শিক্ষার্থীদের ওপর আবার হামলা হলে ৯ দফা এক দফার পরিণত হবে

20

যুগবার্তা ডেস্কঃ দুই শিক্ষার্থীকে বাস চাপায় হত্যার বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি জ্ঞাপন করে সংহতি সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। শুক্রবার বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ সংহতি সমাবেশে নগরীর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী, গণমাণ্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জহরলাল রায় এর সঞ্চালনায় এবং সভাপতি দীপক শীলের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক রেহনুমা খানম, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ, সড়ক দুর্ঘটনার নিহত প্রখ্যাত সাংবাদিক মিশুক মুনীরের ভাই গবেষক ও সাংবাদিক আসিফ মুনীর এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিএম জিলানী শুভ প্রমুখ। এছাড়া সমাবেশে পথ নাটক প্রদর্শন করে নাট্য ‘প্রাচ্যনাট’।

সমাবেশে সংহতি জ্ঞাপন করে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দুঃশাসন, দুর্নীতি, আইনের শাসনের অনুপস্থিতি, সমগ্রদেশের স্তরে স্তরে প্রবেশ করেছে। তার ফলশ্রুতিতে পরিবহনে সেক্টরের মাফিয়াতন্ত্রের বলি হল শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী। এমনকি পরিবহন শ্রমিকরাও এই মাফিয়াতন্ত্রের শিকার। এবং শিক্ষার্থীরা সচেতনভাবে দুঃশাসন, দুর্নীতি এবং আইনের শাসনের অনুপস্থিতি বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। তাদের প্রতি আমরা পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করছি। পরিবহন সেক্টর এই মাফিয়াতন্ত্র এবং তাদের গডফাদার নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে অপসারণ করে শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানিয়ে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কোন পথে যাবেন। যদি পরিবহন খাতের এই ˆনৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়ে সকল দাবি দাওয়া মেনে না নেওয়া হয় তবে শুধু মাত্র শিক্ষার্থী নয় সকল শ্রেণি পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ করে নয় দফাকে এক দফায় পরিণত করা হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক রেহনুমান খানম বলেন, সরকারের উচিৎ শিক্ষার্থীরা যেভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থার অবক্ষয়গুলোকে চিহ্নিত করে তার প্রতিবাদ করছে একইভাবে সেগুলোর অনতিবিলম্বে সমাধান করা। নতুবা এই পচতে থাকা সমাজকে, এই নষ্ট হতে যাওয়া রাষ্ট্রকে বাঁচানোর শেষ সুযোগও হাত ছাড়া হবে।