে নিয়েছে তা নয়, তারা এই সিদ্ধান্ত বেশ কয়েকমাস আগেই নিয়েছেন।

নাইমুল ইসলাম খান আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিগোশিয়েবল কোন বিষয় না; খামখেয়ালী বিষয়ও না। একটি দেশ রক্তক্ষয়ী ২৪ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এটি একটি জাতিগত ডিসিশন যে, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার কোন সুযোগ থাকার কথা না। নির্বাচন সংক্রান্ত নয়, জাতি হিসেবে নূন্যতম এক জায়গায় না থাকলে আমরা এক দেশে এক জাতি হয়ে থাকবো কিভাবে?।-আমাদের সময়.কম