অবশেষে ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল বাতিল

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবার ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নিতে রাজি হয়েছে। তবে আগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই এ পরীক্ষা দিতে পারবে।

গতকাল মঙ্গলবার ডিনস কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দাবি আদায়ে গতকালও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। পরীক্ষা নেওয়া ও পরীক্ষাপদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ছাত্রলীগ উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। বিক্ষোভ করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এ পরিস্থিতিতে দুপুরে কর্তৃপক্ষ ফের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে আসে। উপাচার্য বলেছেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে ডিনস কমিটির সভা ছিল। সভায় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সেখানে ডিনবৃন্দ উত্তীর্ণ ১৮ হাজার ৪৬৩ জন শিক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেন।

’ পরীক্ষার তারিখের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার সমন্বয়কারী ও যুগ্ম সমন্বয়কারী ডিনরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে। ’
‘ঘ’ ইউনিটে ৯৫ হাজার ৩৪১ জন আবেদন করলেও পরীক্ষা দেয় ৭০ হাজার ৪৪০ জন। এর মধ্যে ন্যূনতম ৪৮ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তির যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। এই বিবেচনায় ভর্তির যোগ্য হচ্ছে ১৮ হাজার ৪৬৪ জন তথা ২৬.২১ শতাংশ শিক্ষার্থী। শুধু তারাই ফের পরীক্ষা দিতে পারবে। এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। তবে নজিরবিহীনভাবে এই প্রথম কর্তৃপক্ষ নতুন করে পরীক্ষা নিতে রাজি হলো।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ পরীক্ষায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম মূল সমন্বয়কারী এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইমদাদুল হক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে থাকবেন। আজ এক সভায় তারিখ ঠিক হতে পারে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয় ১২ অক্টোবর। তবে পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। ফল প্রকাশের পর একজন পরীক্ষার্থীর অস্বাভাবিক নম্বর সন্দেহকে ঘনীভূত করে।

প্রশাসন প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি অস্বীকার করলেও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক এবং তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে। এরই মধ্যে কর্তৃপক্ষ ফল প্রকাশ করে দিলে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফলে অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। এর পরেই বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে আমরণ অনশনে বসেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আখতার হোসেন। এ অবস্থায় প্রাথমিক তদন্ত কমিটির সুপারিশে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার মূল সত্য উদ্ঘাটনে পাঁচ সদস্যের ‘নিবিড় তদন্ত কমিটি’ গঠন করে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল উপাচার্য বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা পরীক্ষাপদ্ধতির সংস্কারসহ চার দাবি জানিয়েছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন থেকে একটি মৌন মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। এতে সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয়।

এ ছাড়া পুনরায় পরীক্ষা নেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সেখানে পরীক্ষা বাতিল না করলে প্রতিটি বিভাগে তালা ঝোলানোর হুমকি দেয় তারা। এদিকে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে দাবি জানায়, বাতিলকৃত পরীক্ষার কমিটি দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া চলবে না।-কালেরকন্ঠ