বৈদ্যুতিক পাখায়ও রোগীদের মিলছেনা স্বস্তি কলাপাড়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।। স্লাইন সংকটে হাসপাতাল

3

মোয়াজ্জেম হোসেন, (কলাপাড়া)পটুয়াখালীঃ কলাপাড়ায় ভ্যাপসা গরমে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। উপজেলার ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বৈদ্যুতিক পাখায়ও রোগীদের মিলছেনা স্বস্তি। অনেকেই হাত পাখা নারিয়ে একটু স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করছে। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অর্ধশতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশরাই হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। তবে ডায়রিয়ার জন্য কলেরার স্লাইন সংকট রয়েছে। আর প্রতিদিনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নতুন নতুন রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তীব্র গরমের কারনে গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ০২ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এক সপ্তাহে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এদেরকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছ। এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ। তবে হাসপাতালের আইভি স্লাইন সরবরাহ না থাকায় বাহির থেকে ক্রয় করে রোগিদের চিকিৎসা করানো হচ্ছে বলে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে।
নার্সিং সুপার ভাইজার ফৌজিয়া খানুন জানান,সোমবার সকাল থেকে ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি রয়েছে ৮৯ জন। ডায়রিয়ার আইভি স্লাইন সরবরাহ নাই। তবে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী আমতলী ও তালতালী উপজেলার কিছু সংখ্যক লোকজন এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে। এ কারনে রোগির চাপ বেশি বলে তিনি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ওয়ার্ডের সকল সিটে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসেও স্বস্তি মিলছেনা। ভ্যাপসা গরমে দিশেহার হয়ে পরেছে। রোগির স্বজনরা অনবরত হাত পাখা নাড়িয়ে বাতাস করছেন।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৬ মাসের শিশু ইসাহককে গত দু’দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তার মা ফাতেমা বেগম প্রচন্ড গরমে পাশে বসে হাত পাকা নাড়ছে। এসময় তিনি বলেন, তার শিশু পুত্র ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছেন। সব ঔষধ বহির থেকে কেনা হয়েছে। একই ওয়ার্ডে ভর্তি ডাব্লুগঞ্জ ইউনিয়নের এক বছরের কন্যা শিশু রাইছা। তার পিতা রুবেল মিয়া জানান, হাসপাতাল থেকে কোন ঔষধ দেয়া হয়নি। বাহির থেকে কিনে চিকিৎসা করানো হয়েছে।
কলাপাড়া হাপাতালের চিকিৎসক মো.মাহাবুবু রহমান জানান,হাসপাতালে আসা রোগীদের আমরা সাধ্যমত চিকিৎসা ও পারামর্শ দিচ্ছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার চিন্মময় হাওলাাদার জনান, এখন পর্যন্ত মারাত্মক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আসেনি। পর্যাপ্ত খাবার স্লাইন সরবরাহ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কলেরা স্লাইনের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।