ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক নেতৃত্বের জায়গায় পৌছেছে—–মোস্তাফা জব্বার

3

যুগবার্তা ডেস্কঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার জায়গায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ৮০টি দেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করছে। নেপাল ও নাইজেরিয়ায় কম্পিউটার ও ল্যাপটপ রপ্তানি হচ্ছে। তিনি ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করে নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যত মুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী আজ ঢাকায়, ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা ২০১৮ উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘শিক্ষিত জাতি সমৃদ্ধ দেশ -শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ঢাকার জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বক্তৃতা করেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্ম অত্যন্ত মেধাবী। নতুন প্রজন্মের বিপুল সম্ভাবনাময় প্রতিভাকে চলমান ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবকে গতিশীল করতে কাজে লাগাতে না পারলে বিশাল জনসম্পদ আগামী দিনের বিস্ময়কর ডিজিটাল প্রযুক্তি আইওটি,রোবটিক, বিগডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা ৫জি‘র কারণে কমর্-বিমুখ হয়ে পড়বে। শিক্ষিত জাতি ছাড়া উন্নত জাতি গঠন করা যায় না, এই উপলব্দি থেকেই যুদ্ধের ধ্বংস স্তুপে দাঁড়িয়েও বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয় করণ করেছিলেন। দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এই মহান রাষ্ট্রনায়ক ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জন করেছিলেন এবং ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বহির্বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি স্থাপনে বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দেশ উল্টো পথে ধাবিত হয়েছিল। যে সকল পরাশক্তি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সমর্থন করেনি তারা ৭৫ পরবর্তী স্বৈরাচারকে সমর্থন দেয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ইতিহাস শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলেই হয়েছে । মন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সালে বৈপ্লবিক যাত্রা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার মোবাইলের মনোপলি ব্যবসা বন্ধ করেন এবং কম্পিউটারের ওপর থেকে ট্যাক্স ভ্যাট প্রত্যাহার করে কম্পিউটার সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার নাগালে রাখেন। মন্ত্রী গত সাড়ে ৯ বছরে তথ্যযোগাযোগ খাতে অগ্রগতির তুলনা মূলক
পার্থক্য বর্ণনা করে বলেন, ২০০৮ সালে দেশে ৪কোটি ৪৬ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হতো, যা ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে পনোরো কোটিতে উন্নীত হয়েছে। ২০০৮ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো ৪০ লাখ । বর্তমানে তা ৯ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।২০০৮ সালে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার ছিল মাত্র ৭.৫ জিবিপিএস। বর্তমানে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার ৮০০ জিবিপিএস ছাড়িয়েছে। গত ১২মে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫৭তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তিনি বলেন, ইন্টারনেট পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম লাইব্রেরী। ২০১৯ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পৌছে যাবে।

জনাব মোস্তাফা জব্বার ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণের আবশ্যকতা তুলে ধরে বলেন, মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ভাগ তরুণ। এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করতে পারলে বিশেষ করে ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করতে
পারলে বাংলাদেশের অগ্রগতির অগ্রযাত্রা থামানো যাবেনা। তাদেরকে মানব সম্পদে পরিণত করতে অতীতমুখী শিক্ষার পরিবর্তে তাদেরকে ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষাখাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে, প্রাথমি শিক্ষায় শতভাগ এনরোলমেন্ট, নারী শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের সফল বাস্তবায়ন।