বন্যা আসছে, প্রস্তুতি কত দূর

3

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঘূর্ণিঝড় হোক অথবা বন্যা। বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে, কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে আবার পিছিয়ে পড়ে! বন্যা এ রকমই এক দুর্যোগ; যার কারণে প্রতি বছর ব্যাপক ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের হাত নেই, তবে আগাম সতর্কতা ও ব্যবস্থাপনা ক্ষতি কমাবে। আবহাওয়া অফিস ইতোমধ্যে আগাম সতর্কতা জারি করেছে। আগাম বন্যা ২০১৬ সালের বন্যার ভয়াবহতাকেও হার মানাতে পারে। নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। তাই বন্যা হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষার আগেই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, দেশের বেশির ভাগ নদনদী ও খালবিলের বেহাল দশা ও পর্যাপ্ত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকা বন্যার প্রধান কারণ। গত বছর আমরা দেখেছি, দেশের হাওরসহ নিন্মাঞ্চল কিভাবে বন্যায় ডুবে গিয়েছিল। অনেক মানুষ, গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি হয়েছিল। এবার যেন এ পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য সরকারসহ সবাইকে আগে থেকেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এ বছর বর্ষার আগেই তুমুল বর্ষণের কারণে আগাম বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। দেশে ইতোমধ্যে গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়ে গেছে। তুমুল বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বন্যার শঙ্কা রয়েছে। আগস্টের তৃতীয় বা শেষ সপ্তাহে বড় বন্যা হতে পারে বলে গবেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্থ দেশ হলো বাংলাদেশ। উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ছে। ফলে উপক‚লের মানুষ হারাচ্ছে আবাস ও জমি। অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে বন্যাও হানা দিচ্ছে অসময়ে। জরিপ বলছে, ২০১৬ সালের সংঘটিত বন্যা ১৯৮৮ সালের বন্যার পর সবচেয়ে বড় প্লাবন। এতে দেশের উত্তর পশ্চিম
ও মধ্যাঞ্চলের ১৯টি জেলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২১০০ সাল নাগাদ যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বাড়ে, তাহলে বাংলাদেশের তিন মিলিয়ন হেক্টর জমি প্লাবিত হতে পারে। ফলে তীব্র বন্যার কবলে পড়বে নিন্মাঞ্চল। সম্প্রতি সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফের সমুদ্র উপক‚লের পানি পরিমাপ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উপক‚লে প্রতি বছর ১৪ মিলিমিটার করে সমুদ্রের পানি বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে চীন ও বাংলাদেশ ভয়াবহ বিপদে পড়বে বলে নাসা সতর্ক করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ভ‚খন্ডের উপরিভাগের তাপমাত্রা যদি ক্রমবর্ধমান থাকে তাহলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার বাড়বে এবং এতে দেশের প্রায় ১৪ শতাংশ স্থলভ‚মি স্থায়ী ও অস্থায়ী নিমজ্জনের শিকার হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় তাপমাত্রা ও ভারী বৃষ্টিপাত এবং ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস পর্যবেণ করা গেছে। অল্প বৃষ্টিতেই দেশের প্রধান প্রধান শহর পানিতে ডুবে যায় যা রূপ নেয় জলাবদ্ধতায়। এরূপ চলতে থাকলে বাংলাদেশে বন্যা স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নিতে পারে এবং তা দেশের প্রায় অর্ধেক ভ‚খন্ড গ্রাস করবে। যত দিন যাচ্ছে, জনসংখ্যা বাড়ছে, আর কমে যাচ্ছে খাল-বিল আর নদী। বৃষ্টিতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। আর ভারী ও টানা বৃষ্টিতে এ সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করে। জলাবদ্ধতার প্রধান একটি কারণ হলো, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা। ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও ময়লা-আবর্জনা ড্রেনে ফেলা হয়। ফলে পানি নিষ্কাশনে বাধা পায়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব ছোট-বড় শহরে বেশির ভাগ ত্রেই আবর্জনার তুলনায় ডাস্টবিনের সংখ্যা অনেক কম। শুধু রাজধানী ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকাতেই কঠিন বর্জ্যরে পরিমাণ তিন হাজার টনেরও বেশি! যে ড্রেন দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়, সেই ড্রেনগুলো আজ আমরা নিত্যদিনের বর্জ্য দিয়ে ভরাট করে ফেলছি। অপ্রতুল ডাস্টবিন থাকায় মানুষ ড্রেন, রাস্তাঘাট, খাল-বিল-পুকুরকে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলেছে! ফলে বন্ধ হয়ে যায় পয়ঃনিষ্কাশনের পথ। জলবায়ু পরিবর্তনসহ মানবসৃষ্ট কারণেই বন্যা সংঘটিত হচ্ছে একটি বড় সমস্যা হলো- নদ-নদী, খাল-নালা অল্প কিছু লোভী ও ভ‚মিদস্যুর হাত থেকে রা করতে না পারা। এ দিকে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে বনভ‚মি ও বনজস¤পদ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো নির্মাণ, নগরের পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনে নগরে বন্যার কারণ। এখনই উচিত ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান এবং নদ-নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা। আগাম বন্যার ভয়াবহতা থেকে দেশকে রা করতে সময় থাকতেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত