কেন দ্বিধায় ছিলেন মাশরাফি?

8

রানা আব্বাস, গায়ানা থেকেঃ টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়াটা কি ঠিক হলো? গায়ানার আকাশে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ। বৃষ্টি নামতে পারে যেকোনো সময়ে। উইকেটও খানিকটা আর্দ্র। কিছু ফাটল আছে, বল ঘুরতে পারে। ব্যাটে আসতে পারে ধীরে। তবু টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া ঠিক হলো কি না, ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দেওয়া হলো কি না—এসব নিয়ে বড় ভাবনায় পড়ে গিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বলে রাখা ভালো, বেশির ভাগ সময়ই টসের সিদ্ধান্ত অধিনায়কের একার নয়। বাংলাদেশের অধিনায়কদের ক্ষেত্রে সেটি তো আরও নয়। টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়কেরা, টস জিতলে ব্যাটিং নেবেন, নাকি বোলিং। উইকেট কঠিন হবে বোঝার পরও ব্যাটিং নিয়ে তাই বড় দ্বিধায় পড়ে গেলেন মাশরাফি, সিদ্ধান্তটা কি ঠিক হলো?

তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত এক জুটি চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছে মাশরাফিকে। ‘খুবই দ্বিধায় ছিলাম আসলে। উইকেটে এমন আর্দ্রতা ছিল, ব্যাটিং নেব কি নেব না ভাবছিলাম। ভাবছিলাম ব্যাটিংয়ে না আবার বড় কোনো সমস্যা হয়ে যায়। ভাগ্য ভালো সাকিব-তামিম দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। ওদের স্পিনাররা দুর্দান্ত বোলিং করেছে। শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি এক-দুইটা উইকেট বেশি নিত, তাহলে আমরা সমস্যায় পড়ে যেতাম ভীষণ’—কাল ম্যাচ শেষে গায়ানা ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ড্রেসিংরুমের সামনে দাঁড়িয়ে বলছিলেন মাশরাফি।

স্কোরবোর্ডে যখন ৪ উইকেটে ২৭৯ উঠে গেছে, মাশরাফি তখন আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, এই উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৮০ করতে গেলে অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আগে কী করেছি, সেটি নিয়ে ভাবলে এটা সম্ভব হতো না, সত্যি কথা। এই দৃঢ়তা আমাদের অনেক আগেই দেখানো উচিত ছিল। দেখিয়েছি যখন এটা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আত্মবিশ্বাসী অবশ্যই ছিলাম, একটা-দুইটা ভালো ইনিংস দৃশ্যটা বদলে দিতে পারে। ওয়ানডেতে আমাদের বোলিং আক্রমণ যথেষ্ট ভালো। বিশ্বসেরা বলব না, তবে ভালো। আমরা ভালো স্কোর পেলে আর দ্রুত উইকেট পেলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’
শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়েছে। টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার পর ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এসেছে জয়। এখন মাশরাফির কথাটা সবাই মনে রাখলেই হলো—এটাকে ধরে রাখাতে হবে।-প্রথমআলো