এখনো সাকিবের কণ্ঠে শুধুই উদ্বেগ

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ একই সঙ্গে দুটি ব্যাপার ঘটছে। আশার সমান্তরালে আশঙ্কার কথাও উচ্চারিত হচ্ছে।

ভুক্তভোগী নিজে যখন আশঙ্কার কথা বলছেন, তখন পাশাপাশি আশার আলোও দেখাচ্ছেন তাঁর পরিচর্যার দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সাকিব আল হাসানের বাঁ হাতের কনিষ্ঠার সবশেষ অবস্থা নিয়ে আপাতত এ রকমই হয়ে আসছে।

অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে সাকিবের নিজের বক্তব্যেই সারা দেশের ক্রিকেটাবেগে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল। বলে গিয়েছিলেন, তাঁর চোটাক্রান্ত আঙুল আর কখনোই পুরোপুরি ঠিক হবে না। কিন্তু পরদিনই আবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীর ব্যাখ্যায় ছিল সবাইকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা। সাকিবের আঙুল শতভাগ ঠিক না হলেও ক্রিকেট খেলার মতো যথেষ্ট কার্যকরী অবস্থায় পৌঁছানোর সম্ভাবনায়ই তিনি জোর দিয়েছেন বেশি।

সেই অবস্থায় কত দিনে পৌঁছাতে পারে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই। সাকিব মেলবোর্নে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকালই তাঁকে দেখার কথা ছিল হস্ত বিশেষজ্ঞ গ্রেগ হোয়ের।

তার আগে চলেছে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এশিয়া কাপ খেলতে যাওয়ার আগে কথা ছিল ওই আসর শেষেই অস্ত্রোপচার করাবেন আঙুলে। কিন্তু আবুধাবিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে অঘোষিত সেমিফাইনালে পরিণত হওয়া ম্যাচের দিনই দেশে ফিরে আসা এই অলরাউন্ডার পরদিনই অসহ্য ব্যথায় ফুলে ঢোল হয়ে যাওয়া আঙুল নিয়ে ভর্তি হন ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে। তখনই ধরা পড়ে যে তাঁর আঙুলে আসলে ইনফেকশন হয়েছে। যা অস্ত্রোপচারের চিন্তাকেও পিছিয়ে দিয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। ইনফেকশন না সারিয়ে তো আর অস্ত্রোপচার করানো যাবে না।

সেটি সেরে গেলে আদৌ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়েও মত দেওয়ার কথা আছে গ্রেগ হোয়ের। তার আগে আপাতত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল জানার অপেক্ষা। যদিও পরীক্ষার ফল জানার আগে সাকিবের কণ্ঠে এখনো আশার চেয়ে আশঙ্কাই বেশি। হতে পারে হুট করে কনিষ্ঠার অবস্থা চরম খারাপের দিকে মোড় নেওয়াতেই মনোবল হারিয়ে ফেলেছেন অনেকটা। তা ছাড়া এশিয়া কাপ চলাকালীন জাতীয় দলের ফিজিও তিহান চন্দ্রমোহনের সমস্যা ধরতে না পারার ব্যর্থতাও তাঁর মনে ক্ষোভ বাড়িয়ে থাকতে পারে। সাকিবের আঙুলে পুঁজ জমে যাওয়ার ব্যাপারটি তো সবার আগে ফিজিওরই ধরতে পারার কথা ছিল। মেলবোর্নের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাকিবের প্রতিক্রিয়ায় হয়তো এসব কিছুরই প্রভাব। গতকাল সন্ধ্যায় বলা কথায় তাই উদ্বেগই মিশে থাকল বেশি, ‘হাসপাতালে ভর্তি আছি। বাংলাদেশের হাসপাতাল থেকে এসেছি তো! তাই এখানে নতুন করে প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সেসবের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই আসলে সব বোঝা যাবে। এখন অনেক কিছুই বলছে। কিন্তু কোনোটিই নিশ্চিত কিছু নয়। তবে খুব বেশি ভালো খবর পাওয়ার যে সুযোগ নেই, সেটিও বোঝা যাচ্ছে। ’-কালেরকন্ঠ