মন্ত্রী হয়ে গেলে পচে যাবার ঝুঁকি বেশি

11

ফজলুল বারীঃ শেখ হাসিনা যখন ১/১১’র সময় ঢাকায় বন্দী তখন সিডনি থেকে বিভিন্ন সময়ে লন্ডনে শেখ রেহানা, আমেরিকায় সজিব ওয়াজেদ জয়’র সাথে কথা বলার চেষ্টা করতাম। একদিন জয়’র সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা হচ্ছিল। জয় এক পর্যায়ে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজ রাখি ভাই। আমাকে কাজে যেতে হবে। জানেনতো বিদেশে আমাদের কাজ করে খেতে হয়। আমরা যারা বিদেশে থাকি তারা জানি জয়’র এই কথাটি কতো বাস্তব সত্য। জয়কেও বিদেশে কাজ করে খেতে হয়। এবং বিদেশে কাজ করে খাবার মতো পড়াশুনা তার এবং তার বোন পুতুলের আছে। এবার শেখ হাসিনা কানাডা যাবার পর যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সম্বর্ধনা হয়েছে সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ডক্টরেট করেছেন পুতুল।
একবার লন্ডনে গিয়ে শেখ রেহানাকে সেখানে দীর্ঘদিন চেনেন এমন একজনের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। লন্ডনের সংগ্রামের দিনগুলোতে শেখ রেহানাও সেখানে কাজ করে খেতেন। বাসে চলাফেরা করতেন। এখন শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি। ছেলে-ছেলের বৌ জাতিসংঘের চাকরি করেন বাংলাদেশে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার সময় তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। এরপর দুই বোন প্রথমে জার্মানিতে পরে ভারতে শরণার্থী জীবন কাটিয়েছেন। ভারত থেকে শেখ রেহানা যান ব্রিটেনে। তখন যখন সেখানে তার বিয়ে ঠিক হয়, বিমান ভাড়ার টাকার অভাবে শেখ হাসিনা তখন বোনের বিয়েতে যেতে পারেননি। আর তাদের ভাই শেখ কামাল ছিলেন ব্যাংক ডাকাত, আরও কতো কী!
শেখ হাসিনা শেখ রেহানা দুই বোনের বিষয়ে একটি বিষয় আমি বরাবর বলি তাহলো দুই বোনই ছেলেমেয়েদের বিদেশে ভালো পড়াশুনা করিয়েছেন বলে তাদের কাজ করে খাবার যোগ্যতা আছে। বিদেশে যাদের কাজ করে খাবার পর্যাপ্ত পড়াশুনা আছে তাদের অন্য কিছু করতে হয়না।
শেখ হাসিনার ছেলে জয়, শেখ রেহানার ছেলে ববি বিদেশে বিয়ে করায় অনেক সমালোচনা হয়। দু’জনের শশুরবাড়ি বাংলাদেশে না হওয়ায় বেঁচে গেছে বাংলাদেশ। কারন সাংবাদিকতার শুরুর দিনগুলোতে শেখ হাসিনার বাড়ির কর্মচারী হিসাবে যাদেরকে দেখতাম তারাও আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। জয়-ববি এরা বাংলাদেশে বিয়ে করলে তাদের শশুরবাড়ির লোকজনও নানান সুযোগ নেবার চেষ্টা করতেন। যেমন পুতুলের শশুর তেমন সুবিধার লোক না। পুতুলের শশুরের ভাগ্নে হিসাবে পরিচয় দেন এমন একজনও এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। আগে ইনি নেপথ্যে থেকে কড়ি গুনতেন জনশক্তি মন্ত্রনালয়ের। এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের কড়ি গুনেন! কিছুদিন আগে ফরিদপুরের জনসভা মঞ্চে তাকে মুজিবকোট পরা দেখা গেছে! আগামীতে এমপি হবার মহড়াও নাকি দিচ্ছেন তিনি!
শেখ হাসিনা এসব জানেননা তা আমি বিশ্বাস করিনা। মাঝে মধ্যে মনে হয় পুতুলের শশুর ছেলের বাবা হিসাবে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছেন। বাংলাদেশের মেয়ের মায়েরা যে শিকার হন সব সময়।
কিন্তু জয়-ববি’র দুর্নীতি আজো অনুবীক্ষন যন্ত্র দিয়ে খুঁজে বের করা যায়নি। দুর্নীতি এমন এক বিষয় তা অন্তত আজকের যুগে লুকিয়ে রাখা কঠিন। বিদেশি পত্রিকাগুলো শেখ হাসিনা নিয়ন্ত্রন করেননা। আর তারা যত কাজ করেন দুর্নীতি করলে এসব করা যায়না। শেখ হাসিনার নানাকাজে বক্তব্যে আমি জয়-পুতুল-ববি, ববি’র স্ত্রীর ছায়া দেখি। কারন তারা এই সময়ের আধুনিক শিক্ষিত প্রজন্মের প্রতিনিধি। সরকারের মন্ত্রী না হয়ে নেপথ্যে থেকে জয় যে সব কাজ করেন তা আমি পছন্দ করি। মন্ত্রী হয়ে গেলে পচে যাবার ঝুঁকি বেশি। কারন দেশের দুর্নীতি্মুক্ত মন্ত্রীদের সমালোচনা বেশি হয়। দুর্নীতিযুক্তরা দেশে দেবতা 😞
বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র জয়’র আজ জন্মদিন। তার সঙ্গে আমার মতো নেপথ্যের লোকজনের সম্পর্কটি মজার 🙂 যেমন বঙ্গবন্ধু আমাদের মুজিব ভাই। তার মেয়ে শেখ হাসিনা আমাদের ‘আপা’, ‘বুবু’। আপা-বুবু’র ছেলে জয়ও আমাদের ‘ভাই’। স্বার্থহীন থাকতে পারলে এমন আন্তরিক সম্বোধনগুলোতেও থাকা যায়। স্বার্থযুক্ত করতে গেলে ‘মাননীয়া’, ‘সাহেব’ এমন নানাকিছুও যুক্ত করতে হয়। শুভ জন্মদিন জয়। অনেক ভালো থাকুন।-লেখকঃ প্রবাসী সাংবাদিক।