২০ লাখ টাকা ঘুষ

3

শাহাদাত তিমিরঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত কয়েকটি অডিও ফাঁস হয়েছে। এগুলো শনিবার রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে পৌঁছে গেছে।

অডিওতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে এক চাকরিপ্রার্থীর টাকা বিনিময়ের কথা শোনা যাচ্ছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক নিয়োগ দিতে প্রার্থীর সঙ্গে ২০ লাখ টাকার চুক্তি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ দিতে এক প্রার্থীর সঙ্গে চুক্তি করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও টিএসসির পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক বাকী বিল্লাহ বিকুল, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন আজাদ।

সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য বিকুল ও আজাদ ২০ লাখ টাকা নেন। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা ইসলামী ব্যাংকের চেক দেওয়া হয়। চেক নম্বর ০৫৬৯৩১৪ এবং হিসাব নম্বর ২৪৩১৬। এ ছাড়া ১০ লাখ টাকা নগদ দেন প্রার্থী। গত বৃহস্পতিবার রাতে কুষ্টিয়ায় বিকুলের বাসার সামনে এ টাকা লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা ছাত্রলীগকে দেওয়ার কথা বলে নেওয়া হয়।

বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে চারটি প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রশাসন। চারটি বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে ৭৪ জন প্রার্থী আবেদন করেন। তবে প্রবেশপত্র পান ৪২ জন।

গত বৃহস্পতিবার ওই বিভাগের নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন ১৯ জন। এর মধ্যে টাকা লেনদেনকারী প্রার্থীও পাস করেন। এই প্রার্থীর ক্রমিক নম্বর ১৫। তবে মৌখিক সাক্ষাৎকার শেষে তাঁকে বাছাই করেনি নিয়োগ বোর্ড।

বোর্ডে বাদ পড়ে ওই প্রার্থী আবারও যোগাযোগ করেন ড. বিকুল ও আজাদের সঙ্গে। এ সময় প্রার্থীকে টাকা ফেরত দিতে চান তাঁরা। তবে টাকা ফেরত না চেয়ে চাকরি চান প্রার্থী। প্রয়োজনে আরো টাকা দিতে প্রস্তুতও তিনি। এই সময়ে ড. বিকুলের সঙ্গে ওই প্রার্থী এবং তাঁর স্বামী মামুনের কথোপকথনের তিনটি রেকর্ড ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে। কথোপকথনের অংশগুলো দুই মিনিট ৩৭ সেকেন্ড, এক মিনিট ৪৫ সেকেন্ড এবং বাকিটি এক মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের।

এ ছাড়া এই প্রার্থীর সঙ্গে আজাদের সাত মিনিট ১০ সেকেন্ডের আরেকটি কথোপকথন পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ড. বাকি বিল্লাহ বিকুল বলেন, ‘বিষয়টা খুব বিব্রতকর। আসলে এ বিষয়ে আমার জানা নেই। শিক্ষকদের সম্মানে এ থেকে একটু বিরত থাকো। এটি আসলে জাহাঙ্গীর স্যারের মাধ্যমে কথাবার্তা হচ্ছিল। সঙ্গে আজাদ স্যাররাও ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কী কথাবার্তা হয়েছে তা আমার জানার কথা না। ’

আরেকটি কথোপকথনে ড. বাকি বিল্লাহ ও ড. আজাদ চাকরি না হওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁকে টাকাও ফেরত নিতে বলেন শিক্ষকরা। তবে প্রার্থী টাকার বিনিময়ে চাকরি চান। এ সময় ড. আজাদ ইতিহাস বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ হবে বলে প্রার্থীকে জানান। তখন তাঁকে ১৫ দিন আগে যোগাযোগ করতে বলেন এবং টাকাগুলো নিয়ে রেখে দিতে বলেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন আজাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘অভিযোগ আমি শুনেছি। যদিও মেয়েটির নিয়োগ হয়নি তবুও বিষয়টি ন্যক্কারজনক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কুকর্মের কথা ভাবতেও দেওয়া হবে না। আজকেই (রবিবার) একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হবে। ’-কালেরকন্ঠ