চেতনায় বঙ্গবন্ধু

175

মো: নাজমুল হুদাঃ সত্যি বলতে লিখতে খুব বিব্রতবোধ করছি। এর কারনটাও আমার অজানা নয়। সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তি সম্পর্কে কিছু বলার দুঃসাহস করাটা আমাদের মত ক্ষুদ্র মানবের এমনটা হওয়া স্বাভাবিক; প্রসঙ্গটি যেখানে বাংলা ও বাঙ্গালি জাতির জনক “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান”। বঙ্গবন্ধুকে বর্ণনা করতে গেলে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোর উক্তি সবার আগে মনে পড়বে “আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনি হিমালয়ের মতো।”

১৯৪৭ পরবর্তী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগন ছিল শোষিত, লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত। সেসকল বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, সাধারন জনগনের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য, বাঙ্গালি জাতির মুক্তির জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। আর যেকারনে তাকে দীর্ঘ সময় কারাগারে পার করতে হয়েছে, মিথ্যা যড়যন্ত্র মামলায় মৃত্যুকেও কর্ণপাত করেননি। যার কণ্ঠদীপ্ত আহ্বানেই অস্ত্রহীন মানুষও যুদ্ধে নেমেছে, দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ছিনিয়ে এনেছিল এদেশের স্বাধীনতা। পৃথিবীর বুকে জন্ম নিয়েছিল এক খন্ড স্বাধীন ‘বাংলাদেশ’।

একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ও ৭ কোটি সর্বস্ব হারানো জনগনকে নিয়ে দেশ পুনঃগঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশপ্রেম ও সৎ সাহস নিয়ে যখন ধীরে ধীরে তা বাস্তবায়নের পথে তখনই একদল স্বাধীনতাবিরোধী-কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে স্বপরিবারে জীবন দিতে হয়েছে এই মহা মানবকে। প্রশ্ন হল, আসলেই কি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু হয়েছিল???

বঙ্গবন্ধু হলো সেই নাম যা আমাদের অস্তিত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধু হল সেই চেতনা যা আমাদের সার্বভৌমত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। বঙ্গবন্ধু হলো সেই দীপ্তশিখা যা একটি নিরস্ত্র জাতিকে দেশপ্রেমে সুসংগঠিত করে। তাই আমি মনেকরি, বঙ্গবন্ধু হলো সেই প্ররণা যা কোটি মানুষের হৃদয়ে বাস করে। বঙ্গবন্ধু হলো সেই জীবনাদর্শ যা আমাদের স্বাধীনভাবে বাঁচতে শিখায়। বঙ্গবন্ধু হলো সেই অনুপ্রেরণা যা বিশ্বের সকল শোষিত-বঞ্চিত মানুষের স্বপ্নের পথপ্রদর্শক। তাই এমন চেতনাবোধের মৃত্যু কখনোই সম্ভব নয়। এরা যুগে যুগে আদর্শ হয়ে মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখাবে।

আর বাঙ্গালি জাতির মুক্তির অন্যতম স্তম্ভ, বাংলার ইতিহাসে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ” এর একজন কর্মী হিসেবে এবং একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সর্বদা হৃদয়ে ধারন করি এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসার নিদর্শনস্বরূপ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারদিন ব্যাপী “বঙ্গবন্ধু শিল্পকর্ম প্রদর্শনী” এর মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, ত্যাগ, মহত্ত্বকে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। আমাদের ভুলে গেলে চলবে নাহ, বঙ্গবন্ধু মানেই হল বাংলাদেশ। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙ্গালী জাতির মুক্তির পথপ্রদর্শক ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ বেঁচে থাকবেন আমাদের আদর্শ ও চেতনায়।-লেখক-শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।