ঢাকা-৭ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুন নেতা জেমস

282

অন্তু আহমেদঃ একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। ঢাকা-৭ (কোতয়ালী, বংশাল,চকবাজার, লালবাগ) আসনও এর ব্যতিক্রম নয়। বিভিন্ন দলের বিভিন্ন প্রার্থীরা সরব উপস্থিতি নিয়ে তা জানান দিচ্ছেন। এই আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচারণা শুরু করে আলোচনায় এসেছেন তরুণ মুখ মাহমুদুল হক জেমস। অল্প বয়সে দলের মনোনয়ন চেয়ে চমক সৃষ্টি করা সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী।বয়সে খুবই তরুণ এই ছাত্রনেতার মনোনয়ন চাওয়ার ঘটনায় চমক সৃষ্টি হয়েছে।

ইতোমধ্যে তিনি প্রচার-প্রচারণা, পথসভা, ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো শুরু করেছেন।ভোটারদের কাছে উপস্থিত হয়ে কুশলাদি বিনিময় ও তার কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

এ প্রসঙ্গে মাহমুদুল হক জেমস বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশসহ ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে নিজেকে সামনের কাতারে রাখার তাগিদেই আমি এবার মনোনয়ন চাইছি । আমি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি এবং শেখ হাসিনার উপড় আমার অগাধ বিশ্বাস। সুখে-দুঃখে সব সময় নেতা-কর্মীদের পাশেই ছিলাম।বরাবরের মত জনগণের পাশে থাকতে চাই । আমি বিশ্বাস করি, দেশরত্ন শেখ হাসিনা সৎ, শিক্ষিত, তরুণ ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবেন।তবে আমি মনোনয়ন না পেলেও দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক, তার পক্ষেই কাজ করব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মাহুমুদুল হক জেমসের ব্যাপারে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তার পাশেই আছেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, ক্যান্টিন-চায়ের দোকান গুলোতে জেমসকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আলোচনায় তার বয়স নিয়েই বেশি কথা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জেমস বলেন, ‘লক্ষ্য ঠিক রাখলে বয়স কোনো ব্যাপার না । তাছাড়া, তরুণরাই পারে বিশ্বকে বদলে দিতে। ফ্রান্স, কানাডার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দেখিয়ে দিয়েছেন তারুণ্যের উপর আস্থা রাখা যায়। আমাদের দেশেই জোনায়েদ আহমেদ পলক তারুণ্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এমনকি জাতির পিতা শেখ মুজিব যুক্তফ্রন্ট সরকারের সর্ব কনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন । ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় দেখিয়ে দিয়েছেন, বয়স কোনো ব্যাপার না। উনারা আমার অনুপ্রেরণা ‘ রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা ও অংশগ্রহণের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘নিকট অতীতেই শাহবাগ আন্দোলন তারুণ্যের শক্তি দেখিয়ে দিয়েছে। ৪৭ বছর আগের কলঙ্ক মুছে দিয়েছে তরুণেরা। এখন এই তরুণদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে এবং তাদের সুযোগ দিতে হবে। কেননা, দেশরত্ন শেখ হাসিনা
যুদ্ধাপরাধের বিচার করেছেন, নির্বাচন কমিশন সাম্প্রদায়িক শক্তি ও যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছেন। এই জাতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রধান শত্রু এই সাম্প্রদায়িক শক্তি জামায়াত। নিষিদ্ধ হওয়ায় জামায়াত নতুন পলিসি হাতে নেয়া শুরু করেছে। পুরাতন নেতাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণদের তারা সামনে নিয়ে আসছে। তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির এখনও নির্মূল হয়নি। শক্তি দিয়ে তাদের নির্মূল করা যাবে না। তরুণরাই পারবে তাদের রুখতে। তরুণরাই তাদের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।’

মনোনয়ন পেলে লক্ষ্য কী? এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জেমস বলেন, ‘মনোনয়ন পেলে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সরকারের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেব। মাদার অফ হিউমিনিটি শেখ হাসিনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরবো। জনগণের দোয়া ও শেখ হাসিনার সমর্থনে যদি আশানুরুপ সাড়া পাই কথা দিচ্ছি, জনগণকে আমাকে খুঁজতে হবে না । আমিই জনগণের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবো। সাংসদ নয়, জনগণের সেবক হিসেবেই কাজ করবো। আর এসব যদি নাও হয়, তবুও জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবো।’

ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকা নিয়ে তার লক্ষ্যের কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘পুরান ঢাকা রাজধানীর একটা জীবন্ত ইতিহাস। এখানে নানান রকমের মানুষের বসবাস। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এখানে রাস্তা ঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ততটা উন্নত নয়। পাশাপাশি যানজটটাও ভয়াবহ। পুরান ঢাকার সমস্যাগুলো পঞ্চায়েতের ঐতিহ্যের মাধ্যমেই সমাধান করার চেষ্টা করবো।’

জেমস বলেন, ‘আমার মনে হয় দিনের বেলা ট্রাক ও ঠেলা গাড়ি বন্ধ করলেই যানজট অর্ধেক দূর হবে। রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক নতুন প্ল্যান করতে হবে। সি্টি কর্পোরেশনের কাজ হলেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে সকলেরই দায়িত্ত্ব আছে এক সাথে কাজ করার। আরেকটা সমস্যা হচ্ছে, বেড়িবাঁধের সঠিক ব্যবহার না করা। আমার বিশ্বাস বেড়িবাঁধ থেকে অবৈধ উচ্ছেদ ও ট্রাক স্ট্যান্ড সরানো গেলে পুরান ঢাকার মূল সড়কের উপড় চাপ কমবে পঞ্চাশ ভাগ।’

মাহমুদুল হক জেমস জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই আওয়ামী লীগের ইশতেহারের সাথে সমন্বয় করে
ঢাকা-৭ আসনের জন্য নিজের কর্ম পরিকল্পনা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেবেন।