এয়ারপোর্ট ছাড়া চলবে বিমান

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ উড়োজাহাজসহ সব ধরনের আকাশযানের চলাচলের ক্ষেত্র হিসেবে বিমানবন্দর অত্যাবশ্যকীয়। বিমানের উড্ডয়ন, অবতরণ এবং অবস্থানের জন্য প্রত্যেকটি বিমানবন্দরে রানওয়ে থাকা জরুরি। এছাড়া আকাশে থাকা বিমানের সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য বিমানবন্দরে থাকা চাই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, টার্মিনাল ভবন এবং কন্ট্রোল টাওয়ার। যাত্রীদের বিশ্রাম এবং বিনোদনের জন্যও বিমানবন্দরে থাকতে হয় রেস্তোরাঁ, জরুরি সেবা এবং বিশ্রামাগারের মতো আধুনিক সব সুবিধা। এই সব কারণে অনেক বড় বড় শহরেও অনেক সময় বিমানবন্দর নির্মাণ করা সম্ভব হয় না। ফলে ঐসব শহরের বাসিন্দারা সরাসরি বিমান যোগাযোগ সুবিধা থেকেও ক্ষেত্রবিশেষে বঞ্চিত হন। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রানসেন্ড এয়ার কর্তৃপক্ষ এমন এক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছে যেখানে সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে বিমানবন্দর! অর্থাৎ বিমানবন্দর ছাড়াই যাত্রীরা বিমানে চড়ার সুবিধা ভোগ করবেন।

যাত্রীদের চলাচলের জন্য এমন এক ধরনের খুদে বিমানকে বেছে নেওয়া হবে যেগুলো উড্ডয়ন এবং অবতরণের জন্য লাগবে না কোনো ধরনের রানওয়ে। সামান্য পরিসরে হ্যালিপ্যাডের মতো জায়গা হলেই সেখানে অনায়াসে অবতরণ করতে পারবে বিমান। এখান থেকেই সরাসরি আকাশে উড়াল দিতে পারবে এসব বিমান। ছোট আকারের বিমানগুলোতে এক সাথে চলাচল করতে পারবেন সর্বোচ্চ ৬ জন যাত্রী। তবে এই বিমানের যাত্রীরা ফাইভ স্টার মানের কোনো সেবা আশা করতে পারবেন না। এখানে যাত্রীদের সেবা প্রদানে থাকবে না কোনো স্টাফ। কোনো রকমে চা, কফি পানের ব্যবস্থা করা হবে।

এই ধরনের ছোট্ট বিমানে চড়ে অনায়াসে এক শহর থেকে যাওয়া যাবে অন্য শহরে। এই যেমন নিউইয়র্ক সিটি থেকে কেউ বোস্টনে যেতে চাইলে তার মাত্র ৩৬ মিনিট সময় লাগবে। লস এঞ্জেলস থেকে সানফ্রান্সিসকো অথবা টরোন্টো থেকে মন্ট্রিলে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৫৫ মিনিট। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে আমেরিকার ৪৬টি শহরের মধ্যে এই ধরনের সেবা দেওয়ার কথা চিন্তা-ভাবনা করছে। আগামীতে আন্তর্জাতিক পরিসরেও এই সেবা চালু করা হবে। তবে তার জন্যও যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হবে আরো অন্তত ৫ বছর। আগামী ২০২৪ সাল থেকে চালু হতে পারে পুরো সেবা। মূলত যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না তারা।

ট্রানসেন্ড এয়ার কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভিন্ন ধরনের সেবা দিতে অনেক দিন ধরেই মাঠ জরিপ করছেন। তাদের জরিপে উঠে এসেছে, বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হওয়ার এবং বিভিন্ন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সেরে বিমান ছাড়া পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। এই ধরনের বিড়ম্বনা থেকে যাত্রীদের মুক্তি দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এর জন্য বেশি পয়সাও গুনতে হবে না যাত্রীদের। আগে প্রাইভেট বিমানে যেখানে যাত্রীদের কয়েক হাজার ডলার খরচ হতো সেখানে মাত্র কয়েকশ ডলার গুনলেই চলবে।-ইত্তেফাক