স্বর্ণদ্বীপে পর্যটক টানতে সোনাপুর-চেয়ারম্যানঘাট সড়ক উন্নয়ন করা হবে

13

যুগবার্তা ডেস্কঃ দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এর পেছনে যে কয়েকটি কারণ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যোগাযোগ অবকাঠামোর নাজুকতা। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তার অংশ হিসেবে নেয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ, হাতিয়া, ভাসানচর এবং স্বর্ণদ্বীপে পর্যটক টানতে সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে। এ জন্য ‘সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন’ নামের একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ১৬৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সোনাপুর হতে চেয়ারম্যানঘাট সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি নোয়াখালী সড়ক বিভাগাধীন দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়কের অন্তর্ভুক্ত। সড়ক দুটি হচ্ছে, লক্ষ্মীপুর-চরআলেকজান্ডার-সোনাপুর সড়ক এবং সোনাপুর মান্নাননগর-চরজব্বার-ষ্টিমারঘাট সড়ক। প্রস্তাবিত সড়কটি উন্নয়নের জন্য সোনাপুর হতে শুরু হয়ে মান্নানগর-চরজব্বার হয়ে হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাটে গিয়ে শেষ হয়েছে। নোয়াখালীর সঙ্গে দ্বীপ এলাকা হাতিয়া, ভাসানচর, স্বর্ণদ্বীপে যাতায়াতের জন্য একমাত্র সড়ক পথ সোনাপুর হতে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে। হাতিয়া বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নিঝুমদ্বীপ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান হওয়ার কারণে প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক এই সড়ক পথে চলাচল করেন। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নোয়াখালীর কেন্দ্রস্থল সোনাপুর হতে চেয়ারম্যানঘাট হয়ে দ্বীপ এলাকা হাতিয়া, ভাসানচর এবং স্বর্ণদ্বীপে যাওয়ার জন্য দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতকরণ হবে। এছাড়া দুর্ঘটনা কমানো, দ্রুত যান চলাচল, মালামাল পরিবহন বৃদ্ধি এবং প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী বৈঠক (একনেক) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন।

মাননীয় মন্ত্রী আরো জানান, ৬ হাজার ৪৪৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক । এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৬ হাজার ৪১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা খরচ করা হবে। দেশের যেসব স্থানে তাঁত শিল্প রয়েছে সেগুলোর জন্য প্রকল্প নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, সিলেটের মনিপুর এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে তাঁত শিল্প বিকাশে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে। অনুমোদিত প্রকল্প গুলো হচ্ছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের নিমিত্ত ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প। ডেসকো এলাকায় স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার সরবরাহ ও স্থাপন প্রকল্প। বাংলাদেশে তাঁত বোর্ডের আওতায় ৫টি বেসিক সেন্টার ৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, একটি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট এবং ২টি মার্কেট প্রমোশন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প। ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পীরগঞ্জ, রংপুর স্থাপন প্রকল্প। সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোট মনি নিবাস নির্মাণ/ পুন:নির্মাণ প্রকল্প। হাই-টেক পার্ক, সিলেট এর প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলাধীন পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্প। সোনাপুর হতে চেয়ারম্যানঘাট সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। বীরগঞ্জ-খানসামা-দাড়োয়ানী, খানসামা-রাণীবন্দর এবং চিরিরবন্দর-আমতলী বাজার জেলা মহাসড়কে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। কুলাউড়া-পৃথিমপাশা-হাজীপুর-শরীফপুর সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে পিসি গার্ডার নির্মাণ ও ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প। ঢাকা জেলার দোহার উপজেলাধীন মাঝিরচর থেকে নারিশাবাজার হয়ে মোকসেদপুর পর্যন্ত পদ্মা নদি ড্রেজিং ও বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প।