এস কে সিনহার নামে হুদার মামলা

3

যুগবার্তা ডেস্কঃ সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তিনি নিজে শাহবাগ থানায় গিয়ে মামলাটি করেন।

এদিকে এস কে সিনহার ছোট ভাই অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার একটি অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। আমেরিকার নিউ জার্সিতে দুই লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারে বাড়ি ক্রয়, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের এক বৈঠকে এই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত ও আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়ায় মামলাটি দুদকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হুদার মামলা : গত ২৭ সেপ্টেম্বর নাজমুল হুদা শাহবাগ থানায় গিয়ে এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মামলাটি করলেও গতকাল সোমবার তা প্রকাশ পায়। মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও উেকাচ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল হুদা গতকাল সাংবাদিকদের জানান, উচ্চ আদালতে একটি মামলায় ‘বেঞ্চকে প্রভাবিত করে’ তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সিনহা তাঁর বিরুদ্ধে আদেশ দিয়েছিলেন। এর আগে সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘খবরের অন্তরালে’র জন্য মীর জাহের হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এক মামলায় বিএনপি সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। জরুরি অবস্থার সময় দেওয়া ওই মামলার রায়ে হুদার স্ত্রী সিগমা হুদারও তিন বছর কারাদণ্ড হয়েছিল।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে ২০১১ সালের ২০ মার্চ হাইকোর্ট তাঁদের খালাস দেন। কিন্তু দুদকের আপিলে আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন। তখন আপিল বিভাগে ছিলেন বিচারপতি সিনহা। মামলার পুনঃশুনানি শেষে গত বছরের ৮ নভেম্বর হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ নাজমুল হুদাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন।

বিএনপি ছেড়ে আসার পর নাজমুল হুদা বর্তমানে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নাজমুল হুদা একসময় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন। এ ছাড়া খালেদা জিয়া সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি (বিএমপি), তৃণমূল বিএনপি গড়ে তুলেছিলেন নাজমুল হুদা। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্স (বিএনএ) নামে একটি জোট গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে যোগ দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীও হতে চান তিনি।

সিনহার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক : সিনহার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অর্থপাচারে দুদকের সহকারী পরিচালক গোলশান আনোয়ার প্রধানকে অনুসন্ধান টিমের প্রধান করে দুই সদস্যের টিম করা হয়েছে। অনুসন্ধান টিমের অন্য সদস্য হচ্ছেন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস। অনুসন্ধান কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। অভিযোগ উঠেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতির ছোট ভাই বাংলাদেশ থেকে পাচার করে নেওয়া দুই লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারে আমেরিকায় বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন এবং সেই বাড়িতে বর্তমানে সাবেক প্রধান বিচারপতি তাঁর পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, বাংলাদেশি নাগরিক অনন্ত কুমার সিনহা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে দুই লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারে (দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা) চার হাজার বর্গফুটের তিনতলা বাড়ি ক্রয়, বিদেশে অর্থপাচার ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদকে একটি অভিযোগ এসেছে। তাঁর অনুসন্ধানের জন্য এই কমিটি করা হয়েছে।

এর আগে বিচারপতি সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা দেওয়ার একটি অভিযোগের অনুসন্ধানের জন্য ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম শামীমসহ সাতজনের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

অন্যদিকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা স্থানান্তরের বিষয়ে আরো একটি অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে গত ৬ মে ও ২৬ সেপ্টেম্বর আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কে এম শামীমসহ ছয় কর্মকর্তাকে সাড়ে ছয় ঘণ্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। একই ঘটনায় গত ৬ মে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুই ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা স্থানান্তরের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ওই দিন তাদের সঙ্গে আসা তাদের দুই আইনজীবী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, এস কে সিনহাকে তাঁর বাড়ি বিক্রির চার কোটি টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। আইনজীবীরা হলেন আফাজ মাহমুদ রুবেল ও নাজমুল আলম।

আইনজীবীরা জানান, এস কে সিনহার উত্তরার ছয়তলা বাড়িটি পাঁচ কাঠা জমির ওপর ছিল। ওই বাড়িটি ২০১৬ সালের শুরুর দিকে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা শান্তি রায় ছয় কোটি টাকায় ক্রয় করেন। ওই সময় বায়না দলিলকালে তিনি দুই কোটি টাকা পরিশোধ করেছিলেন। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য নিরঞ্জন ও শাহজাহানের সহযোগিতা নেন। নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা শান্তি রায়ের স্বামী রনজিতের চাচা শ্বশুর। আর শাহজাহান রনজিতের বন্ধু।-কালেরকন্ঠ