মেড ইন বাংলাদেশ মোবাইল আমাদের জাতীয় গৌরবের বিষয়–টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

19

যুগবার্তা ডেস্কঃ মেড ইন বাংলাদেশ – শ্লোগান নিয়ে আরও একটি মোবাইল ফোন কারখানার যাত্রার সূচনা সাক্ষী হলেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার।

শুক্রবার গাজীপুরের ছয়দানায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশীয় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আল-আমিন ব্রাদার্সের ‘ফাইভ স্টার ব্র্যান্ডের’ মোবাইল কারখানার উদ্বোধন করেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ।

কারখানার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিদ্যমান বাজারে শতকরা সত্তর ভাগ দেশীয় কোম্পানির আয়ত্তে এবং পণ্যগুলো বাংলাদেশ থেকেই উৎপাদিত। এই অর্জন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ফসল। তিনি বলেন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, শিক্ষিত
বেকারত্ব। দেশীয় এসব কোম্পানিসমূহে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতর দক্ষতার সাথে কাজ করছে। গুণগত মানের দেশীয় কারখানায় উৎপাদিত মোবাইল কারখানা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। সর্বোপরি মেড ইন বাংলাদেশ মোবাইল আমাদের জাতীয় গৌরবের বিষয়।

দেশে ডিজিটাল ডিভাইস আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২০১৫ ডিজিটাল টাস্কফোর্স বৈঠকের তার দেওয়া প্রস্তাবের প্রসংগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন,
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল ডিভাইস তৈরি এবং এবং রপ্তানি করতে দৃঢপ্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের ডিজিটাল বান্ধব নীতির ফলে বাংলাদেশ সৌদি আরবে আইওটি পণ্য রপ্তানি করছে। নেপাল ও নাইজেরিয়ায় কম্পিউটার ও ল্যাপটপ রপ্তানি করছে।

মন্ত্রী পণ্যে গুণগত মান বজায় রেখে ডিভাইস উৎপাদনে কঠোর নজর দিতে উদ্যোক্তাদের মনোযোগী হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণে বিটিআরসি কোন ছাড় দিবেনা। যেন তেন পণ্য নয়, গুণগত মানের পণ্যই হবে মেড ইন বাংলাদেশের পণ্য। তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে অতীতে কেবলমাত্র নাঙ্গল- জোয়ালের অগ্রগতি ছাড়া এ ভূখন্ডে তেমন কোন অগ্রগতি পায়নি। ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশ ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবে পৃথিবী ব্যাপী নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর অনেক দেশ অনুসরণ করছে। ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের বাংলাদেশকে নিয়ে গবেষণা করছে। আমাদের শিল্প বিপ্লবের এগিয়ে নেওয়ার মূল মন্ত্রটা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো দূরদৃষ্টি সম্পন্ন প্রজ্ঞাবান নেতৃত্ব এবং মেধাবী তরুণ সমাজ। আমাদের নতুন
প্রজন্মের ছেলে- মেয়েরা ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র পরিচালনায় সক্ষম। বর্তমান সরকারের বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ এবং তরুণ মানবসম্পদের কারণে বিদেশী বিনিয়োগ কারীদের জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিশে^র ৪২ তম অর্থনৈতিক শক্তি। ২০৩০ সালে বিশ্বে অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ২৬তম। বিশ্বে বাংলাদেশের অগ্রগতির অগ্রযাত্রার এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের বিস্ময়।

মন্ত্রী কারখানার বিভিন্ন প্রোডাকশন প্যানেল পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত কর্মীদের নিকট তাদের কাজের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

অনুষ্ঠানে গাজীপুর সিটি মেয়র মো: জাহাঙ্গীর আলম, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো: জহিরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব মনিরুল হক, বিটিআরসি কমিশনার আমিনুল হাসান এবং ফাইভ স্টার কোম্পানির চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ বক্তৃতা করেন।

এর আগে দেশে সর্বপ্রথম মোবাইল ফোন স কারখানা করে ওয়ালটন,স্যামসাং, সিম্ফোনি এবং আইটেল কারখানা করে।