গার্মেন্টস শ্রমিক প্রতীক অনশন কর্মসূচী পালন

3

যুগবার্তা ডেস্কঃ আনুপাতিক হারে মজুরী বৃদ্ধির দাবীতে আজ জাতীয় প্রেসক্লাব এর সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক প্রতীক অনশন কর্মসূচী পালিত হয়। প্রকৃতিক দুর্যোগের কারনে প্রতীক অনশন সংক্ষিপ্ত করে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচীতে সহস্রাধিক গার্মেন্টস শ্রমিক অংশ নেয়। কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সভাপতি জনাব আমিরুল হক আমিন।
কর্মসূচীতে বক্তারা বলেন, তুরস্কে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরী ৫১৭ ডলার, শ্রীলংকায়-১৯৭ ডলার, চীনে -১৬৫ ডলার, ভিয়েতনামে-১১৬ ডলার, পাকিস্তানে -১১৯ ডলার। বাংলাদেশে সরকারী কর্মচারীদের নিম্নতম বেতন ১৭,০০০/- টাকা। সরকারী ক্ষেত্রের শ্রমিকদের নিন্মতম মজুরী ১৫,০০০/- টাকা। বেসরকারী খাতে ট্যানারী শ্রমিকদের ১২,৮০০/- টাকা এবং জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিকদের ১৬,০০০/-টাকা। কিন্তু দেশের সবচাইতে বড় এবং লাভজনক শিল্প গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরী ঘোষনা করা হয়েছে মাত্র ৮,০০০/- টাকা। এটা অত্যন্ত অপ্রতুল এবং অগ্রহণযোগ্য। তাই অবিলম্বে ঘোষিত এ মজুরী পুনঃবিবেচনা এবং বৃদ্ধি করা দরকার।

বক্তারা বলেন, গার্মেন্টস মালিকেরা সুকৌশলে প্রধানমন্ত্রীর দোহাই দিয়ে ৮,০০০/-টাকা মজুরী ঘোষনা করে অত্যন্ত চতুরতার সাথে সূকৌশলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবসরকালীন বেনিফিট, টার্মিনেশন বেনিফিট, ডিসমিসাল বেনিফিট, রেজিগনেশন বেনিফিট, ক্ষতিপুরণ, ঈদ বোনাস, ওভারটাইম ভাতা সবকিছুতেই ঠকানো এবং কমানোর ব্যবস্থা করেছেন। উল্লখিত সবগুলোই নির্ধারিত হয় মুল বেতন বা বেসিক এর ভিত্তিতে। তাই ১৯৯৪, ২০০৬, ২০১০ সালে যেখানে মুল মজুরী বা বেসিক ছিলো ৬৫%, সেখানে ২০১৮ সালে মুল মজুরী বা বেসিক ধরা হয়েছে ৪,১০০/- টাকা বা মাত্র ৫১%। ফলে একজন গার্মেন্টস শ্রমিক আগে ১ঘন্টা ওভারটাইম করে সাধারণ মজুরীর চাইতে যেখানে (৬৫% * ২ = ১৩০%) ৩০% বেশী মজুরী পেতো, এখন সেখানে বেশী পাবে (৫১% *২ = ১০২%) মাত্র ২% । তাই মূল মজুরী (বেসিক) ৫১% নয় –৭০% করা দরকার।
বক্তারা মালিকদের চাতুরীপনার আরো একটি দিক উল্লেখ করে বলেন, নিম্নতম অর্থাৎ হেলপার অর্থাৎ ৭নং গ্রেড এর শ্রমিকদের (যারা কারখানার মাত্র ৩% থেকে ৫%) ৮,০০০/-টাকা মজুরী ঘোষনা করলেও ৯৫% থেকে ৯৭% শ্রমিকদেরকে কৌশলে ঠকানোর বন্দবস্ত করেছেন। ১৯৯৪ সালে * ৭ নং গ্রেড থেকে ৬নং গ্রেড মজুরী বৃদ্ধির হার ছিলো ৪১% * ৬নং থেকে ৫নং ১৫% * ৫নং থেকে ৪নং ১৮% * ৪নং থেকে ৩নং ২৩% * ৩নং থেকে ২নং ৬২% এবং * ২নং থেকে ১নং এ বৃদ্ধির হার ছিলো ৩৮%।কিন্তু এ বছর ২০১৮ সালে * ৭ নং গ্রেড থেকে ৬নং গ্রেড মজুরী বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে মাত্র ৫% * ৬নং থেকে ৫নং এ মাত্র ৫% * ৫নং থেকে ৪নং এ মাত্র ৪% * ৪নং থেকে ৩নং এ মাত্র ৪% * ৩নং থেকে ২নং এ ৫৩% এবং ২নং থেকে ১নংএ বৃদ্ধির হার
ধরা হয়েছে মাত্র ২০%। অর্থাৎ শ্রমিকদের চাপ, সামাজিক এবং আন্তর্জাতিক চাপ এবং প্রধানমন্ত্রীর চাপে মালিকেরা ৩ থেকে ৫% শ্রমিক অর্থাৎ হেলপারদের মজুরী ৫,৩০০/-টাকা থেকে ৮,০০০/- টাকা করলেও, সুকৌশলে ৯৫ থেকে ৯৭% শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধি করেছে নাম মাত্র— যা কোন ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়। তাই নাম মাত্র নয় — যুক্তিসঙ্গত এবং আনুপাতিক হারে ৬ থেকে ১নং গ্রেড এর শ্রমিকদের মজুরীও বৃদ্ধি করতে হবে।বক্তারা গত মজুরী বোর্ডের ন্যায় শ্রমিকদের বাৎসরিক মজুরী বৃদ্ধি ৫% না করে দ্রব্যমুল্য, বাসা ভাড়া, মুদ্রাস্ফীতি ইত্যাদির কথা বিবেচনা করে ১০% হারে বাৎসরিক মজুরী বৃদ্ধির দাবী জানান।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির অজুহাত দিয়ে গার্মেন্টস মালিকেরা ইতিমধ্যেই সরকারের কাছ থেকে উৎসে কর কমিয়ে নিয়েছেন। অন্যান্য কর, ভ্যাট ইত্যাদিও কমানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি রপ্তানির বিপরীতে সরকার কর্তৃক দেয়া নগদ সহায়তাও বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে গার্মেন্টস শ্রমিকদের যুক্তিসঙ্গত মজুরী বৃদ্ধি না করে নানা রকম কলাকৌশলে তাদেরকে বঞ্চিত এবং ঠকানোর চেষ্টা করছেন।
কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন : ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা মিসেস আরিফা আক্তার, মিস্ সাফিয়া পারভীন, মোঃ ফারুক খান, রফিকুল ইসলাম রফিক, মোঃ ফরিদুল ইসলাম, মোঃ কবির হোসেন, নাসিমা আক্তার, ইসরাত জাহান ইলা এবং হুমায়ুন কবির।
সংহতি জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি স্কপ নেতা জনাব শহিদুল্লা চৌধুরী, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম এর সদস্য সচিব জনাব সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ, ইন্ডাষ্ট্রিল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব জনাব সালাউদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সভাপতি যুব নেতা জনাব সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি জনাব এম দেলোয়ার হোসেন,বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় নেতা ইয়াতুন নেছা রুমা,একতা
গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব কামরুল হাসান।