বাংলাদেশ আসিয়ান ও সার্কভুক্তদেশগুলোর মাঝে সম্পর্কের সেতু হতে পারে – পরিকল্পনামন্ত্রী

7

যুগবার্তা ডেস্কঃ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলো শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে হাতে হাত ধরে চলবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বুধবার সকালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলো নিয়ে গঠিত জোট আসিয়ান-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মাননীয় মন্ত্রী।

ঢাকাস্থ ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাসে ‘ঢাকা আসিয়ান কমিটি’ (ডাক) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ১৯৬৭ সালের ৮ আগস্ট আসিয়ান প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘ডাক’ এর যাত্রা শুরু হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আঞ্চলিক নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিয়ে শান্তিপূর্ণ এশিয়া গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বিষয়েও বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশ এশিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এআরএফ এবং আসিয়ানের পারস্পরিক সম্পর্ক শুধু দুটি ঐতিহাসিক অঞ্চলের মধ্যে শুধু সেতুবন্ধই রচনা করবে না, এর সঙ্গে বিনিয়োগ বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়েও অবদান রাখবে। আসিয়ানভূক্ত দেশগুলোতে বিশ্বের ৯ শতাংশ মানুষ বাস করে। এটি উন্নয়নশীল দেশের আঞ্চলিক জোটগুলোর মধ্যে অন্যতম সফল জোট। এই জোটের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা নিঃসন্দেহে আশাব্যাঞ্জক। আসিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটি (এইসি) বিশ্বের পঞ্চম এবং চীন ও ভারতের পরে তৃতীয় দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

মাননীয় মন্ত্রী আরো বলেন,দক্ষিণ-পূর্ব এশিযার রাষ্ট্রগুলো নিয়ে গঠিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্থা আসিয়ানের প্রবেশদ্বার থাইল্যান্ড। ওদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সংস্থা সার্কের শেষ সীমান্তে রয়েছে বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশ আসিয়ান ও সার্কভুক্তদেশগুলোর মাঝে সম্পর্কের সেতু হতে পারে । ফলে, এসব দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও কানেকটিভিটি বাড়াতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি ১০ সদস্যের আসিয়ান জোটে নতুন সদস্য হিসেবে বাংলাদেশদেশেরও অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে মাননীয়মন্ত্রী।আর সদস্য হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায়। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বিনিয়োগ অনেক বেশি। আমাদের নিকটবর্তী প্রতিবেশি মায়ানমারও এর অন্যতম সদস্য। বাংলাদেশের উপস্থিতি ছাড়া আসিয়ানকে অপূর্ণ মনে হয়। তাই আমরা আসিয়ানভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি। যাতে পূর্ব দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়। বেশ কিছু বিশ্ব জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ বিনিয়োগ সুবিধার দ্বিতীয় দেশ। শ্রম মূল্য, জমি ও বিদ্যুৎ সুবিধা, বিশ্ব বাজারের জিএসপি সুবিধা প্রভৃতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ অন্যতম বিনিয়োগ গন্তব্য।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা পৃথিয়াসমিয়ারসি সোমারনোসহ আসিয়ান দেশগুলোর হাইকমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাননীয় মন্ত্রী বিশেষ করে মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন উ’সহ সকল অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয় হচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা। বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত বিপদাশঙ্কাপূর্ন সমস্যা। এটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে, আসিয়ানের মত আন্তর্জাতিক জোটের ভূমিকা এক্ষেত্রে অগ্রগন্য। আর মায়ানমারকে এ বিষয়ে আন্তরিক ও বন্ধুসুলভ আচরনের জন্য আহ্বান করছি।