যানবাহনের সংখ্যা না কমানো গেলে দুর্ঘটনায় লাশের সংখ্যা বাড়বে ছাড়া কমবে না

20

আশিকুল কায়েসঃ রাস্তা পারাপারে জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করার সময় পথচারীদের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয় না। এক লেনের রাস্তা পার করে রোডের মাঝ বরাবর আসতে না আসতেই চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে মরণ নেশার গাড়ীগুলো। প্রতিযোগিতা চলে তাদের মধ্যে, কে আগে যেতে পারে। ৭নং, ৮নং এবং ১৩ নং গাড়ীগুলো বেয়াদব বলে খ্যাত। যাত্রীদের হুমকি ওদের গাড়ীর ফুয়েল। বাস্তব মেনে নিতে বড্ড বেশি কষ্ট হয় ৭নং গাড়ীগুলোও মাঝে মধ্যে সিটিং সার্ভিস হয়ে যায়। সিটিং নামের চিটিং করা সার্ভিস যদি ইচ্ছামত হয় তাহলে জনগণের সুবিধার্থে যানবাহনেরই দরকার কি? বাসগুলো ইচ্ছেমত চিটিংধারী রং ধারণ করলে কতজন জনগণইবা ভিআইপির রূপ ধারণ করতে পারে? সিটিং নামে চলে সর্বত্র নৈরাজ্য। গেটলকের কারণে একজন সাধারণ মানুষের সিএনজিযানে ভাড়া দিতে গুনতে হয় টিফিনের পয়সা।
গাড়ীতে উঠলেই ৫টাকা মেনে নিয়েছি, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কি জানেন পয়েন্ট গুনেগুনে বাসের কন্ডাকটাররা ভাড়া তোলে? সদরঘাট-গুলিস্তান= ৫টাকা, গুলিস্তান-প্রেসক্লাব= ৫টাকা, প্রেসক্লাব-মৎসভবন= ৫টাকা, মৎসভবন-শাহাবাগ= ৫টাকা, মোট= ২০টাকা। অথচ সদরঘাট থেকে শাহাবাগ পর্যন্ত একজন সাধারন মানুষের বিবেচনায় ভাড়া ১০টাকাও না। এদেশে জনাকীর্ণের শহরে সিটিং একদমই মানায় না।
এবার আসি মিটারচালিত সিএনজির কথাই।মিটারে চলা নিয়ম করা সত্ত্বেও কি এদের নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে? জনগণতো বাধ্য হয় চড়তে। এখানে জনগণেরই বা দোষ কোথায় বলুন? কয়েকদিন বেশ চলছিল সিএনজি ঠেকিয়ে হেয়ারিং। কিন্তু এখন এই হেয়ারিংটা উচ্চ ফেয়ারিং এ পরিণত হয়েছে।
মজার বিষয় এই যে যশোর থেকে পরিবহনে ঢাকায় আসতে ভাড়া লাগে ৪৩০টাকা আর গাবতলী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত সিএনজিতে ৩০০টাকা লাগে।যেখানে মাত্র গাড়ীর ভাড়ার পথ ২৫ টাকা। আমার জানামতে কেউ মিটারে যেতে চান না। বিশ্বাস না হয় সাধারণ পোশাক পরে একটু তদারকি করে আসতে পারেন। আর রিক্সা যারা চালান তারা চাকুরীজীবিদের থেকে খুব বেশি ভালো অবস্থানে আছেন। কেউ হয়তো সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন একটা রিক্সা কিনবেন। কর্মস্থলে যাবার সময় খ্যাপ নিয়ে যাবেন আর আসার সময় আর একবার। এতেকরে প্রতিদিন যেটা ইনকাম হবে মাস শেষে হিসেব কষলে দেখা যাবে চাকরীর বেতনের চেয়ে ঢের বেশি। বর্তমানে যাদের টাকাকড়ি খুব বেশি তারাই রিক্সাতে চড়ার সাহস করতে পারে। এসবের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এদের কারনেই তৈরি হয় যানজট, ওদের সূত্র ধরেই বৃদ্ধি পাই গাড়ি, লেইসেন্সবিহীন চালক, রিক্সা ও অটো। আন্দোলন করলেই এগুলোর সমাধান সম্ভব হবে না। স্কুল কলেজ বন্ধ করে ৫দিন আন্দোলন করে হয়তো দেশের পরিস্থিতি ও সরকারের ব্যর্থতা অন্যদেশের কাছে তুলে ধরা যায় পরিস্থিতির কোন আমুল পরিবর্তন আনতে পারেনা। এই আন্দোলন একটি কথার কথা থেকে যাবে যদি কিনা গাড়ীর মালিক সমিতি, সিএনজি চালক, রিক্সা চালক এদের কানে পানি না ঢোকানো যায়। দিনদিন যানবাহন বাড়ছে এখানে প্রসাশনের অবহেলা অস্বীকার করার মত নয় কিন্তু বর্তমানে যদি যানবাহনের সংখ্যা না কমানো যায় তাহলে রাস্তায় পথচারীদের দুর্ঘটনায় লাশের সংখ্যা বাড়বে ছাড়া কমবে না।
প্রথমদিকে বলছিলাম হয়রানির স্বীকার নিয়ে। স্কুল কলেজের ইউনিফোরাম পরা দেখলে গাড়িতে উঠতে দেয়া হয় না। লাঞ্ছিত হতে হয়। অনেক ছাত্র-ছাত্রী গুরুত্বপূর্ণ অনেক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনা। রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলে স্টুডেন্টদের পাওয়ার দেখাতেও সাহস আসে না। স্কুল-কলেজের হেডমাস্টারতো প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতাসীন ছাত্রসংসদের নেতারা। বেশির ভাগ গাড়িতে লেখা থাকে হাফ-পাশ নাই। তারপরও জোরজবরদস্তি করে যারা হাফভাড়া দেন তারাই ছাত্র সংসদের নেতা। তাহলে জনসাধারণের চাওয়া পাওয়ার জায়গা কোথায়?-লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ।