পাকিস্তানে নির্বাচন সত্ত্বেও অভ্যুত্থানের আশঙ্কা

4

যুগবার্তা ডেস্কঃ পাকিস্তানে গতকাল ১১তম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। কিন্তু দেশটিতে নিরঙ্কুশ গণতন্ত্রের স্বপ্ন আবারও ফিকে হয়ে যাবে, এমনটা আশংকা করা হচ্ছে। ৭০ বছরের ইতিহাসে দেখা যায়, পাকিস্তানে কখনো আপাতদৃশ্যের গণতন্ত্র এসেছে। আবার পালাবদল করে এসেছে পুরোপুরি সামরিক সরকার। এই দুই ধরণের ব্যবস্থা যেন বারবার পালাবদল করেছে। আর এই প্রক্রিয়ার মাঝে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পাকিস্তানের সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দ্বন্দ্ব এবং পাকিস্তান হয়ে উঠেছে জঙ্গি এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল। খবর বিবিসি’র

এবারের নির্বাচন নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটাকে কেউ কেউ ‘গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থানের’ ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। সেজন্য বরাবরের মতো এবারও সন্দেহ করা হচ্ছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে। অতীতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সরাসরি অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। তা নাহলে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটিয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার বন্ধ হয়েছিল ২০০৮ সালে। সে কারণে পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো একটি নির্বাচিত সরকার ২০১৩ সালে তাদের মেয়াদ শেষ করতে পেরেছিল। তখন থেকেই আবার পাকিস্তানের গণতন্ত্রের স্রোত উল্টোদিকে বইতে শুরু করে। সমালোচকরা বলছেন, সামরিক প্রশাসন অতীতের মতো আবার পূর্ণ ক্ষমতা ফিরে পেতে পুরানো কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। সন্দেহের পিছনে তিন কারণ। প্রথমত, আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফসহ বেছে বেছে বিদায়ী সরকারের কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছে। ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি শওকত আজিজ সিদ্দিকীন অভিযোগ করেন, গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বিচারবিভাগে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। নওয়াজ শরিফকে যেন মুক্তি দেয়া না হয় সেজন্য সংস্থাটি চাপ সৃষ্টি করে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়ত, বেলুচিস্তানে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী একজন প্রার্থী গিজেন মারিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। কিন্তু পাশের নির্বাচনী এলাকাতেই জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে, এমন একজন প্রার্থী শফিক মেঙ্গাল নির্বিঘ্নে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। তার মতো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর অনেক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়। তৃতীয়ত, ভোটের প্রক্রিয়ায় বা তা পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর দল পাকিস্তান পিপলস পার্টিও চাপে রয়েছে। বামপন্থী আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির গুরুত্বপূর্ণ একজন প্রার্থী গত সপ্তাহে পেশোয়ারে আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয়েছেন। একই ধরণের হামলায় আরো দু’জন প্রার্থী নিহত হন। গণমাধ্যমও অজানা কর্তৃপক্ষ থেকে চাপের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরির পিছনেও সামরিক বাহিনীর কৌশল রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আর এই ক্ষোপটে নিরঙ্কুশ গণতন্ত্র আসলে অনেক দূরে বলেই বলা হচ্ছে। আসলে গণতন্ত্রের আড়ালে সামরিক শক্তির অধীনে একটা শাসনব্যবস্থা বা অভ্যুত্থান হচ্ছে-এই ভয় কাজ করছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।-ইত্তেফাক