সরকার দেশকে অনিশ্চিত অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে–বাম জোট

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাম গণতান্ত্রিক জোটের গ্রেপ্তারকৃত নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী জুলুমবিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘জুলুমবিরোধী’ বিক্ষোভ-সমাবেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সরকার নজিরবিহীন জুলুম-নিপীড়নের পথে দেশকে অনিশ্চিত অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। যখন দরকার ছিল নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ˆতরি করা, তখন সরকার সেই পথে না হেঁটে রাষ্ট্রীয় শক্তির ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমনের চরম ˆস্বরতান্ত্রিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এসবের লক্ষ্য হচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয় আটক করা, নয় তাদের দৌড়ের মধ্যে রেখে আরও একটি একতরফা, নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আর এই ধরনের অপতৎপরতাকে বরদাশত করবে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সাতক্ষীরায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতা অ্যাড. খগেন্দ্র নাথ ঘোষ, অধ্যাপক প্রশান্ত সাহা ও নিত্যানন্দ সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হয়েছে। আটক রয়েছেন ছাত্র ফেডারেশনের চট্টগ্রামের নেতা মারুফ হোসেন। ৫৭ ধারায় গ্রেফতার রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলাম। প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহীদুল আলমকে এখনও মুক্তি দেয়া হয়নি।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকারের দুষ্কর্ম ও সীমাহীন দুর্নীতি-লুটপাট আড়াল করতেই ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মুক্ত সাংবাদিকতার পরিপন্থী সংবিধানবিরোধী নিবর্তনমূলক ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ সংসদে পাশ করানো হয়েছে। মহাজোট সরকারের রক্ষাকবচ হিসেবে তড়িঘড়ি করে এই আইন গ্রহণ করা হয়েছে। এই আইন সরকারকে চ‚ড়ান্ত স্বেচ্ছাচারীতার পথে ঠেলে দেবে; আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যা খুশি তাই করার লাইসেন্স দিয়ে দেবে। পুলিশকে জবাবদিহীতাহীন বেপরোয়া ক্ষমতা প্রদান করবে।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বাক্ স্বাধীনতা হরণকারী অসাংবিধানিক ও নিপীড়নের হাতিয়ার ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ বাতিল করার দাবি জানান।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতা সিপিবির সহকারী সাধারণ সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা ফকরুদ্দিন কবির আতিক। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহবায়ক হামিদুল হক। সমাবেশটি পরিচালনা করেন বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।