ইভিএম প্রকল্পসহ ১৪ প্রকল্প অনুমোদন

5

যুগবার্তা ডেস্কঃ গত অর্থ বছরে (২০১৭-১৮) মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭.৮৬ শতাংশ, যা প্রাথমিক হিসেবে ছিলো ৭.৬৫ শতাংশ।জিডিপির এই চূড়ান্ত হিসাবটি মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থাপন করেন।

মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের এ অভূতপূর্ব অর্জনকে স্মরনীয় করে রাখতে একনেক সভার শুরুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। জিডিপির এই প্রবৃদ্ধি অর্জন গত অর্থবছরের বাজেটে নেওয়া লক্ষ্যমাত্রা ৭.৪ শতাংশের চেয়েও বেশি। সেই সঙ্গে বেড়েছে মাথাপিছু আয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করতে দেড় লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনা হবে। আজ একনেক সভায় এ প্রকল্পটি অনুমেদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ চলতি সময় থেকে জুন ২০২৩ সাল পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ৩ হাজার ১১০ জন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া বিষয়ে সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও সুষ্ঠু ও অবাধ করতে ইভিএম ব্যবহারে উদ্যোগ নেয় ইসি। ইতোপূর্বে ব্যবহৃত ইভিএমের ত্রুটিগুলো বিবেচনায় রেখে সম্পূর্ণ নতুন কনফিগারেশনের অত্যাধুনিক ও নির্ভরযোগ্য ইভিএম ব্যবহারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইভিএম মেশিন ইতোপূর্বে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০১৭-সহ বেশকিছু নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের একটি কেন্দ্রের ছয়টি কক্ষে ইভিএম’র ব্যবহার মাধ্যমে সফলতার সঙ্গে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কক্ষে ভোট গণনার সময় লাগে মাত্র এক মিনিট। দেশি-বিদেশি এবং নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মিডিয়া এবং সর্বসাধারণের মতে অনুযায়ী ইভিএম পরিচালিত কেন্দ্রের ভোট নিরপেক্ষ, সহজ এবং সময়বান্ধব হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এনইসি বৈঠকে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন।

অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প গুলো হচ্ছে, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মীরসরাই প্রথম পর্যায় প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৫০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৫৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি জাতীয় মহাসড়ক (এন-১০৬) এর হাটহাজারী হতে রাউজান পর্যন্ত সড়কাংশ ৪-লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। জামালপুর-মাদারগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতি করণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১২৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪৬১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ভারতের সাথে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে রেল পথ নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। গোপালগঞ্জ জেলায় বিএআরআই এর কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা। বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮২ কোটি ৬৫। বিসিএস ইকনমিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৫৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ বেতার, শাহবাগ কমপ্লেক্স, আগারগাঁও, ঢাকায় স্থানান্তর, নির্মাণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দুরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রোগ্রাম ফর সার্পোটিং রুরাল ব্রীজেস প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা।