গাজী টিভিতে শুক্রবার রাতে প্রচারিত হবে ‘বাতিওয়ালা’

9

বিনোদন প্রতিবেদক:

প্রায় পাঁবছর পর নির্মাণে এলেন মেধাবী নাট্যনির্মাতা এস.এম.কামরুজ্জামান সাগর। সর্বশেষ তিনি ২০১৩ সালে ‘দত্তক’ কাহিনীচিত্র নির্মাণ করেছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনে। এরপর রাজনীতি এবং ‘ডিরেক্টর গিল্ডস’র সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ব্যস্ত থাকায় নির্মাণে আর সময়ে দেয়া হয়ে উঠেনি তার। নতুন বছরের শুরুতে বিরতি ভেঙ্গে নির্মাণে এলেন আবারো তিনি। এবারও তিনি নির্মাণ করেছেন টেলিভিশন কাহিনীচিত্র। নাম ‘বাতিওয়ালা’। এটি রচনা করেছেন ফেরারী ফরহাদ। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। তার ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রওনক হাসান। রওনক ভালোবাসে গয়নাকে। কিন্তু গয়নাকে একসময় সিএনজি চালক হারু বিয়ে করে। রওনক তারা বাবার বাতির ব্যবসাকেই পেশা হিসেবে নিয়ে জীবন ধারণ শুরু করে। কারণ সে মনে করে বাতি বাংলাদেশের ঐতিহ্য। একসময় সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারায় সিএনজি চালক হারু। বাতিওয়ালা’র কাছে বাতি বানানো শিখে জীবন ধারণ শুরু করে হারু। এগিয়ে যায় ‘বাতিওয়ালা’র গর্বিত জীবনের নতুন আরেক অধ্যায়। এতে গয়না চরিত্রে অপর্ণা ঘোষ এবং হারু চরিত্রে শতাব্দী ওয়াদুদ অভিনয় করেছেন। কাহিনীচিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন,‘ কাহিনীচিত্রের গল্পটা মৌলিক। সাগরকে এর আগে আমি সিনেমায় সহকারী হিসেবে পেয়েছি। এবারই প্রথম তার নির্দেশনায় কাজ করেছি। বেশ গুছিয়ে একটি মৌলিক গল্পের যথাযথ উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে। তাছাড়া রওনক, শতাব্দী এবং অপর্ণা তিনজনই আমার খুব প্রিয় অভিনয়শিল্পী, তারা খুউব ভালো অভিনয় করেছে।’ রওনক হাসান বলেন,‘ বাংলাদেশের ঐতিহ্য বাতি। আর আমার বাবার ব্যবসা বাতি নিয়েই। আমি অন্যকিছু না করে বাবার ঐতিহ্যকেই ধরে রেখেছি। এমন একটি চমৎকার গল্পে কাজ করে ভীষণ ভালোলেগেছে।’ অপর্ণা বলেন,‘ সাগর ভাইয়ের নির্দেশনায় প্রথম কাজ করেছি। বেশ গুছিয়ে কাজটি শেষ করেছেন তিনি।’ শতাব্দী বলেন,‘ আমি সবসময়ই যেমন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, এখানে হারু চরিত্রটি ঠিক তাই। বাতিওয়ালা এই সময়ে দর্শকের মাঝে অন্যরকম এক সাড়া ফেলবে।’ কাহিনীচিত্রটি প্রযোজনা করেছে ‘নেট মাল্টিমিডিয়া’। উল্লেখ্য এস.এম.কামরুজ্জামান সাগর এখন পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি টেলিভিশন কাহিনীচিত্র এবং ১৫০টিরও বেশি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। তার প্রথম পরিচালনা শুরু হয়েছিল ১৯৯৯ সালে ‘একটু রোদের ছোঁয়া’ কাহিনীচিত্রটি দিয়ে।তার নির্দেশিত উল্লেখযোবাংলার ঐতিহ্যের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘বাতিওয়ালা’বাংলার ঐতিহ্যের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘বাতিওয়ালা’গ্য টেলিভিশন কাহিনীচিত্র হচ্ছে ‘ক্লান্তি’,‘একটু রোদের ছোঁয়া’,‘সিনেমাওয়ালা’,‘নীরব পথের যাত্রী’,‘রোমিওরা’,‘হিজাব’,‘দত্তক’,‘আবার আসিবো ফিরে’,‘প্লিজ হাসবেন না’ ইত্যাদি। এমনই বাংলার ঐতিহ্যের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘বাতিওয়ালা’ গাজী টিভিতে প্রচারতি হবে শুক্রবার রাত নয়টায়।

কাহিনী সংক্ষেপ:

জগলু-র বয়স ৬০ উর্ধ্ব।বয়স যতটুকু হয়েছে পরিশ্রমের ভারে শরীর আরও অনেক বেশি নুয়ে পড়েছে। পেশায় সে একজন কুপীবাতি বিক্রেতা। শহরের অলিগলি, মাঠে ঘাটে বাতি ফেরী করে বেড়ায়। বর্তমান সময় আধুনিক হওয়ার প্রেক্ষিতে জগলুর কুপী বাতির চাহিদা এখন আর তেমন নেই। ব্যবহার এর চাইতে ২/১ জন লোক কখনো সৌখিনতার কারণে এই কুপিবাতি কিনে নেয়। কোনদিন ২/৪ টা বাতি বিক্রি হয়- আবার কোনদিন হয়ই না। তারপরও জগলু-র বাতি কাঁধে করে পথ হাঁটা থেমে নেই। নিত্য অভাব অনটনের পরও জগলু এই পেশা থেকে সরে যায় না। জগলু মনে করে এই কুপীবাতি আমাদের ঐতিহ্য। কালের বিবর্তনে এবং আধুনিকতার জোয়ারে এই ঐতিহ্যবাহী কুপিবাতি আজ বিলুপ্ত প্রায়। জগলু ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চায়।
মানু বয়সে তরুণ। পেশায় সে কুপিবাতি তৈরীর কারিঘর। কখনো বাবার ইচ্ছায় কখনো নিজের অনিচ্ছা সত্তে¡ও বাতি তৈরী করে । মানু-র বাবা জগলু এই নিয়ে মানু-র সাথে প্রায়ই অন্তদন্ধ করে। এই পেশার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে মানু-আর নিজেকে এই পেশার সাথে সম্পৃক্ত রাখতে রাজি না।

এলাকার সুন্দরী গার্মেন্ট কর্মী গয়নার সাথে মানু-র দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের মধ্যে ইদানিং টানাপোড়ন ও মত বিরোধ সৃষ্টি হয়। আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে গয়না ইচ্ছা থাকলেও মানুর সাথে সংসার করার সাহস পায় না। এলাকার সৌখিন সি.এন.জি চালক হার দু’জনার সম্পর্কের মধ্যে রুঢ় বাস্তবতার ভবিষ্যৎ চিত্র- সুযোগ পেলেই তুলে ধরে, দূরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা চালাতে থাকে। কারণ সে গয়নাকে নিয়ে সংসার করার স্বপ্ন দেখে।
পেশা পরিবর্তন নিয়ে মানু ও জগলু-র নিয়মিত দ্বন্ধ চলে, মানু তার পিতা জগলুর আবেগ-অনুভুতি ও ঐতিহ্যময় রুঢ় বাস্তবতার কাছে হার মানে ।
এক দূর্যোগময় রাতে জগলু বার্ধক্যজনিত কারণে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘরে কেরোসিন না থাকায় মানু-গয়নার কাছে কুপিবাতি জ্বালানোর তেল চাইতে গিয়ে উপহাস এর পাত্র হয়ে ফিরে আসে।যেই জগলু সারা জীবন মানুষের ঘরে আলোর ফেরী করে কাঁটিয়েছে- তাকে মরতে হচ্ছে অন্ধকারে।
গয়না মুখে পরিহাস করলেও অন্তরে চেপে রাখে মানু-র প্রতি গভীর ভালবাসা ও বিনম্র শ্রদ্ধা । যা মানু- কোনদিনও বুঝতে পারে না।
বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার কারণে গয়নার মা গয়নাকে হারুর সাথে বিয়ে দেন। এতে করে মানু-আরও বেশি অসহায় ও একাকিত্ব অনুভব করে। বাবার ইচ্ছে অনুযায়ী পরিপূর্ণ ভাবে তখন কুপিবাতি আঁকড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা চালায়। নিজের তৈরী করা বাতি নিজেই পথে ঘাটে ফেরি করে বেড়ায়। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর রাতে বড্ড বেশি নিঃসঙ্গ ও একাকী অনুভব করে। গয়নাকে তখন অনেক বেশী মনে পড়ে।
একরাতে হারু-র সি.এন.জি ছিনতাই হয়। হারু প্রাণপনে সি.এন.জি রক্ষা করতে চাইলে ছিনতাই কারীর গুলিতে পঙ্গু হয় হারু। হারু ও গয়নার সংসারে নেমে আসে অভাব। পঙ্গু হারু সংসার পরিচালনা নিয়ে দুঃনিশ্চয়তায় পড়ে। প্রিয়তমা স্ত্রী ও তার গর্ভে বেড়ে ওঠা সন্তান এর ভবিষ্যৎ চিন্তায় পাগল প্রায়।একটি দূঘটনা তাদের সারা জীবনের যত্মে আঁকা চকটি বদলে দেয়।
মানু-কে বাতিওয়ালা বলে অতীতে অনেকবার তিরস্কার করে হাসির খোরাক করলেও হারু শেষ পর্যন্ত মানুর সরনাপন্ন হয়ে বাতি তৈরী করা শিখতে চায়।
একসময় হারু ও গয়না দু’জনেই মানু-র সহযোগীতায় কুপিবাতি তৈরী করা শুরু করে। মানু নতুন উদ্যমে হারু ও গয়নার তৈরী করা কুপিবাতি ফেরী করে বেড়ায় পথ ঘাট অলিগলি। শুরু হয় তিনটি মানুষ এবং একজন অনাগত সন্তান এর বেঁচে থাকার জন্য নতুন বাস্তবতার যুদ্ধ। মানু আবার নতুন করে অনুপ্রাণিত হয় কুপিবাতির উপর। যেখানে তার বাবার ভালবাসা এবং ভালবাসার মানুষের স্পর্শ লেগে আছে।
এভাবেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী কুপিবাতি এবং এর সাথে সম্পৃক্ত কয়েকটি মানুষের দুঃখ সুখের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চিত্র নিয়ে রচিত ।