বদলেছে ডেঙ্গুর ধরন, বেড়েছে ঝুঁকি

2

অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর রাজধানীসহ দেশের জেলা শহর ও গ্রামে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। ধরনও বদলেছে ডেঙ্গু রোগের। একই রোগী চারবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আগে রোগীর প্রচণ্ড জ্বর, মাথা ও শরীর ব্যথা হতো। তবে এ বছর রোগীর ভিন্ন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। শরীরে জ্বর জ্বর ভাব, সামান্য জ্বরের সাথে হালকা ব্যথা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মানুষজন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। হালকা জ্বর দেখে অনেকে মনে করেন এটি সাধারণ জ্বর, তেমন একটা পাত্তা দেন না- ততোদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। ডেঙ্গু মৃত্যু ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এ ব্যাপারে চিকিত্সকরা বলছেন, এ বছর ডেঙ্গু রোগীর উপসর্গ দেখে বোঝা যায়, ডেঙ্গুর ধরন বদলেছে। একই রোগী চতুর্থবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে আক্রান্তই সর্বাধিক। দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে হেমোরেজিকের সংখ্যা বেশি। এটাতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। এজন্য সামান্য জ্বর হলেই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। কোন ধরনের এ্যাসপিরিন ও এন্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রহণ করা যাবে না। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোন ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ও চিকিত্সক অনুষদের ডিন প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ জানান, এবার ধরন বদলেছে ডেঙ্গুর। রোগী বুঝতে পারছেন না। সামান্য জ্বর দেখা দিলেই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। জ্বর হওয়ার ৪-৫ দিনের মধ্যে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বাসন-কোসন, ঘরের ভিতরে এসি, ফ্রিজের পানি জমাট থাকলে ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা ডিম পারে। এমনকি জমানো স্বচ্ছ পানিতেও মশা বংশ বিস্তার করে। ডেঙ্গু জ্বর থেকে রেহাই পেতে হলে বাসা বাড়িতে জমাট পানি রাখা যাবে না। এজন্য ঘরের ভিতরে-বাইরে কোথাও যেন পানি জমাট বেঁধে না থাকে সেদিকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কমবেশি ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। এ বছর জানুয়ারি থেকে ডেঙ্গু জ্বর শুরু হয়েছে। জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরকে ডেঙ্গু মৌসুম বলা হয়। এ বছর এ চার মাসে ডেঙ্গু জ্বর ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে। রাজধানীর ঘরে ঘরে ডেঙ্গু জ্বরে মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছরে ডেঙ্গু জ্বরের মৃত্যুর হারও বেশি।

ঘনঘন বৃষ্টিপাতে ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা বংশ বিস্তার করে থাকে। শীত আসার আগ পর্যন্ত এই জ্বরের প্রাদুর্ভাব থাকে। শীতকালে এডিস মশা তেমন একটা বংশ বিস্তার করে না। রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা, হাতিরপুল, আজিমপুর কলোনি, পুরাতন ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, বাসাবো, খিলগাঁও, মানিকনগর ও যাত্রাবাড়িতে এর প্রকোপ বেশি।-ইত্তেফাক