সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে সিপিবি’র প্রতিক্রিয়া

4

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম এক বিবৃতিতে বলেছেন, সম্প্রতি আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ৭ বছর ঝুলে থাকা সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ তড়িঘড়ি করে মন্ত্রিসভায় পাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলের মতামতকে উপেক্ষা করে যে আইন-এর খসড়া পাশ করা হলো তা সড়কে সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা ও জনগণের জান-মাল রক্ষায় মোটেই যথেষ্ট নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের আকাংখা ছিল একটি ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন’ করা হবে। কিন্তু সেই আকাংখা উপেক্ষিত হয়েছে। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা’র দায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অধিকার বঞ্চিত ও নানাভাবে শোষিত ড্রাইভারের উপর চাপানো ও শাস্তির মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হয়েছে। যানবাহনের মালিক, দুর্নীতবাজ কতক ইঞ্জিনিয়ার, কন্ট্রাক্টরসহ দুর্ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যদের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা ও শাস্তির বিধান যথাযথ হয়নি। নিরাপদ সড়কসহ সড়কের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, ড্রাইভার-হেলপারদের নিয়োগপত্র প্রদান, অতিরিক্ত সময় গাড়ী চালানো বন্ধ, পর্যাপ্ত বিশ্রামসহ শ্রমিক হিসাবে মানবিক জীবন দেওয়া, মালিকদের মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ী নামানো ও অতিরিক্ত মুনাফা লুটতে অশুভ প্রতিযোগিতা বন্ধ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব না। পরিবহন ব্যবসায় জড়িত মাফিয়াতন্ত্রের হাতে সড়ক খাত জিম্মি। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাও দুর্নীতিগ্রস্থ। এ অবস্থা থেকে এই খাতকে বের করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার পুনর্গঠন, আধুনিকায়ন ও আইনের কার্যকর প্রয়োগের সুনির্দিষ্ট আইন উপেক্ষিত হয়েছে। এছাড়া পরবহন মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ও অপরাধের ভিত্তিতে তাদের শাস্তির সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়নি। খসড়া আইনে দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে যেভাবে আইন শৃংখলা বাহিনীর কর্তৃত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত দোষী খুঁজে বের করা ও শাস্তি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
আইনে শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের আগে চালকের জীবনের মান উন্নয়নের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়নি। এটা করেই সংগঠিত বিভিনś অপরাধের শাস্তির মাত্রা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। রুট পারমিট দেওয়ার বিষয়টি পরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মুক্ত করে স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ সংস্থার হাতে দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের অথচ খসড়া আইনে তা উপেক্ষা করা হয়েছে।
খসড়া আইনে শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা বলা হলেও চালকের সহকারীর অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তীতে ড্রাইভার এর যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টিও উপেক্ষিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবহন খাতে শৃংখলা আনতে দ্রুত সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন যেমন জরুরী, তেমনই জরুরী এই আইন চূড়ান্ত করার আগে বিশেষজ্ঞসহ এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের মতামত নেওয়া। বিবৃতিতে আইনের খসড়াটি উন্মুক্ত করা ও সচেতন সকল মহলের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত সংসদ অধিবেশন ডেকে আইনের চূড়ান্ত অনুমোদনের আহবান জানানো হয়।