সফটওয়্যারের মাধ্যমে অন-লাইনে ভাষা শিক্ষা প্রদান করা হবে–মোস্তাফা জব্বার

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ আজ ‍বুয়েটের কম্পিউটার ল্যাবে দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাষা শিক্ষায় ডাক, টেলি যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক উদ্ভাবিত ভাষাগুরু সফটওয়্যারের মাধ্যমে ৯টি বিদেশী ভাষায় প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ এবং বেসরকারি সফটওয়্যার কোম্পানী রিভ সিস্টেম এর সহায়তায় আইসিটি বিভাগ উদ্ভাবিত ভাষাগুরু সফটওয়্যার এর মাধ্যমে দেশের ৬৫টি ভাষা ল্যাবে ৯টি বিদেশী ভাষায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৬৪টি জেলার ১০২৪ জন শিক্ষকে প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভাষা প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী দেশের তৈরি সফটওয়্যার এর মাধ্যমে এধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নকে ঐতিহাসিক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভাষা প্রশিক্ষণে বাংলাদেশের উদ্ভাবিত এই সফটওয়্যারটি জানামতে পৃথিবীতে এটিই প্রথম । দেশের মানুষ বুতথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের পাশাপাশি বুয়েট এবং রিভ সিস্টেমের কাছে কৃতজ্ঞ। এই অর্জন ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্জন। তিনি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুরের লিকুয়ান এবং মালয়েশিয়ার ড. মাহাথির মোহাম্মদের মতই এগিয়ে নিয়ে গেছেন। শেখ
হাসিনা ৫শত ৫০ ডলারের মাথা পিছু আয়ের বাংলাদেশকে গত দশ বছরে ১৭শত ৫২ ডলারের মাথা পিছু আয়ের দেশে পৌছে দিয়েছেন। একজন নেতা কী পরিমান দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হলে ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৪১ এবং বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ সাল প্রণয়ন করতে পারেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ২৩ বছর আগে স্বাধীন হওয়া দু‘টি দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সকল সূচকে এগিয়ে আছে। বাংলাদেশ গর্ব করার এমন এক জায়গায় পৌছেছে যে পাকিস্তানীরা এখন ১০ বছরে বাংলাদেশের সমান কাতারে আসতে চায়। মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন মেয়াদের ১৫ বছরের শাসনে উন্নয়নের প্রায় প্রতিটি সূচকে অবিশ্বাস্যভাবে এগিয়ে আছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল । এধারা আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দেশের কাতারে পৌছুবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি প্রশিক্ষনার্থীদের প্রতি প্রশিক্ষণ লব্দ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নতুন প্রজন্মকে ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থানে বিশেষ করে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথাযথ অবদান রাখার আহ্বান জানান।

আরবি, জাপানী, ইংরেজী, ( আমেরিকা, বৃটিশ এবং অষ্ট্রেলিয়া) স্পেনিশ, চীনা, কোরিয়ান, ফরাসী, রুশ এবং জার্মান এই ৯টি ভাষা সফটওয়্যারের মাধমে শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। তিনি দেশের নতুন প্রজন্মের শতকরা ৬৫ ভাগ তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে গড়ে তুলতে ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জাপানসহ পৃথিবীর অনেক দেশের শতকরা ৬৫ভাগ জনগোষ্ঠী প্রবীন। ঐ সকলের
শ্রমবাজারে উপযোগী মানবসম্পদ তৈরিতে ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব অপরিহার্য। তিনি পর্যায়ক্রমে দেশ ব্যাপী প্রতিষ্ঠিত ডিজিটাল ল্যাব সমূহে ভাষা শিক্ষার উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি উদ্ভাবিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে অন-লাইনে ভাষা শিক্ষা প্রদান করা হবে বলে জানান।

বুয়েট এর সিএসই বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড, মো: মোস্তফা আকবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খাইরুল আলম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।