দম্ভ নিয়েই মার্কিন অবরোধ এড়াবে ইরান : রুহানি

1

নের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, তাঁর দেশ এখন অর্থনৈতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আছে এবং দম্ভের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা এড়াবে। গতকাল সোমবার থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার দিনে রুহানি এই ঘোষণা দিলেন। এর আগের দিন রবিবার মার্কিন পরাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের তেল বিক্রিকে শূন্যে নামিয়ে আনার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।

ইরান নিয়ম মেনেই পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করছে—আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার এই পর্যবেক্ষণের পরও কর্মসূচি বন্ধ করার দাবি জানিয়ে গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ছয় জাতির পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে আসে। এরপর ইরানের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন ফের অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে, যা ওয়াশিংটনের ভাষায় এ যাবৎকালের সবচেয়ে কঠিন নিষেধাজ্ঞা। এতে তেল রপ্তানি, জাহাজ, ব্যাংকসহ বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা গতকাল থেকে কার্যকর করা হয়।

তবে চুক্তিভুক্ত বাকি পাঁচ দেশের চীন ও রাশিয়া ইরানের তেল ক্রয় করবে এবং যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স ইরানের সঙ্গে বিকল্প পদ্ধতিতে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ইইউ জানিয়েছে, তারা বিকল্প লেনদেন পদ্ধতি অথবা স্পেশাল পারপাস ভেহিকল (এসপিভি) ব্যবহার করে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাবে। এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা থেকে আটটি দেশকে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা কাজে লাগাতে পারে তেহরান। হোয়াইট হাউস এই আটটি দেশের নাম প্রকাশ করেনি।

তবে সাতটি দেশের নাম জানা গেছে। সেগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ইতালি, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও চীন।

গতকাল এক টেলিভিশন ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি ঘোষণা করছি যে আমরা দম্ভের সঙ্গে আপনার অবৈধ, অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা বাইপাস করব। কারণ এটা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের বিরুদ্ধে। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখন অর্থনৈতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আছি, কলহপ্রিয় শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছি। আমি মনে করি না যে আমেরিকার ইতিহাসে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির এত বিরোধী কোনো ব্যক্তি হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেছে। ’

যুক্তরাষ্ট্র গত মে মাসে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ ও বড় বড় ব্যাংককে টার্গেট করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। এর প্রভাব ইরানের তেল রপ্তানিতে পড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে ইরান দৈনিক কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ গত রবিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের তেল বিক্রি শূন্যে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘দেখুন আমরা কী করছি। দেখুন, আমরা এরই মধ্যে অতীতের যেকোনো সময়ের বেশি ক্রুড অয়েল মার্কেট থেকে সরিয়ে নিয়েছি। ’ তিনি বলেছেন, এমনকি যে কম্পানি ইউরোপের এসপিভি ব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই অবস্থায় হাসান রুহানি বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) নিয়মিতভাবে আমাদের সঙ্গে বসার জন্য বার্তা পাঠাচ্ছে। কিন্তু কিসের জন্য আলোচনা?’ তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় চারটি দেশ মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা (মধ্যস্থতাকারীদের) বলে দিয়েছি, আগে আপনারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, তারপর মধ্যস্থতা করুন। ’-কালেরকন্ঠ