“শীঘ্রই রাজধানীতে একটি ইশারা ভাষা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে”–সমাজকল্যাণমন্ত্রী

4

যুগবার্তা ডেস্কঃ বধির ব্যক্তিদের জন্য শীঘ্রই রাজধানীতে একটি ইশারা ভাষা ইন্সটিটিউট করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি।
আজ সকালে রাজধানীর সেগুন বাগিচায়, কচিকাচা মিলনায়তনে জাতীয় বধির সংস্থা কর্তৃক “ইশারা ভাষা দিবস উপলক্ষে” আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজধানীতে একটি ইশারা ভাষা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী মেনন বলেন-“ইশারা ভাষা বিশ্বের অন্যান্য ভাষার মতই সীকৃত একটি ভাষা।ভাষার জন্য আমরা আন্দোলন করেছি,প্রাণ দিয়েছি।আমাদের বাংলা ভাষা বর্তমানে জাতিসংঘ কর্তৃক সীকৃতি লাভ করেছে।কিন্তু আমাদের দেশের বধির ব্যক্তিগণ তাদের মধ্যে সেই ভাষার আদান প্রদান করতে পারবে না তা হতে পারেনা।বর্তমানে যদিও দেশে বেশকিছু বধির বিদ্যালয় রয়েছে কিন্তু সেখানে দেশের সকল বধির ব্যক্তিদের জন্য সহজ প্রবেশগম্যতা খুব বেশি নেই।একারনে আমরা আমাদের বর্তমান সরকারের উদ্যোগে খুব শীঘ্রই একটি ইশারা ভাষা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা গেলে সেখানে রাজধানীর পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বধির ব্যক্তিরাও তাদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য যথার্থ একটি প্রতিষ্ঠান পাবে।”

বধির সংগঠনগুলোর নানারকম দাবীর প্রেক্ষিতে সমাজকল্যাণমন্ত্রী মেনন আরো বলেন-“দেশের প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় অন্তত একটি করে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার কাজ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।এর পাশাপাশি প্রতিটি বধির ব্যক্তি যেন স্কুল জীবন শেষ করে কলেজে পড়ালেখা করতে পারে সেজন্য সব ধরনের প্রচেষ্ঠা নেয়া হবে।

জাতীয় বধির সংস্থার সভাপতি এড. তৈমুর আলম খন্দকার এর সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্যের মাঝে আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব সিরাজুল ইসলাম (অতিরিক্ত সচিব),নির্বাহী পরিচালক সেন্টার ফর ডিজএবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম নোমান খান,জাতীয় বধির সংস্থার সহ সভাপতি মাহাবুবুর রহমান,মো. সাজ্জাদ,ইসতিয়াক আলম ও কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমূখ।

জাতীয় বধির সংস্থা প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে বক্তারা সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরেন।বক্তারা প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বধির ব্যক্তিদের নানাবিধ ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান এবং সারাদেশে বর্তমানে ২১ টি বধির সংঘের ও ১১টি বধির বিদ্যালয় বর্তমানে জাতীয় বধির সংস্থাটির সাথে যুক্ত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।