নিত্যপণ্যের দাম আবারো ঊর্ধগতি, মরিচের ঝালে পকেট জ্বলে

4

যুগবার্তা ডেস্কঃ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম তিনগুণ বেড়েছে। ঈদের পর থেকে বাজার মনিটরিং না করার কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। সাধারণ ক্রেতারা তিনগুণ দাম দিয়ে কিনতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। যেহেতু কাঁচামরিচ নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি দ্রব্য তাই ক্রেতারা বাড়তি দামেই তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। একইসাথে বাজারে দেশি শুকনা মরিচের সরবরাহ বেড়েছে। তবে কমছে না পণ্যটির দাম। বেশি খরচে আমদানি করা ভারতের মরিচের কারণেই দেশি পণ্যের দামও বাড়তি রয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশি মরিচ এখনো পুরোপুরি বাজারে আসেনি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, ফলে দাম কমছে না। গত বছর দেশের কৃষকরা মরিচের ভালো দাম না পাওয়ায় এবার অনেকেই কালিজিরার চাষ করেছেন। ফলে দেশেও উৎপাদন কমেছে। মসলা প্রক্রিয়াজাত কো¤পানিগুলো এখনো মরিচ কেনা শুরু করেনি। তারা বাজারে ঢুকলে দাম তেমন কমবে না। সব বিবেচনায় ক্রেতাকে পুরো বছরটাতেই মরিচে একটু বেশি খরচ করতে হতে পারে বলে বাজারসংশিøষ্টরা মনে করছেন
চাল, ডাল, চিনি, সয়াবিন, ছোলা, রসুন, মাংসসহ বিভিনś ধরনের মসলার দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। অত্যাবশ্যক এসব ভোগ্য-পণ্যের দাম বৃদ্ধির হার ৭২.৭৩ শতাংশ। টিসিবির হিসেবে বিগত এক বছরে লবণের দাম বেড়েছে ৪৬.৫১ শতাংশ। একই সঙ্গে চিনির দাম বেড়েছে ৪৩.০১ শতাংশ। দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় গত এক বছরে মোটা চালের দাম বেড়েছে ১০.৬১ শতাংশ। টিসিবির হিসেবে গত এক বছরে সবধরনের সরু চালের দাম বেড়েছে। টিসিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক বছরে চিনির দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। এক বছরে চিনির মূল্য বৃদ্ধির হার ৪৩.০১ শতাংশ। এছাড়া বিভিনś মানের আয়োডিনযুক্ত প্যাকেট লবণের দামও গত এক বছরে অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে। প্রতিদিনের অত্যাবশ্যক এই ভোগ্যপণ্যের মূল্য গত এক বছরে বেড়েছে ৪৬.৫১ শতাংশ।বিগত এক বছরে সব ধরনের ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে খোলা পাম তেলের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকহারে। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিগত বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৮৫ থেকে ৮৮ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকা। এক বছরে খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে ২.৮৯ শতাংশ। এছাড়া ৫ লিটার সয়াবিনের তেলের প্রতিটি বোতল ২০১৬ সালের এই সময়ে ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা বিক্রি হলেও নতুন বছরের একই সময়ে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৬৫ থেকে ৫০০ টাকা করে। দাম বৃদ্ধির হার ৩.৭৬ শতাংশ। এছাড়া সয়াবিন তেলের প্রতিটি ১ লিটার বোতল বিক্রি হয়েছিল ৯৫ থেকে ১০২ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৯৮ থেকে ১০২ টাকা করে।এক বছরে দাম বেড়েছে ১.৫২ শতাংশ। ডাল জাতীয় ভোগ্যপণ্যের মধ্যে ছোলা ও অ্যাĽর ডালের দাম গত এক বছরে বেড়েছে। তবে, আলু আদাসহ কিছু ভোগ্যপণ্যের মূল্য কমেছে। এক বছরের ছোলার দাম বৃদ্ধির হার ১৭.২৪ শতাংশ। টিসিবির হিসেবে দেশি ও আমদানিকৃত পিয়াজ ছাড়া প্রায় সব ধরনের মসলা জাতীয় ভোগ্যপণ্যের দাম গত একবছরে বেড়েছে। এর মধ্যে গত একবছরে দেশি ও আমদানিকৃত রসুনের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। এক বছরের রসুনের দাম বৃদ্ধির হার ৫৬ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে ১০.২৬ শতাংশ। ব্রয়লার মুরগী ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা করে। এক বছরে ব্রয়লার মুরগীর দাম বেড়েছে ১৮.৫২ শতাংশ। এছাড়া দেশি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও নতুন বছরের শুরুতে তা বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৬০ টাকা করে।এক বছরে দেশি মুরগির দাম বেড়েছে ২.৯৯ শতাংশ।