দাবি না মেনে প্রশাসনের জোরপূর্বক অনশন ভাঙানোর চেষ্টা ন্যাক্কারজনক

3

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গত ১২ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়সারা অবস্থানের প্রেক্ষিতে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ার দাবিতে আইন অনুষদের সতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আখতার হোসেন ১৬ অক্টোবর মঙ্গলবার আমরণ অনশনে বসেন।

উল্লখ্য যে, এর আগে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদসহ প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনসমূহ উপাচার্য বাসভবন অভিমুখে বিক্ষোব মিছিল করে।
টানা ৪৮ ঘন্টা অনশনের পরও উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পেলে আখতার হোসেন তার অনশন অব্যাহত রাখে। আজ ১৮ অক্টোবর দুপুর একটায় বিশ্ববিদালয়ের প্রক্টর ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের একটি মিছিল নিয়ে আখতার হোসেনের সাথে দেখা করতে আসেন। প্রশাসনের সাথে ক্ষমতাসীনদের এই যোগসাজশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতার অভাব আবারো প্রমাণ করেছে। প্রক্টর এসে অনশন ভাঙানোর জন্য ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করলে এবং সেই প্রচেষ্টায় আখতার হোসেনের হাত ধরে টানাটানি করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্রুত ভর্তি করা হয়। আখতারের এই প্রতিবাদে নীতিবোধ এবং ভ্রাতৃত্বের জায়গা থেকে ছাত্র ইউনিয়ন সমর্থন দিয়ে এসেছে। ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্বাস করে আখতারের অনশন থেমে গেলেও এই প্রতিবাদ থেমে যাবে না, এবং দাবী মেনে না নিয়ে জোর করে এই অনশন ভাঙানোর চেষ্টা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের দাবী এই যে অবিলম্বে ঘ ইউনিটের এই ফাঁসকৃত প্রশ্নের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে, এবং ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডীনকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় আখতারের এই অনশনই প্রমাণ করে যে আন্দোলনের গতিবেগ অচিরেই আরো তীব্র হয়ে উঠবে।