অবশেষে আসছে কঠোর সড়ক আইন

11

যুগবার্তা ডেস্কঃ সড়ক পরিবহন আইনের ভেটিং স¤পন্ন করেছে আইন মন্ত্রণালয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এই আইন ভেটিং সম্পর্কিত নথি অনুমোদন দিয়েছেন। আইনের খসড়াটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে এই আইনের ভেটিং শেষ করল আইন মন্ত্রণালয়। নতুন এই আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাসের বাধ্যবাধকতা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। গত বছরের ২৭ মার্চ এই আইনের খসড়ায় মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দেয়। এখন মন্ত্রিসভা এই আইনের খসড়া চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দিলে তা পাস করতে সংসদে তোলা হবে। নতুন আইনে রয়েছে-
*আগের আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত ছিল না। নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালককে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে।* চালকের সহকারীরও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া থাকতে হবে। সহকারী হতে হলেও বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স নিতে হবে। আগের অধ্যাদেশে সহকারীদের লাইসেন্সের কথা থাকলেও তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছিল না।
*গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতই কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। আর পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর।*নতুন আইনের খসড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে অনধিক ৬ মাসের কারান্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থন্ড বা উভয়ন্ড দেওয়া হবে। আগের আইনে এই ধরনের অপরাধের জন্য তিন মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল।* চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে নতুন আইনের খসড়ায়।* নতুন আইন পাস হলে কেউ গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।এ আইন ভাঙলে এক মাসের কারাদন্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।* ছয় মাসের কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে- এমন অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় চালকদের গ্রেপ্তার করতে পারবে।
চালকরা যাতে আইন মেনে চলেন, সেজন্য প্রস্তাবিত আইনে পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে (চালকদের) পয়েন্ট কাটার সিস্টেম আছে। অর্থাৎ, ড্রাইভার যদি একবার দোষ করেন তাহলে একটা বা দুইটা পয়েন্ট কাটতে থাকে। এভাবে পয়েন্ট নিল (শূন্য) হয়ে গেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়। মোট ১২ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকবে। কোন অফেন্সে কত পয়েন্ট কাটা যাবে সেটা তফসিলে বলা আছে।
আগের অধ্যাদেশে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারের জন্য ২ বছরের কারাদন্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও প্রস্তাবিত আইনে জেল ২ বছর রেখে জরিমানা ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফিটনেস চলে যাওয়ার পরেও মোটরযানের ব্যবহার করলে এক বছরের জেল বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। এই অপরাধে আগের আইনে ছয় মাস জেল বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা হত। মোটরযানের মালিককে এই সাজা দেওয়া হবে। দন্ডবিধিতে তিন রকমের বিধান আছে। নরহত্যা হলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদন্ডের সাজা হবে। খুন না হলে ৩০৪ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদন্ড হবে। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটালে ৩০৪ (বি) ধারা অনুযায়ী ৩ বছরের কারাদন্ড হবে। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে কাউকে নিহত বা আহত করলে দন্ডবিধি অনুযায়ী সাজা হবে। দুই গাড়ি পাল্লা দিয়ে দূর্ঘটনা ঘটালে ৩ বছরের কারাদন্ড বা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড দেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় না পড়লেও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর জন্য আইনে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদন্ড অথবা দুই লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্সেল বা ওজনসীমা অতিক্রম (৫ টন ধারণক্ষমতার ট্রাক এর থেকে বেশি ওজন পরিবহন করলে) করলে গাড়ির মালিক ও চালককে ৩ বছরের কারাদন্ড বা তিন লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় চালক মোবাইল ফোন বা অনুরূপ সরঞ্জম ব্যবহার করতে পারবে না। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে এক মাসের কারাদন্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড হবে। সিট বেল্ট না বেধে গাড়ি চালানো; মহিলা, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং বয়জ্যেষ্ঠ যাত্রীর জন্য সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনো যাত্রী বসবেন না বা বসার অনুমতি দেওয়া যাবে না, এটা লঙ্ঘন করলে এক মাসের কারাদন্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড করা হবে। মহিলাদের সিটে বসতে না দিয়ে যদি অন্য কেউ (পুরুষ যাত্রী) বসে যায় তার জন্য এক মাসের জেল বা ৫ হাজার টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। মদ পান করে বা নেশাজতীয় দ্রব্য খেয়ে গাড়ি চালালে, সহকারীকে দিয়ে গাড়ি চালালে, উল্টো দিকে গাড়ি চালালে, নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য স্থানে গাড়ি থামিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে, চালক ছাড়া মোটরসাইকেল এক জনের বেশি সহযাত্রী ওঠালে, মোটর সাইকেলের চালক ও সহযাত্রীর হেলমেট না থাকলে, ছাদে যাত্রী বা পণ্য বহন করলে, সড়ক বা ফুটপাতে গাড়ি সারানোর নামে যানবাহন রেখে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে, ফুটপাতের ওপর দিয়ে কোনো মোটরযান চলাচল করলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদন্ড বা ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।