উচ্চশিক্ষার ভর্তি পরীক্ষায় সমন্বিত ব্যবস্থা দরকার

6

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষিত হয়েছে। এবার পাসের হার ৬৬.৬৪ শতাংশ।গতবারের তুলনায় কম। জিপিএ ৫ ধারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম। দুই বছর ধরেই পাসের হার আগের তুলনায় কম হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এমন হারই স্বাভাবিক। এখন তাদের জন্য উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ঝামেলা এখনো রয়েই গেছে। এখনো কোনো সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সারা দেশে ছুটতে হয়, বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এর অবসান দরকার।

শিক্ষার ফোকাসেও পরিবর্তন দরকার। কারিগরি শিক্ষা পরিমাণে বেশি হওয়া দরকার, সাধারণ শিক্ষার চেয়ে। তবে উভয় ধরনেই মান নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চশিক্ষা বিষয়ে সরকারকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। টেলিফোনে ও ই-মেইলে পাঠকরা এসব অভিমত জানিয়েছেন

► এইচএসসি পাস ছাত্র-ছাত্রীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ছাত্রজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো। সামনে সফলতা লাভের অনেক সুযোগ হাতছানি দিয়ে ডাকছে। পেছন দিকে না তাকিয়ে শিক্ষার্থীদের এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা উচিত। কিভাবে উচ্চশিক্ষার ধাপ সম্পন্ন করা যাবে, তা নিয়ে অভিভাবকদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। বাজে আড্ডা শিক্ষার্থীদের পরিহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এখন সফলতা অর্জনের শেষ সময়। তাই এ সময় হেলায় কাটানো উচিত নয়। নির্বিঘ্নে উচ্চশিক্ষার ধাপ সম্পন্ন করতে সঠিকভাবে পড়াশোনার বিকল্প নেই। সঠিকভাবে জ্ঞানার্জনের নিমিত্তে কঠোর অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে এখন থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পেছনের ভুলগুলো শুধরে এগোতে হবে। সবার জীবনে সফলতা আসুক—এই শুভ কামনা রইল।

তাইফুর রহমান মুন্না

কাছিকাটা, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট।

► যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত। এইচএসসি-পরবর্তী উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করা একান্ত প্রয়োজন। এইচএসসির পর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি পরীক্ষা নামক মহাযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয় শিক্ষার্থীদের। প্রতিবছর যত শিক্ষার্থী ভালো ফল অর্জন করছে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তত আসন নেই। ফলে বহু শিক্ষার্থী নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠান বা বিষয়ে ভর্তি হতে পারে না। তাদের যেতে হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত আসন থাকলেও টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি আকাশচুম্বী। তাই অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থীর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। সরকারের উচিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন বাড়ানো এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। তাহলেই সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে। তারা দেশের সম্পদ হবে, দেশকে বিশ্বের বুকে সম্মানিত করবে।

এম আনিসুর রহমান

শেখেরখিল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

► উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কমবেশি বিতর্ক আছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে সঠিক ও আধুনিক শিক্ষানীতির অভাবও এর কারণ। উন্নত মানের উচ্চশিক্ষার জন্য মানসম্মত কারিকুলাম, পর্যাপ্ত গবেষণা ও গুণগত শিক্ষক নিয়োগ দান নিশ্চিত করতে হবে। এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা মন্ত্রণালয় থেকে অধিক নজরদারির প্রয়োজন।

মো. শাহাআলম ইসলাম

আকবপুর, মিঠাপুকুর, রংপুর।

► সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে গেলে নানা হ্যাপা। এগুলো সামাল দিতে দিতে ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির সময় শেষ হয়ে যায়। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অনেক মা-বাবাই তা বহন করার ক্ষমতা রাখেন না। ফলে অনেকের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আবার দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে পড়ার স্বপ্ন মোটামুটি সব ছাত্র-ছাত্রীই দেখে। অনেক সময় বহিরাগত বা মেয়াদোত্তীর্ণরা হল দখল করে রাখে। তখন নতুনদের আরো অসুবিধা হয়। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নেতারা তাঁদের লোকজনের থাকার ব্যবস্থা করেন। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ে। ব্যক্তি উদ্যোগে আরো বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা এবং গরিব ও মেধাভিত্তিক সেখানে তাদের সুবিধা দেওয়া উচিত, প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন তার লেখাপড়ার যথাযথ সুযোগ-সুবিধা পায়। কারণ সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য মা-বাবা সব ত্যাগ করেন। তাঁদের কষ্টের ফল যেন নষ্ট না হয়।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

► ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ভালো শিক্ষকের কাছে পড়াতে হবে। শরীর ও মন ঠিক রাখতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দিতে হবে। জীবনে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা শেখাতে হবে। ভর্তি ও পড়ালেখার খরচ ঠিকমতো দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে, যেন শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ না পড়ে। পরিবারের সবাই মিলে ছেলে-মেয়েকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে পড়ালেখায় ভালো করতে অনুপ্রাণিত হয়।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

► এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এক যুগ পড়াশোনার পর উচ্চশিক্ষাঙ্গনে পা রাখতে যাচ্ছে। তারা ও তাদের পরিবার আশা করে, তাদের লালিত স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, শিক্ষাজীবনের এই পর্যায়ে এসে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর স্বপ্নভঙ্গ হবে। কারণ ডাক্তারি, প্রকৌশল বা অন্যান্য শাখায় পড়াশোনার জন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন কম। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেকার তৈরির কারখানা। শুধু দক্ষতার অভাবে উচ্চশিক্ষিত অনেককে যথাস্থানে নিয়োগ দেওয়া যায় না, তাই দক্ষ জনশক্তি আমদানি করতে হয়। এটা দুর্ভাগ্যজনক। তাই সব শিক্ষার্থী যেন প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে বেকারত্বের মিছিলে শামিল না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দক্ষতা অর্জন করে তারা যাতে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সেই নিরিখে ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে।

এম এ সাক্কুর আলম

জিনজিরা, ঢাকা।

► গত ১৯ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে। মাদরাসা বোর্ড ভালো ফল করেছে। কিন্তু ভালো ফল করলেও সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ভালো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ পায় না। সরকার তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা রাখি।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

► মেধা ও নাম্বারের স্কেল করে যদি ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সিট খালি থাকবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারে। ভর্তি পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের সারা দেশে ছোটাছুটি করতে হয়। এটা শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—উভয়ের জন্য বিড়ম্বনার ও কষ্টের। এসব কষ্ট-বিড়ম্বনা বন্ধ হোক।

মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ

সাভার, ঢাকা।

► দেশ-বিদেশের ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে মানবসম্পদ সৃষ্টি করতে হবে। এবার পাস করা প্রতিটি শিক্ষার্থী যাতে পরবর্তী শিক্ষা গ্রহণ করে মানবসম্পদে পরিণত হয়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। উচ্চশিক্ষার নামে যাতে বেকার সৃষ্টি না হয় তা খেয়ালে রাখতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যালসহ সব সেক্টরে সরকারি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী মানবসম্পদ তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে। বেকার হাতকে কর্মীর হাতে রূপদানের মহাপরিকল্পনা গ্রহণই উন্নয়নের চাবিকাঠি। সে চেতনায়ই শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে। পাস করা শিক্ষার্থীদের দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি সরকারকেই করতে হবে। দেশের সার্বিক অগ্রগতি ও উন্নয়নের স্বার্থে প্রতিটি শিক্ষার্থী যাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় সে জন্য সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন বাড়াতে হবে। গ্রামগঞ্জে শিক্ষার মান যাতে উন্নত হয় বা শহরের সমপর্যায়ে হয় সেই লক্ষ্যে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার দরজা অবারিত করে দিতে হবে। তাদের মানবশক্তিতে পরিণত করার জন্য সরকারকে কাজ করতে হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

► রাষ্ট্র নিজেই দীর্ঘ মেয়াদে তার চাহিদাপত্র তৈরি করতে পারেনি। একটি দেশে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, আইটি বিশেষজ্ঞ, বিবিএ, এমবিএ কতজন প্রয়োজন? আর সব শিক্ষার্থীকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিতে হবে, সেটিও বিশ্ববাজারে এখন অচল ধারণা বলেই মনে হয়। এখন দেশ ও বিশ্বের শ্রমবাজারের যোগ্য করতে দরকার কারিগরি শিক্ষা। উভয় বাজারেই কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা আছে। আমাদের উচ্চশিক্ষার সনাতন ধারণা ও চিন্তার সংস্কার প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষা যে সবার জন্য নয়, এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। পাশাপাশি এ কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে, যারা উচ্চশিক্ষা নেবে, তাদের সেই শিক্ষার মানে যেন সাম্য থাকে। শুধু সনদ বিক্রি যেন উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য না হয়। মান রক্ষা করতে হবে কলেজের শিক্ষাপদ্ধতির। উচ্চশিক্ষায় যোগ্য শিক্ষক প্রয়োজন। সবার জন্য উচ্চশিক্ষা নয়—এই বিশ্বাস যত দ্রুত আয়ত্তে আনা যাবে, ততই মঙ্গল।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

► আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম খ্যাত-অখ্যাত কমবেশি ১২ ধরনের পদ্ধতিতে বিভক্ত। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিগুণ আছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, যেগুলোর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের হাতে নেই বলে সাধারণ মানুষের ধারণা। তার ওপর আছে দেশের সর্বত্র যাবতীয় বিষয়ে অনার্সসমৃদ্ধ বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। কিন্তু অভ্যন্তরীণ, জাতীয় ও বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আজও আমাদের দেশে সাধারণ ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র বা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি, যা সম্পূর্ণ হতাশাব্যঞ্জক। তবে সার্টিফিকেট বাণিজ্যে আমাদের অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বিন্দুমাত্র পিছিয়ে আছে মর্মে দাবি চরম শত্রুও করার সাহস রাখে না। পৃথিবীর সেরা শিক্ষাপদ্ধতির দেশ হিসেবে যেসব দেশ পরিচিত সেসব দেশে আমাদের উপযুক্ত দূতাবাসও আছে। অথচ আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ সরাসরি বা দূতাবাসের মাধ্যমে এই সব দেশ থেকে উপযুক্ত তথ্যাদি নিয়ে আমাদের শিক্ষাকে যুগোপযোগী করে গড়ে নিতে কেন যে উদ্যমী হচ্ছে না তা বলা মুশকিল। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা যে তিমিরে ছিলাম, সে তিমিরেই পড়ি আছি। কাজেই এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আমরা উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলেও উচ্চমানের ছাত্র বা মানবসম্পদ বানাতে কতটুকু সফল হব তা একমাত্র ভবিতব্যই জানে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

► যে জাতি শিক্ষায় অগ্রগামী, তারা বিশ্বের বুকে তত উন্নত জাতি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। কাজেই আমাদের শিক্ষার উন্নয়নে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নজর দিতে হবে। ভালো শিক্ষার্থীদের নানাভাবে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। আর এ+ ও গোল্ডেন এ+ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ এবং বিশেষ ক্ষেত্রে স্কলারশিপ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। ভর্তি ফি ও বেতন কমাতে হবে। শিক্ষা উপকরণের দাম কমাতে হবে। শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা করতে হবে। ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

► উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশী প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তানের মতো চিন্তা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে শতভাগ শিক্ষার্থী ভোগান্তিমুক্তভাবে ভর্তি হতে পারে। উচ্চশিক্ষা যেন শিক্ষার্থীদের কাছে সোনার হরিণের মতো না হয়। উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্পতা এর অন্যতম কারণ। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যত দ্রুত সম্ভব প্রতিটি উপজেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করাও একান্ত প্রয়োজন। ভর্তির ব্যাপারে রাজনীতির কাছে মেধা প্রতিনিয়ত হার মানতে বাধ্য হচ্ছে। ভর্তির ব্যাপারে রীতিমতো যুদ্ধে নামতে হয় শিক্ষার্থীদের। সব কিছু বিবেচনায় এনে ভর্তির বিষয় আরো সহজ করে, শতভাগ শিক্ষার্থী যেন ভোগান্তিমুক্তভাবে ভর্তি হতে পারে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

► এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কম। এটা দুঃখজনক। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, সে ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে।

রাজিব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

► আমাদের দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে জুতসই চাকরির অভাবে অনেকেই ধারকর্জ করে বিভিন্ন দেশে ক্লিনার, হোটেলের রুমবয়, অ্যাটেনডেন্টের কাজ করছে। যারা দেশে থাকছে, তাদের কেউ কেউ অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকার, রিকশা গ্যারেজের সুপারভাইজার, ডেকোরেটরের দোকান বা ইটভাটার ম্যানেজারের কাজ নিয়ে মা-বাবা, ছোট ভাই-বোনের মুখে অন্নের সংস্থান করছে। তথ্য বা ‘ডিগ্রি’ গোপন করে অনেকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের অফিস সহায়ক (পিয়ন) বা এ ধরনের নিম্নপদে চাকরি করছে। প্রাইমারি ও কেজি স্কুলগুলোতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষকের তো ছড়াছড়ি। উল্লিখিত কোনো কাজকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিটি কাজেরই মর্যাদা আছে। প্রশ্ন হলো, ওই সব কাজের জন্য অভিভাবকের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিএ-এমএ পাস করার দরকার আছে কি? ব্যাবহারিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার জন্য দেশের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি মহিলা কলেজ, কুড়িগ্রাম।

► বর্তমান সরকার শিক্ষার জন্য যা যা করা দরকার, সবই করছে। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নত হতে পারে না। কিন্তু এইচএসসি পাস করার পর সন্তানের জন্য অভিভাবকের ভাবনার অন্ত থাকে না। পাবলিক বিশ্ববিদালয়ে আসন কম, বেসরকারি বিশ্ববিদালয়ে শিক্ষাব্যয় সাধারণের নাগালের বাইরে। সব মা-বাবার সে সামর্থ্য থাকে না। এ কারণে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের আগে অনেকে ঝরে পড়ে। অনেকেরই উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত হয় না। উচ্চশিক্ষা সুগম করার জন্য ভর্তি ফি কমাতে হবে, সেশন চার্জ কমাতে হবে, অন্যান্য ফি মওকুফ করতে হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

► বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা আসনের জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা রীতিমতো যুদ্ধ করে। অথচ ভারত যেখানে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীদের ডাক্তারি পড়ার সুযোগ দেয়, সেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ দিতে পারে না। আমাদের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় যদি কিছুসংখ্যক আসন বাড়ায়, তাহলে হয়তো আমাদের মেধাবীরা আরো এগিয়ে যেত দুর্বার গতিতে। বিশ্ববিদ্যালয় যে মার্কস হিসাব করে তা যদি বাদ দিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে প্রকৃত মেধাবীরা সুযোগ পেত। আমরা চাই, প্রত্যেক মা-বাবার সন্তান উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পাক। আশা করি, তাদের স্বপ্নগুলো পূরণ করার জন্য সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

হোসাইন শাহাদাত

নোয়াখালী।

► নানাভাবেই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা যায়। প্রথমে পরিবারে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন ঠিকমতো পড়ালেখা হয়, এটা দেখবে কর্তৃপক্ষ। ছাত্রদের যেন কোনোভাবেই রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের। ১২ বছর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তারা এ পর্যায়ে এসেছে। পড়ালেখার মূল পর্ব শুরু হবে এখান থেকেই। ফলে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাই পারে ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে।

মুহিবুর রহমান চৌধুরী

নরহা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

► দেশের সুনাগরিক হতে হলে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। মানব থেকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত হওয়ার নিরিখেও উচ্চশিক্ষা অত্যাবশ্যকীয়। স্বাক্ষরতা বা ডিগ্রি নয়, প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় হতে হবে নিবেদিতপ্রাণ। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষার্থীদের মনে রাখা দরকার যে শিক্ষার চূড়ান্ত ফলই হচ্ছে সহনশীলতা অর্জন। এটা যেন আমরা কেউই ভুলে না যাই।

আহসান হাবীব

আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

► দেশের ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা চোখ বন্ধ করে ছুটবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের দিকে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ। তাই এরা সবাই ঢাকামুখী হবে। পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয়, তৃতীয় নম্বরেও থাকবে ঢাকার কিংবা এর আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপর বড় নগরীগুলো। দেখা যাবে, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকের সন্তানও কোচিং করবে বুয়েটে ভর্তি হতে। যাদের অধিগ্রহণ করা জমিতে হয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সে রকম পরিবারের কোনো ছেলেও ছুটবে ঢাকা কিংবা জাহাঙ্গীরনগরের দিকে। তাই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মান উন্নয়নে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি ক্রীড়া, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ শিক্ষাবহির্ভূত কার্যক্রমের দিকেও এসব প্রতিষ্ঠানকে মনোযোগী হতে হবে।

আব্দুর রহমান

দক্ষিণ বিজয়পুর, গৌরনদী, বরিশাল।

► প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সেরা ২০০ শিক্ষার্থী বেছে নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা উচিত। তাহলে দেশের চাহিদা অনুযায়ী সৃষ্টিশীল ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সহিদুল মোড়ল

নলিয়ান, দাকোপ, খুলনা।

এইচএসসি উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনন্দন। সুশিক্ষিত ব্যক্তিই সুবিবেচক ব্যক্তি। আজকের ছাত্র-ছাত্রীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য তারা মুখিয়ে আছে। তাদের যেন হতাশ করা না হয়।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস টার্মিনাল, ঝিনাইদহ।

► অনেক আগেই উচ্চশিক্ষায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও বিনিয়োগ করা উচিত ছিল। এরই মধ্যে অনেক মেধাবী কক্ষচ্যুত হয়ে গেছে। প্রতিবছর প্রচুর শিক্ষার্থী এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়। সন্তান ভালো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাবে কি না, এ নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকেন। এটা সত্যিই কষ্টকর, ভুক্তভোগী মাত্রই বোঝে। ভর্তি পরীক্ষার জন্য সারা দেশে ছুটে বেড়াতে হয়। অসহায় অবস্থায় পড়ে অভিভাবকরা, ছাত্র-ছাত্রীরা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। যথাযথ বিনিয়োগ দরকার। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে লাখ দেড়েক আসন বাড়াতে হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে ভর্তি জটিলতা কমবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।-কালেরকন্ঠ