রাজনৈতিক অগ্রগতির পথেই সব পক্ষ

0

সংলাপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ইতিবাচক অগ্রগতির পথে এগোচ্ছে সরকারসহ সব পক্ষ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকা বিএনপি ও তাদের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো দ্বিতীয় দফা সংলাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বরাবর ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠায় গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে।

পরে রাতে গণভবনে ১৪ দলের সভা শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী বুধবার সকাল ১১টায় ছোট আকারে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ হবে। ’
এছাড়াও ঐক্যফ্রন্টের চিঠির প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ একটু পেছানো এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আলোচনায় সরকারের আনুষ্ঠানিক অনাপত্তির কথা জানানো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সুবাতাসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর এসবের মধ্য দিয়েই গত পাঁচ বছরের রাজনৈতিক টানাপড়েনের রেশ ক্রমে দুর্বল হতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের টানে সব পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে চেষ্টা করছে পরস্পরের কাছাকাছি যাওয়ার।

সরকারের প্রতিপক্ষ দলগুলো ৫ জানুয়ারির পুনরাবৃত্তি রোধ করে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন ও সংলাপ করছে। এর অংশ হিসেবে সরকারের সঙ্গে সংলাপ ফলপ্রসূ করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পেছানোর জন্য গত শনিবার নির্বাচন কমিশনে যে চিঠি দেয়, তাতে কমিশন ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন অনুমিত তারিখের চেয়ে একটু পিছিয়েছে। গতকাল নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—আগামী ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ৮ নভেম্বরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষ করতে চায় সরকার।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার ১ নম্বর দাবি খালেদা জিয়ার প্যারলে মুক্তির বিষয়েও সরকারের অবস্থান ইতিবাচক বলে ক্ষমতাসীনরা স্পষ্ট করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। এ বিষয়ে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

সরকারের সঙ্গে সংলাপকে অর্থবহ ও ফলপ্রসূ করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা প্রায় প্রতিদিনই বৈঠক করছেন। দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানোর পর গতকাল বিকেলে আবার তাঁরা বৈঠকে বসেন। সেখানে বিএনপির মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকতউল্লা বুলু, মনিরুল হক চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি দলও বসে নেই। আওয়ামী লীগ গতকাল তাদের আদর্শিক মিত্র ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে সংলাপ করেছে। সেখানে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচন ও দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে জানা গেছে। এ জন্য তিনি শরিকদের সহযোগিতা চান।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান গতকাল বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন দ্বিতীয় দফায় সরকারের সঙ্গে বসতে চেয়েছেন; এর অর্থ সংলাপের সমাপ্তি ঘটেনি। নির্বাচন কমিশনও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ ৮ নভেম্বর করেছে। সব কিছু দেখে মনে হয়, আমরা নিরাশ নাও হতে পারি।-কালেরকন্ঠ