একতরফা নির্বাচনের পাঁয়তারা দেশের মানুষ আর বরদাশত করবে না

7

যুগবার্তা ডেস্কঃ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি, নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আজ দেশব্যাপী ‘দাবি দিবস’-এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ বলেন একতরফা নির্বাচনের পাঁয়তারা দেশের মানুষ আর বরদাশত করবে না। নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, জেদ ও একগুয়েমী পরিহার করে নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নিন।
জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমÐলীর সদস্য আজিজুর রহমান, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা আলমগীর হোসেন দুলাল, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরউদ্দিন পাপ্পু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহবায়ক হামিদুল হক। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু। সভা পরিচালনা করেন বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটার ও প্রার্থীবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নির্বাচনী ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে ফেলেছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। প্রশাসন ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। তারা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় সরকার পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ করে দেয়ার কৌশল হবে খুবই আত্মঘাতি এবং দেশের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টিকারী।
নেতৃবৃন্দ বলেন আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কিন্তু এ মুহুর্তে দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, অর্থবহ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। বর্তমান সরকারের অধীনে সরকারের অনুগত নির্বাচন কমিশনের দ্বারা অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। নেতৃবৃন্দ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ নিরপেক্ষ করার জন্য তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, সব দল ও সমাজের অপরাপর মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন, বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জন্য সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন, অর্থ, পেশিশক্তি, ধর্মের অপব্যবহার ও প্রশাসনের কারসাজি বন্ধের জন্য আরপিও’র সংশোধনী দাবি করেন।
নেতৃবৃন্দ ভোটাধিকার রক্ষায় গণসংগ্রাম-গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনগণকে আহবান জানান। সারাদেশে জেলা উপজেলায় ‘দাবি দিবস’ পালনের জন্য দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।