বাম ঐক্য ফ্রন্ট এর আত্মপ্রকাশ

115

যুগবার্তা ডেস্কঃ বিপ্লবী তত্ত্ববাবধায়ক বা অন্তবর্তীকালীন বিপ্লবী সরকারের দাবিতে বাম ঐক্য ফ্রন্ট নামে নতুন একটি বামজোট গঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ, গণমুক্তি ইউনিয়ন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টি ও কমিউনিস্ট ইউনিয়ন এক হয়ে “বাম ঐক্য ফ্রন্ট” নামে এই জোট ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণমুক্তি ইউনিয়নের আহবায়ক ও ফ্রন্টের সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন আহমেদ নাসু। তিনি বলেন, গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে দমন পীড়ন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকার স্বৈরাচারী রূপ পরিগ্রহ করে কেড়ে নিয়েছে সভা সমাবেশ, মিছিল ও বাক ব্যাক্তির স্বাধীনতা। সম্প্রতি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে কণ্ঠ চেপে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি চলছে বিরোধী মত দমনের ফ্যাসিস্ট আয়োজন। প্রতিদিন চলছে এনকাউন্টার ও ক্রসফায়ারের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে গুম করার ঘটনা ঘটছে। তার কোনো হদিস মিলছে না। চলতি বছরে এপর্যন্ত ৪০৩ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। দেশজুড়ে নীরব আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এই স্বৈরতন্ত্র জারি রেখে কেড়ে নেওয়া হয়েছে মানুষের নিঃশঙ্কে ভোট দেওয়ার অধিকারটুকুও। এছাড়া দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে গ্যাস বিদ্যুৎসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। দেশবাসী এই গুমোট পরিবেশ থেকে মুক্তি চায়।
বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক সংকটকালে তত্ত¡াবধায়ক সরকার প্রশ্নে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যে ধরণের বক্তব্য হাজির করা হয়েছে, তার সঙ্গে আমরা একমত হতে পারিনি। সেই বক্তব্য ও কর্মসূচির মাধ্যমে এই সংকট উত্তরণ সম্ভব নয়। যে বক্তব্য ও কর্মসূচির মাধ্যমে এই রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে বিবেচনা করছি, চারটি সংগঠন জোটবদ্ধ হয়ে সেটাই এখানে হাজির করছি। এই বক্তব্য ও কর্মসূচি এগিয়ে নিতে অন্যান্য সকল কমিউনিস্ট বামপন্থী দল গ্রুপ ব্যক্তি প্রগতিশীল ব্যাক্তি এমনকি শুভবুদ্ধি সম্পন্ন যে কোনো মানুষের সঙ্গে আমরা আলাপ আলোচনা করে এক সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি।
তিনিি আরো বলেন, দেশের এই সংকটে অনেকে সকল দলের সম্মতির ভিত্তিতে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের দাবি উত্থাপন করেছেন। অনেকে তার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের শ্লোগান। প্রকৃত প্রস্তাবে ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার হল শাসক শ্রেণির সমঝোতার সরকার। নির্বাচন কমিশনের সংস্কারও সেই সমঝোতার অংশ। দলীয় সরকারতো বটেই তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনেও অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এটা দেশের বর্তমান সংকটের সমাধানেরও পথ নয়। আমরা মনে করি বিপ্লবী তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তবর্তীকালীন বিপ্লবী সরকারই একমাত্র সমাধানের পথ হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৬ অক্টোবর ২০১৮ বিপ্লবী তত্ত¡াবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরতে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউন্সে সেমিনার এবং ৯ নভেম্বর ২০১৮ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিভিন্ন জেলা উপজেলা বিভাগীয় শহরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কর্মীসভা, পথসভা, জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাসদ এর আহবায়ক কমরেড সন্তোষ গুপ্ত, বাসদ নেতা শওকত হোসেন আহমেদ, মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার মোর্শদ, কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার সাঈদ, গণমুক্তি ইউনিয়নের নেতা রাজা মিয়া, কমিউনিস্ট ইউনিয়ন এর আহবায়ক কমরেড ইমাম গাজ্জালী প্রমূখ।