দুই দাবি না মানলে নির্বাচনে যাবে না বিএনপির শরিকরা

2

অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ৭ দফায় ছাড় না দিতে বিএনপিকে পরামর্শ দিয়েছে ২০ দলীয় জোটের শরিকরা। তাদের বক্তব্য, বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া, শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ বহাল রেখে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যাবে না। সংলাপে এ সব বিষয়ে অনড় থাকার কথা দৃঢ়ভাবে বলেন জোট নেতারা। গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে শরীক দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার মহানগর নাট্য মঞ্চে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত গণঅনশনে অংশগ্রহণ করবে ২০ দলীয় জোট নেতারা।

প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে আজকের সংলাপ নিয়ে মুলত: আলোচনা হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোটের শরীকদের সংলাপের বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ২০ দলীয় জোট যেখানে আছে, সেখানেই থাকবে। তাদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক আগের থেকেও দৃঢ় হয়েছে। যা আগামীতেও থাকবে। কখনো কাউকে অবমূল্যায়ন করা হবে না।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, বৈঠকে সরকারের সংলাপের উদ্যোগকে ২০ দলীয় জোট স্বাগত জানিয়েছে। ২০ দল আশা করে যে, দেশের যে চলমান সংকট চলছে, তা এই সংলাপের মাধ্যমে একটা সুষ্ঠু ফলাফল বয়ে আনবে। বিএনপিকে ৭ দফার আলোকে সংলাপ করার পরামর্শ দিয়েছে ২০ দলীয় জোটের শরিকরা।

ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমদ মনি বলেন, আমরা ২০ দলের শরিকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, জোট প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোন নির্বাচন হবে না। শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল রেখে এবং সংসদ না ভেঙ্গে তা বহাল রেখে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না। তিনি বলেন, আমরা সংলাপকে স্বাগত জানিয়েছি।সংলাপের সাফল্য কামনা করেছি। তবে সংলাপে সাত দফা নিয়ে আলোচনা করার জন্য বিএনপির প্রতি আহবান জানিয়েছি।

জামায়াতের প্রতিনিধি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, আমরা বিএনপির ওপর আস্থাশীল। বর্তমান দুঃশাসন থেকে মুক্তির জন্য তাদের এক দফা দাবি আদায়ে যা যা করার দরকার তাতে তার দলের সম্মতি রয়েছে। আমরা ঐক্যফ্রন্টে যেতে চাই না। আমরা তাদের সফলতা কামনা করি। ২০ দল থেকে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টে প্রতিনিধিত্ব করছে।তাদের সিদ্ধান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, এ ধরনের সংলাপে ২০ দলীয় জোটের শরীক শীর্ষ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করলে ভালো হতো। তবে এটা নিয়ে আমাদের কারো মনে আপসোস নেই। নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সাত দফা দাবির একটি থেকেও বিএনপি যেন পিছু না হটে।

বৈঠকে গণস্বাস্থ্য বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করায় নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াত ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মো. ইসহাক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, মুফতি ওয়াক্কাস, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধাণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমদ মনি, জাতীয় পার্টি (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী প্রমুখ।-ইত্তেফাক