পাঁচ যুগ ধরে বই সংগ্রামী ফেরিওয়ালা কবি আবদুল হালিম

8

মোয়াজ্জেম হোসেন, (পটুয়াখালী) কলাপাড়াঃ কবি আবদুল হালিম। বয়স ৮২ বছর। স্বাধীনতার আগে থেকেই শুরু করেন বই বিক্রি। গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শহরে ফেরি করে বই বিক্রি করেন। আর এই বই বিক্রি করে যে উপার্জন হয় তাতেই চলে তার সংসার।
পটুয়াখালী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামের মৃত্যু আবদুর রহমান গাজীর ছেলে কবি আবদুল হালিম। ব্রিটিশ আমলে ক্লাশ ফাইভ পাশ করে ওস্তাত আবদুল মান্নানের অনুপ্রেরনায় শুরু করেন বই বিক্রি। তখন থেকে তিনি নিজেই ওস্তাদকে অনুসরন করে বিভিন্ন কবিতা, গান, ছড়া (আঞ্চলিক ভাষায়) লেখা শুরু করেন। তিনি ও তার ওস্তাদের লেখা গান, কবিতা ও ছড়া মিলিয়ে তৈরি করেন বই। আর সে বইগুলো ফেরি করে গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু বিভিন্ন শহরে বিক্রি শুরু করেন। এছাড়াও তিনি দেশের নামকরা সাহিত্যিক ও কবিদের লেখা বইও বিক্রি করেন। বিশেষ করে তিনি শিশুদের জন্য আদর্শ লিপি ও স্বাধীনতার সময় তার লেখা কবিতার বই একটু বেশিই বিক্রি করেন। এছাড়া তিনি স্বাধীনতার ইতিহাস, সাত খুনির ফাঁসি, এরশাদ শিকদের ফাঁসি, শহারভানুর স্বামী উদ্ধার, আবদুল আলী গারুলি ও নিবারুনের করুন কাহিনীসহ বিভিন্ন গল্পের (আঞ্চলিক ভাষায়) তার লেখা বই বিক্রি করেন। আর এসব বই বিক্রি করে দীর্ঘ ৬২ বছর যাবৎ সংসারের ভরপোষনসহ সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন। বর্তমানে তার বড় ছেলে মতিউর রহমান মাওলানা পাশ করে স্থানীয় একটি নুরানী মাদ্রাসায় চাকুরি করছেন, বড় মেয়ে কাজল রেখা পরিবার পরিকল্পনায় (সরকারী) চাকুরী ও ছোট ছেলে আনিসুর রহমান পটুয়াখালী সরকারী কলেজে (বিএ) লেখাপড়া করছেন।
প্রতি হাটের দিন কলাপাড়াসহ বিভিন্ন শহরে তাকে আদর্শ লিপি, তার লেখা কবিতাসহ বিভিন্ন বই হাতে দেখা যায়। শহরের প্রতিটা অলিতে গলিতে ঘুরে ঘুরে তিনি কবিতার ছন্দে হাক ডাকে বই বিক্রি করেন। তার হাতে সব সময়ই স্বাধীনতার আমলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি কবিতা লেখা বই থাকে। তার জীবনের শেষ ইচ্ছা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা কবিতা গানটি তিনি শেখ হাসিনাকে শোনাবেন। আর এ গানটি যদি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে শোনাতে পারেন তাহলেই তার জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরন হবে।
কবি আবদুল হালিমের ছোট ছেলে আনিসুর রহমান বলেন, বাবা গভীর রাত অবধি বই লিখেন। আর সেই বইগুলো গ্রামে গ্রামে ঘুরে পরিশ্রম করে বিক্রি করেন।
কবি আবদুল হালিম বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে থেকেই বই লেখা ও বই বিক্রি শুরু করেছি। আর এই বই বিক্রির টাকা দিয়েই সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়েছি। তিনি কান্না জুড়ে দিয়ে আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জাতির পিতাকে নিয়ে একটি কবিতা গান লিখেছিলাম। ওই গানটি যদি শেখ হাসিনাকে শোনাতে পারতাম তাহলে মনে হয় মরে গিয়েও শান্তি পেতাম।
আউলিয়া পুর ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন ভুট্যু বলেন, কবি আবদুল হালিম একজন গুনী ব্যক্তি। আমার জানামতে তিনি ছোট থেকেই বাচ্চাদের জন্য ছড়া, কবিতা গান ও গল্পের বই লিখেন এবং সে বই তিনি বিভিন্ন শহরে ফেরি করে বিক্রি করেন।