প্রযুক্তির বিস্ময় মোকাবেলায় সন্তানদের ডিজিটাল যুগের উপযোগী করে গড়ে তুলুন–মোস্তাফা জব্বার

8

যুগবার্তা ডেস্কঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, যে জাতি তিনটি শিল্প বিপ্লবের কোনটিতেই অংশ নিতে পারেনি, সেই পশ্চাতপদ জাতি হিসেবে আমরা প্রযুক্তিতে ৩২৪ বছর পিছিয়ে থেকেও ডিজিটাল শিল্পবিপ্লবে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিচ্ছি। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে দেখছে। প্রযুক্তি মানুষকে বিস্ময়কর জায়গায় নিয়ে
যাবে। প্রযুক্তির আগামী দিনের বিস্ময়কর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের সন্তানদের ডিজিটাল যুগের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় এর দায় অভিভাকদেরই নিতে হবে।

মন্ত্রী আজ ঢাকায় বাংলাদেশ স্কাউট জাতীয় সদর দপ্তরে কাবিং ও রোবারিংয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক ডাক টিকেট, স্যুভেনির শীট ও উদ্বোধনী খাম অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ স্কাউট এর সহ-সভাপতি মো: হাবিবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ
স্কাউটের প্রধান জাতীয় কমিশনার , দুদক কমিশনার ড.মো: মোজাম্মেল হক খান, বাংলাদেশ ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডল এবং বাংলাদেশ স্কাউটের নির্বাহী পরিচালক আরশাদুল মোকাদ্দিস বক্তৃতা করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, স্কাউটিংয়ের সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশের সম্পর্ক আছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। স্কাউটরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাস্তবায়ন করবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ইন্টারনেট হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাগার। তিনি নিরাপত্তার সাথে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইন্টারনেটের খারাপ দিক বর্জন করে যাতে উদ্ভাবনী শক্তি হিসেবে ইন্টারনেট ব্যবহারে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে স্কাউটদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বাংলাদেশের স্কাউটরা বিশ্বে পঞ্চম বৃহত্তম উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ গত সাড়ে নয় বছরে অনেক কিছুতেই বাংলাদেশের রূপান্তর বিস্ময়কর। ৫৫০ ডলারের মাথা পিছু আয়ের বাংলাদেশ গত ৯ বছরে ১৭৫২ ডলারের মাথা পিছু আয়ের বাংলাদেশ। ২০০৮ সালে
ইন্টারনেট ব্যান্ডউডথ ব্যবহার ছিল ৭ জিবিপিএস যা বেড়ে ৮০০ জিবিপিএস এ উন্নীত হয়েছে।মোবাল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাড়ে তিন কোটি থেকে সাড়ে পনেরো কোটিতে উন্নীত হয়েছে। ৪০ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী থেকে আমরা ৯কোটিতে উন্নীত হয়েছি। বিশ্ব ভিক্ষুকের জাতি থেকে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

ড.মোজাম্মেল হক খান বলেন, স্কাউটিংয়ে বাংলাদেশ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নেতৃত্বকারী দেশ। স্কাউট বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ফলে বিশ্বে ১৬৭ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছে। একুশ শতকের বাংলাদেশ নির্মানে তিনি স্কাউটদের তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে।

মন্ত্রী স্মারক ডাক টিকেট, স্যুভেনীর শীট এবং উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেন।