একটি দেশ অর্থনৈতিক ভাবে অগ্রসর হওয়ার পূর্বশর্ত হলো উন্নত যোগযোগের ব্যবস্থা–পরিকল্পনামন্ত্রী

6

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশে বিটুমিনের সড়ক টিকবে না। পানি বিটুমিনের শত্রু।পানির সাথেই আমাদের সবসময় বসবাস। আমাদের ২০ বছর মেয়াদী কংক্রিট সড়ক নির্মাণ করতে হবে। প্রথম ১০ বছর কংক্রিট সড়কে হাতই দিতে হবে না। খরচের বিষয়ে আসলে হয়তবা প্রথমে দিকে কংক্রিটের রাস্তায় খরচ বেশী পড়তে পারে কিন্তু টেকসই হিসাবে সেই খরচ বিটুমিনের চেয়ে অনেক কম হবে এবং মানুষের জীবনে শান্তি ফিরে আসবে। সেসব জায়গায় ওভারপাস বা আন্ডারপাস দরকার যেসব জায়গাতে এগুলো তৈরী করতে হবে।রোববার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘ বাংলাদেশে মানসম্মত সড়ক অবকাঠামো বিনির্মানঃ সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ক সেমিনারে মাননীয় পরিকল্পনা আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন।

মাননীয় পরিকল্পনান্ত্রী আরো বলেন, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, এর ভিতর দিয়েই কাজ করতে হবে। সীমাব্ধতাকে উপেক্ষা করে দেশকে নিয়ে যেতে হবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে। আলোচনায় উঠে এসেছে আমাদের জনবলের অভাব রয়েছে অর্থাৎ দক্ষ জনবলের অভাব। অন্যান্য দেশের মত আমাদের অবকাঠামোও নেই, ভৌত এবং অভৌত দুটি অবকাঠামোতেই আমাদের দূর্বলতা রয়েছ, এগুলোও আরো উন্নয়ন করতে হবে। জনগনেকে প্রকল্পের সাথে সংযুক্ত করতে হবে, যাদের জন্য প্রকল্প তাদেরকে অধিকহারে সংযুক্ত করতে না পারলে আসল উদ্দেশ্য বোঝা যাবেনা। এখনই হয়তবা আমারা সকল সমস্যা সমাধান করতে পারবনা তবে কঠিন এলাকাগুলো হয়তবা সময়সাপেক্ষ কিন্তু সহজ জায়গাগুলো খামকেয়ালী ছাড়া আর কিছু নয়, তাই এসকল বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে যেকোন উপায়ে সমাধান করতে হবে।

তানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সমস্যা সমাধানে প্রথমে করতে হবে একটি সঠিক নকশা- একটি টেকসই নকশা, যেটির বাস্তবায়নে আমাদের রাস্তার সমস্যা সমাধান হবে। প্রয়োজনে একটি সুদূর প্রসারি নকশা তৈরী করতে হবে যেটি এখন থেকে ধিরে ধিরে বাস্তবায়ন শুরু হবে। যেটি বাস্তবায়নে পরবর্তীতে কোন বাধা সম্মুখীন হতে হবেনা। ২০ বছর মেয়াদী রাস্তা নির্মাণ করতে পারে এমন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে হবে। এর ফলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

দেশের উন্নয়ন তুলে ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত গবেষনা প্রতিষ্ঠানের গবেষনায় উঠে এসছে আগামী ৫ বছরের পর সিঙ্গাপুর ও দুবাইকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ । তবে তার আগে সড়ক ঠিক করতে হবে আগে দেশের সড়ক ঠিক করতে হবে।কেননা একটি দেশ অর্থনৈতিক ভাবে অগ্রসর হওয়ার পূর্বশর্ত হলো উন্নত যোগযোগের ব্যবস্থা।

পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব জিয়াউল ইসলামের সভিপতিত্বে সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন আইএমইডি সচিব মফিজুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, সওজ এর প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, গবেষক কলামিস্ট আবুল মকসুদ, বুয়েট অধ্যাপক শামসুল হক এবং নগরপরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন।