উত্তপ্ত হচ্ছে পরিবহন সেক্টর

2

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন আইন পাস হওয়া নিয়ে পরিবহন সেক্টর উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আজ শনিবার এ নিয়ে রাজধানীতে পরিবহন সেক্টরের দুই গ্রুপ পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বেলা ৩টায় সমাবেশ করবে রাজধানীর ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি বাস ডিপো প্রাঙ্গণে। অপর দিকে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে একই সময় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৯ সেপ্টম্বর জাতীয় সংসদে পাসকৃত সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনহ ৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ আগামীকাল রবিবার থেকে ঢাকা বিভাগের (১৭ জেলায়) অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য পরিবহন যানবাহন চলাচলে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে আজ তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০২ ধারায় মামলা গ্রহণ করা যাবে না, ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল করতে হবে এবং জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সদস্য হাসনাত আলীসহ যে সকল মালিক/শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দিতে হবে। সহজ শর্তে ভারী যানবাহন চালককে ভারী যানবাহন লাইসেন্স দিতে হবে। এর পূর্ব পর্যন্ত হালকা বা মধ্যম লাইসেন্স দ্বারা গাড়ি চালানোর সুযোগ দিতে হবে। এ ব্যাপারে মামলা করা যাবে না। পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করতে হবে। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টার্মিনাল স্ট্যান্ড নির্মাণ করতে হবে। গাড়ির মডেল বাতিল করতে হলে উপযুক্ত ক্ষতিপুরণ দিতে হবে। জরিমানা মওকুফ করে গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। সারাদেশে গাড়ির ওভারলোডিং বন্ধ করতে হবে। জনসাধারণের চলাচলের জন্য ফুটপাত, ওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জনসচেতনতার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ তাদের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে পরিবহন সেক্টরের অন্য সংগঠনগুলো ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানায়। কিন্তু বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। এ অবস্থায় দুদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের ডেকে তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারে অনুরোধ জানান। ওই দিন মন্ত্রীর অনুরোধে নেতৃবৃন্দ রাজি হয়নি। আর এ প্রেক্ষাপটেই ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

অবশ্য ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ শনিবার বেলা ৩টায় ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও গুলিস্তান টিবিসি রোডে মালিক শ্রমিক যৌথ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে সমাবেশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক নেতা বলেন, রাজধানীর চারটি টার্মিনালে গত দশ বছর যাবত্ একটা শান্তির পরিবেশ ছিল। এ সময় টার্মিনাল নিয়ে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সম্প্রতি একটি পক্ষ টার্মিনালগুলোতে তাদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। এরই প্রতিবাদে মালিক শ্রমিক যৌথ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে একটি গ্রুপ শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদেরকে প্রতিহত করতেই মালিক শ্রমিকদের যৌথ সমাবেশ ডাকা হয়েছে।

এ দিকে, গতকাল বিকালে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক সমিতির ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আলহাজ মুকবুল আহমদ তাদের আন্দোলন কর্মসূচির ব্যাপারে বলেন, আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটল। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। শুনেছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনাদের ডেকেছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ দুদিন আগে ডেকেছিলেন। ওই দিন তিনি আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন এবং বলেছেন কর্মসূচি প্রত্যাহার করুন। এ ব্যাপারে বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান কী আপনাদের ডেকেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মুকবুল আহমদ বলেন, ‘ওনার ডাকে আমরা কখনোই যাব না।’ ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির ডাকা সমাবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা যখন আন্দোলনে নেমে গেছি এখন শ্রমিক নেতারা তাদেরকে চাপ দিয়েছে। সে কারণেই ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সমাবেশ ডাকতে বাধ্য হয়েছে।

এ দিকে, গতকাল রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক সমিতির ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক হয়। মুকবুল আহমদ বলেন, আমাদের কথা আমরা মন্ত্রী মহোদয়কে জানিয়েছি। তবে আমাদের ডাকা সমাবেশ আগামীকাল (আজ) অনুষ্ঠিত হবে। ৭ অক্টোবর থেকে কী কর্মবিরতিতে যাবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমাবেশেই এ ব্যাপারে নেতৃবৃন্দ সিন্ধান্ত নেবেন।

অপর দিকে, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) মালিক যৌথ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। সেখানেই নেতৃবৃন্দ করণীয় সম্পর্কে সিন্ধান্ত নেবেন। তিনি বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক সমিতির কর্মসূচি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
-ইত্তেফাক