‘ভড়াডুবিতে ঈদের ছবির ব্যবসা’

9

মহিব আল হাসান: ঈদুল আযহায় চারটি সিনেমা মুক্তি পেলেও নাম মাত্র একটি হলে মুক্তি পায় জাজ মাল্টিমিডিয়ার বেপরোয়া সিনেমাটি। তবে তিনটি ছবির মধ্যে মোটামুটি ‘ক্যাপেটন খান’ সিনেমা ব্যবসা করলেও পিছিয়ে পড়েছে বাকি দুটি ছবি। মুক্তিপ্রাপ্ত বাকি সিনেমা দুটি দেশের প্রেক্ষাগৃহ গুলোতে মুক্তি পেলেও দর্শক টানতে পারেনি হলগুলোতে। উত্তরাঞ্চলের বেশকিছু সিনেমা হল ঘুড়ে দেখা যায় প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শকের উপস্থিত চোখের পড়ার মতো নয়।

রংপুরের সদরের শাপলায় অবস্থিত সিনেমা হল ‘শাপলা’। সেখানে চলছে ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত শাবিক-বুবলী অভিনীত সিনেমা ‘ক্যাপ্টেন খান’। ছবিটি নিয়ে হল মালিকরা বেশ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু তাদের হতাশ করেছে এই ছবিটি। ছবিটির লোকসান তুলতে চালানো হচ্ছে মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহে। ২০১৪ সালে তামিল ছবি ‘আনজান’ মুক্তি পায়। সেই ছবির নকল হওয়ায় ছবিটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে দর্শক।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হল কর্মকর্তা বলেন,‘আমাদের দেশের হিরো শাকিব খান। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র সুপারস্টার। যার কারণে এখনও বাংলা ছবির দর্শক হলে গিয়ে সিনেমা দেখে। কিন্তু তার মতো একজন বড় মাপের নায়কের কাছ থেকে দর্শক কখনো বস্তাপচা ছবি আশা করেন না। তিনি কিভাবে এমন ধরনের নকল ছবি করতে পারেন? যার কারণে আমাদের সিনেমা হল কর্তৃপক্ষকে লোকসান গুণতে হয়। যারা ছবি বানায় তারাই হল মালিক দর্শকের সাথে প্রতারণা করলে খুব শীঘ্রই সিনেমার অবস্থা আরো খারাপ হবে।

কিভাবে প্রতারণা করছে ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘দর্শকরা হলে আসেন নতুন সিনেমা দেখতে। কিন্তু তারা এসে যদি দেখেন এই ছবিটা অন্যদেশের অন্যভাষায় আগেই দেখেছে তাহলে কেমনে আসবে দর্শক। শুধু কাট আর পেস্ট করলেই ছবির মানোন্নয়ন হবে না।

‘ক্যাপ্টেন খান’ সিনেমা দেখতে জুম্মাপাড়া থেকে আসা রকি বলেন,‘ আমরা হলে সিনেমা দেখতে আসি নতুন কিছু দেখার জন্য। সেখানে এসে যদি আমাদের দেখা সিনেমাই আবার দেখতে হয় তাহলে কেনও আসবো হলে। সিনেমায় অভিনয় শিল্পীদের বিষয়ে বলেন, আমাদের শিল্পীদের অভিনয় করার ক্ষমতা আছে কিন্তু তাদের সঠিকভাবে ব্যবহার না করায় সিনেমার মান খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

দিনাজপুরের মর্ডাণ সিনেমা হলেও চলছে ক্যাপ্টেন খান সিনেমাটি। সেখানে দর্শক কিছুটা ভালো। ছবিটা মর্ডাণ হলে বেশ ভালো চলছে বলে হলের সুপারভাইজার শেখ রহিম জানান।

মর্ডাণ হলের সুপারভাইজার শেখ রহিম বলেন,‘সিনেমাটি নিয়ে যেরকম আশা করেছিলাম সেরকম না করলেও হতাশ করেনি ছবিটি। আশাকরি দ্বিতীয় সপ্তাহে ছবিটি আরো ভালো ব্যবসা করবে।

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ হীরক সিনেমা হলেও চলছে শাকিবের ছবিটি। সেখানেও ছবিটি আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি।

ঈদের বাকি দুটি ছবি ‘জান্নাত’ ও ‘মনে রেখো’ সিনেমা দুটি ভালো অবস্থানে নেই। ঈদে ‘জান্নাত’ সিনেমাটি ২২টি হলে মুক্তি পেলেও ঢাকার প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পায়নি। তবে ঈদের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে ছবিটি ঢাকায় চলছে। ছবিটি ঢাকায় আসলে কিছুটা আশার মুখ দেখছে। ছবিটিতে সাইমন ও মাহিয়া মাহি অভিনয় করেছেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক।

ঢাকার কয়েকটি সিনেমা হল ঘুড়ে দেখা যায় সিনেমাটি সব ধরনের দর্শক টানছে। কিন্তু হল কর্তৃপক্ষদের দাবি যেরকমভাবে ঈদের ছবির ব্যবসা থাকে তা এবার ঈদে হতাশ করেছে। ঈদে সব হল মালিকদের একটা প্রত্যাশা থাকে যা এবার ঈদে পূরণ হয় নি।

ঢাকার মধুমিতা হলে চলছে ‘জান্নাত’ সিনেমাটি। সেখানে ছবিটি দর্শকদের টানলেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছে না হল কর্তৃপক্ষ। মধুমিতা হলের ম্যানেজার জানান, ঢাকায় সিনেম দেখার জন্য অভিজাত মানুষগুলো বেশি আগ্রহ দেখায়। সব শ্রেণির দর্শক অাসলেও ব্যবসা তেমন ভালো হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন,‘ সিনেমাটি আমাদের এখন পর্যন্ত হতাশ না করলেও লাভের মুখে দেখায় নি। তবে সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া বেশ ভালো পাচ্ছি। সব ধরনের দর্শক এই ছবিটি ভালোভাবে গ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত ‘মনে রেখো’ সিনেমাটি দেশের ৬৭টি সিনেমা হলে মুক্তি পেলেও ছবিটির বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ ছবিটিও দর্শক ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে নি। ঈদে মধুমিতা হলে মুক্তি পায় মাহি ও কলকাতার অভিনেতা বনি অভিনীত সিনেমা ‘মনে রেখো’। ছবিটি ঈদে মুক্তি পেলেও ভালো ব্যবসা করতে পারে নাই বলে জানান মধুমিতা হলের মালিক ইফতেখার নওশাদ।

ঈদের ছবির হালচাল নিয়ে সিনেমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন,‘সিনেমা দেখার দর্শক আমাদের দেশে আছে। তারা ভালো সিনেমা দেখার জন্য অপেক্ষা করেন। মৌলিক গল্প আর নির্মাণশৈলীই পরিবর্তন করতে পারে বর্তমান অবস্থান।-আমাদের সময়.কম