একতরফা নির্বাচনের অপতৎপরতা রুখে দাঁড়ান–সেলিম

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ দুঃশাসন হঠাও, গণতন্ত্র বাঁচাও, দ্বি-দলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলার ডাক দিয়ে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে অনুষ্ঠিত জনসভা থেকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি’র) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট শাসকশ্রেণি দুই দলে বিভক্ত হয়ে দেশে দুঃশাসন চালিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি কেন্দ্রিক দ্বি-দলীয় ধারা দেশে দুঃশাসনকে পোক্ত করছে। মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দুঃশসনের অবসান ঘটানো জরুরি। তিনি দুঃশাসনের অবসান ও বিকল্প গড়ার সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জলি তালুকদার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. মন্টু ঘোষ ও ডা. সাজেদুল হক রুবেল। জনসভা পরিচালনা করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, শাহীন রহমান, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, সম্পাদক আহসান হাবীব লাবলু, কোষাধ্যক্ষ মাহাবুব আলম, ঢাকা কমিটির সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন।
সভাপতির ভাষণে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বর্তমান আওয়ামী সরকার প্রায় ১০ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় আছে। তারা ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু তাদের সরকারের আমলে ভাত ও ভোটের অধিকার খর্বিত হয়েছে ন্যাক্কারজনকভাবে। ‘১০ টাকা কেজি’ চাল দেয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়নি। উন্নয়নের নামে শাসকদলের সীমাহীন লুটপাট, দুর্নীতিতে নিমজ্জিত দেশ। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ রুদ্ধ। গুম, খুন, জেল, জুলুম, দমন-পীড়নের কর্তৃত্ববাদী ˆস্বরতান্ত্রিক শাসনে পিষ্ট দেশ। খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বীভৎস পর্যায়ে পৌঁছেছে। সড়কে মুত্যুর মিছিল চলছে। বেকারত্বে যন্ত্রণায় নিষ্পেষিত হচ্ছে কোটি কোটি যুবক। মালিকদের খুশি করার জন্য গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি উপেক্ষিত। গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। মানুষের সভা-সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার সরকারের ইচ্ছাধীন করা হয়েছে। প্রশাসন ও দলীয় ক্যাডারবাহিনীর মাধ্যমে জনগণের ন্যায্য আন্দোলনকে দমন করা হচ্ছে। এক অসহনীয় পরিস্থিতি অতিক্রম করছে দেশের মানুষ।
তিনি বলেন, এ সরকার মানুষের মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ প্রণয়ন করেছে। এ আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের লুটপাট, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠকে গলা টিপে দাবিয়ে দেয়া হবে। জেল-জরিমানার ভয় দেখিয়ে সংবাদপত্রকে নিমজ্জিত করে রাখা হবে। এ আইন বিরোধী পক্ষকে দমন করার জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অনুমোদন না করার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আহবান জানান।
তিনি বলেন, ˆস্বরশাসকরা নির্বাচন বিষয়টাকে প্রহসনে পরিণত করেছিল। নব্বই পরবর্তী সরকারগুলোও অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি। বর্তমান সরকার আরো এক ধাপ অগ্রসর হয়ে নির্বাচনকে ‘ঐন্দ্রজালিক প্রহসনে’ পরিণত করেছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একতরফা নির্বাচনে পরিণত করার জন্য যে অপচেষ্টা সরকার শুরু করেছে তাকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। তিনি অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণার আগে সরকারের পদত্যাগ, রাজনৈতিক দল ও সমাজের অপরাপর অংশের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া, জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা এবং সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুসহ টাকার খেলা ও পেশিশক্তিনির্ভর বিদ্যমান গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি জানান।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সিপিবি বর্তমান আওয়ামী দুঃশাসন অবসানের জন্য জানকবুল করে লড়াই করছে। জেল, জুলুম মোকাবিলা করে রাজপথে লড়াইয়ে রয়েছে। আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় সংগ্রাম চালানোর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-বিএনপি কেন্দ্রিক দ্বি-দলীয় ধারার বাইরে বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সমভাবে এগিয়ে নিতে আমরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। এ দুটি হলো সংগ্রামের এই পর্বের যুগপৎ কর্তব্য। একটি কাজ আগে শেষ করে নেয়ার কথা বলে অপর কাজটিকে স্থগিত রাখা হবে ভুল। ‘বিকল্প’ শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে ‘বিকল্প’ নীতিতে দেশ পরিচালনা ব্যতীত ‘দুঃশাসনের’ অবসান ঘটানো সম্ভব না।

সমাবেশ শেষে একটি লাল পতাকা মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।