নির্বাচনের আগে গরিবের চাল লুটেরাদের ঠেকান

5

যুগবার্তা ডেস্কঃ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ দরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণ কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। হতদরিদ্রদের জন্য এই মহতী উদ্যোগ নেওয়া হলেও চালের বড় একটি অংশই চলে যাচ্ছে বিত্তবানদের পকেটে। ডিলার নিয়োগে অনিয়মের শেষ নেই। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা-কর্মী, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, বাড়িওয়ালা, চাকরিজীবীসহ আর্থিকভাবে সচ্ছলরাই হয়ে যাচ্ছেন চালের মালিক। প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে গরিবের চাল বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বঞ্চিত হচ্ছেন অতিদরিদ্রদের বড় অংশই। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর সতর্ক করে বলেছেন, চাল নিয়ে অনিয়ম সহ্য করা হবে না। কিন্তু এর পরও চাল নিয়ে দেশব্যাপী অনিয়মের নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের তীর ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান, খাদ্য কর্মকর্তা, ট্যাগ অফিসার ও ডিলাররা যোগসাজশ করে এসব চাল আতĄসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।
গত ৯ আগস্ট বিভিন্ন ˆদৈনিকে প্রকাশিত এ চক্রান্ত খবরে সরকারি খাদ্যশস্য পরিবহন, সংগ্রহ ও বিতরণের নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নড়েচড়ে বসে। অনুসন্ধানে মাঠে নামে র‌্যাব। শুরু করে নজরদারি। গত ১ ফেব্রুয়ারি ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় আটক হন তেজগাঁও সিএসডির রেশনিং কর্মকর্তা মোসাম্মৎ বিউটি বেগম। নিজ কার্যালয় থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা। এবারের পাচারকান্ডেও রেশনিং কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানের পর গোডাউনে গিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তারা দেখতে পান, ৮টি ট্রাকে চাল, গম, আটা-ময়দা পাচারের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। পরে ট্রাকগুলো আটক করে র‌্যাব। বিস্ময়কর হলো, সরকারি খাদ্যশস্য পাচার করা ট্রাকগুলো ছিল নম্বরবিহীন। সিসি ক্যামেরা ও নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও কেপিআইভুক্ত
(সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) এলাকায় কীভাবে এমন নম্বরবিহীন ট্রাক প্রবেশ করল এবং সরকারের খাদ্যশস্য পাচার করতে যাচ্ছিল এর উত্তর দিতে পারেননি সংশিøষ্ট কেউই। এ সময় সিএসডি ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট ৩ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী পরে মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট থেকে ১১৫ টন চাল, গম ও আটা উদ্ধার করা হয়। এসব পণ্য পাচারের গন্তব্য ছিল চুয়াডাঙ্গা, শ্রীমঙ্গল ও মাওনা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্র বছরের পর বছর সরকারি এই খাদ্যগুদাম থেকে খাদ্যশস্য পাচার করে আসছিল। জব্দ হওয়া এসব চাল, গম ও আটা সরকারিভাবে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা হয়। কাগজে-কলমে তা বিক্রি দেখানো হলেও মূলত গুদামেই মজুদ ছিল।
র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক তদন্তে নাম আসা ব্যক্তিরা সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় অনৈতিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন। পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য দুদকের কাছে যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তর করা হয়েছে।
একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য (ওএমএস) রাখা এ চাল-আটা বাইরে পাচার করে দিচ্ছিল। প্রতিদিন ঢাকায় ১৪১টি পৃথক স্পটে ১৪১ টন চাল ও ২৮২ টন আটা স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে ওএমএসের মাধ্যমে বিক্রি করার কথা। তবে সিএসডির একটি অসাধু চক্র দিনের ২০০ টনের বেশি চাল-আটা কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। সূত্র জানায়, স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে চাল বিক্রি করতে সরকার ৩৯ টাকা কেজিতে কিনে ওএমএসের মাধ্যমে বিক্রি করে ২৮ টাকা ধরে। আর ৩২ টাকা কেজি দরে আটা কিনে ১৬ টাকায় বিক্রি করছে। ভর্তুকি দিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে চাল-আটা বিক্রির এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সিএসডির একটি চক্র ওএমএসের এসব পণ্যের অধিকাংশ কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। নির্বাচনের বছর গরীবের চালে এমন দুর্নীতি প্রতিহত করতে না পারলে গরীব মানুষের ভোট চাওয়ার কোনো উপায় থাকবে না সরকারের। তাই অতি দ্রুত গরীবের চাল লুটেরাদের প্রতিহত করতে হবে।