মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে ধ্বংস করতেই পরাজিত শত্রুরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল–মেনন

19

যুগবার্তা ডেস্কঃ “মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে ধ্বংস করতেই পরাজিত শত্রæরা কিছু সেনা সদস্যকে ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান আমলের পুরনো দিনগুলোতে ফিরে যাওয়া। আর তাই আমরা দেখেছিলাম বাংলাদেশ বেতার হয়ে গিয়েছিল রেডিও বাংলাদেশ। সেই চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ৪ মূলনীতির অন্যতম ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়েছিল। সমাজতন্ত্রকেও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছিল সামাজিক ন্যায় বিচারের। আর এর ফলশ্রুতিতেই দেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ধর্মভিত্তিক রাজনীতির। নতুন করে হত্যা, ক্যু, অভ্যুত্থান এবং জনগণের ওপর নিপীড়ন।
নব্বুইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে একইভাবে ব্যর্থ করে দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া জামাতের সাথে হাত মিলিয়ে ক্ষমতায় এসে জামাতের আমির গোলাম আজমকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়েছিল এবং ২০০১ সালের ষড়যন্ত্রের নির্বাচনের মাধ্যমে এই জামাতকেই তাদের ক্ষমতার সাথী বানিয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্রের ধারা এখনও অব্যাহত আছে। সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তারা আন্দোলনের কথা বলছে। যদিও এই ১০ বছরে তারা কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। তাই তারা ভর করছে কখনও কোটা আন্দোলনের ওপর, কখনও কিশোর-ছাত্র আন্দোলনের ওপর। এ ধরনের আন্দোলনে তারা আরও সুযোগ নিতে চাইবে। এজন্য আজকে সকল নেতা-কর্মীদের সতর্ক ও সজাগ থেকে জনগণকে সংগঠিত রাখতে হবে। যাতে তারা এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে না পারে।”

আজ বিকেলে মিন্টু রোডে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি আওয়ামী লীগের রমনা ও শাহবাগ থানার থানা ও ওয়ার্ড সমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এক সভায় একথা বলেন। সভার শুরুতে ১৫ আগস্টের নিহত শহীদের প্রতি ১ মিনিট দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রমনা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক কমিশনার জনাব মোখলেছুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন শাহবাগ থানার সভাপতি আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. হামিদ খান, রমনা থানার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ ওয়ার্ডের সভাপতি ও সম্পাদকগণ।

মেনন আরও বলেন, সামনে নির্বাচন তাই এখনই জনগণের কাছে যেতে হবে। তাদের কাছে বিএনপি-জামাতের দুঃশাসন ও ষড়যন্ত্রের স্বরুপ তুলে ধরতে হবে এবং একই সঙ্গে গত ১০ বছরের যে উনśয়ন সংগঠিত হয়েছে সে ব্যাপারেও জনগণকে বিশেষভাবে অবহিত করতে হবে। এই জন্য সকল ওয়ার্ড, ইউনিট এবং কেন্দ্র পর্যায়ে সবাইকে নিয়ে বসুন, আলোচনা করুন, জনগণকে একটি শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করুন।