আন্তর্জাতিভাবে স্বীকৃত দেশের অসাধারন অর্থনৈতিক অগ্রগতি–পরিকল্পনামন্ত্রী

1

যুগবার্তা ডেস্কঃ শিক্ষক কৃষক মিডিয়া মজুর কুলী শ্রমিক আপামর জনতা সকল শ্রেনীর মানুষের জন্য আমাদের দেশের অর্থনীতি অসাধরন গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০১-০৬ সময়কালে আমাদের জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ছিল গড়ে ৫.৪০ শতাংশ। গত দশ বছর গড়ে ৬.৭১ শতাংশ হারে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এখন প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬ শতাংশ। স্বাধীনতার পর অর্থনীতির আকার ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে ৩৮ বছর লেগেছে। আর মাত্র সাত বছরে তা দ্বিগুণ হয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এখন তা ২৭৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ জিডিপি’র ৫.৬ শতাংশ থেকে ৮.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ২০০৫-০৬ এর ৯৯ হাজার ২৭১ কোটি টাকা হতে প্রায় চার গুণ বেড়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার ৭৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ছিল ৭৪৪ মিলিয়ন ডলার যা তিন গুণ বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১,৭৫১ মার্কিন ডলারে। মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আজ কুমিল্লার লালমাইয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, চার দলীয় জোট সরকারের শেষবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.১৭ শতাংশ এবং ১/১১-এর সরকারের সময় ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে ১২.৩ শতাংশ। গত তিন বছর সাত শতাংশের ওপর জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি ৬.০ শতাংশের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালের ৪০.০ শতাংশ থেকে ২২.০ শতাংশে এবং আর অতি-দারিদ্র্যের হার ২৫.১ শতাংশ থেকে ১১.৩ শতাংশে নেমে এসেছে । ১৯৯২ সালের পর হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট যত লোক দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে তার প্রায় ৫০ শতাংশই ঘটেছে বর্তমান সরকারের সময়কালে। ২০০১-০৬ সময়কালের তুলনায় ২০০৯-১৭ সময়কালে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বাজেট বরাদ্দ এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৬৬.৫ বছর থেকে বেড়ে হয়েছে ৭২.০ বছর। একই সময়ে শিশু মৃত্যুহার প্রতি হাজার জীবিত জন্মে ২০০৬ সালে ছিল ৪৫ জন, যা এখন ২৮ জনে নেমে এসেছে। ২০০৫-০৬ অর্থ বছরের বাজেটের আকার ছিল ৬৪ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সাত গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লক্ষ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি বরাদ্দ এবং ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় চার গুণ। বা¯Íবায়নাধীন প্রকল্পের সংখ্যাও এই সময়ে প্রায় ৪২% বৃদ্ধি পেয়েছে। গড়ে এ সময় প্রতিবছর প্রায় ৯৩% এডিপি ব্যয়িত হয়েছে। রাজস্ব-জিডিপি’র অনুপাত ৯.১ শতাংশ থেকে ১০.৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় থেকে। অর্থাৎ, ২০০৮-০৯ অর্থ বছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থ বছর পর্যন্ত নয় বছরে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে রপ্তানী আয়ের পরিমাণ ছিল ১০.৫ বিলিয়ন ডলার। দশ বছরে রপ্তানী আয়ের পরিমাণ চার গুণ বৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সেবা খাতসহ মোট রপ্তানী আয় ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪.৯৮ বিলিয়ন ডলার যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ছিল ৪.৮০ বিলিয়ন ডলার। ২০০৫-০৬ অর্থবছর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার যা এখন দশ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩২.৫ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রায় সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে চার গুণ।