বরিশাল সিটি নির্বাচন : জনগনের মুখোমুখি ৬ মেয়র প্রার্থী , অনুপস্থিত নৌকার সাদিক

12

বরিশাল অফিসঃ সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির উদ্যোগে শুক্রবার (১৩ জুলাই)বেলা ১১ টায় নগরের অশ্বিনী কুমার হলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যোগ্য ও সৎ প্রার্থী নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সুজন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার, জাতীয়পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন (তাপস), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী ওবাইদুর রহমান মাহবুব, বাসদের মেয়র প্রার্থী ডাঃ মনিষা
চক্রবর্তী, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বশির আহমেদ ঝুনু, সিপিবির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানে সুজন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ড. বদিউল আলম, গনরায় মেনে নেয়ার জন্য প্রার্থীদের প্রতি আহবান জানান। পাশাপাশি যারা নির্বাচিত হবেন তাদের কর্পোরেশনে নামে-বেনামে কোন ঠিকাদারি না করার জন্য আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বশির আহমেদ ঝুনু বলেন, বিগত সময়ে মেয়রের পদে থেকে কে কি করেছেন তা সবাই জানে। শুধু শওকত হোসেন হিরনই কজা করেছেন।মেয়র পদে ব্যক্তিগত দূর্ণীতিমুক্তদের বসা প্রয়োজন। আমি বাজে
কমিটমেন্ট দিবো আর নির্বাচিত হলে ভুলে যাবো সেটা হতে দেয়া উচিত নয়। ভোটাররা ১ দিনের জন্য ভোট দিবেন আর যোগ্য প্রার্থী না হলে ৫ বছরের জন্য
পস্তাবেন। পার্সেন্টিসবাজদের দুর্নিতীবাজদের ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে। আমার ভোট চাইতে লজ্জা করে কারন আমি বরিশালবাসীর জন্য কিছু করিনি। তবে দয়া করে যদি ভোটাররা ভোট দেন তবে বরিশালের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।

বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার বলেন, ভোটে অংশগ্রহন করেছি, যা নিয়ে মানুষের মাঝে সংশয়, শঙ্কা রয়েছ। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের কমিটমেন্ট করতে আমার ভোট আমি দিবো, যাকে খুশি তাকে দিবো এবং জনগনের ভোট যারা দখল করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আজ দলীয় নির্বাচনের কারনে দলীয় করন হয়ে গেছে।
আমরা চাই গনতন্ত্র মুক্তির পথে আসুক।গনতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত না হলে সিটি কর্পোরেশনকে এগিয়ে নেয়া যাবে না্তি নি বলেন, উন্নয়নের জন্য আমাদের বাজেটে বরাদ্দের নির্ভরতা কমাতে হবে। আমি বিগত সময়ে যখন মেয়র ছিলাম তখন সিটি কর্পোরেশনের কোন জায়গা লিস দেইনি, ১১ টি মার্কেট করেছি, কালেক্টর পুকুর দখলমমুক্ত করেছি, বাড়ি-ঘর, মন্দির
দখলমুক্ত করেছি। এমনকি সন্ত্রাস করতে দেবো না কমিটমেন্ট করেছিলাম তাও করতে দেইনি। মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক করেছি, মেয়র পদক ঘোষনা করেছিলাম।মেয়র হলে নগর উন্নয়নে পরিকল্পনা করে জনগনের সাথে মিলেমিশে কাজ
করবো।খাল খনন, জলাবদ্ধতা নিরসন, শহর রক্ষাবাধ নির্মান, নবীনদের জন্য কর্মসংস্থানসহ নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন
করবো।বরিশালকে সুন্দর নগরী করার আকাঙ্খা রয়েছে।

বাসদের মেয়র প্রার্থী ডাঃ মনিষা চক্রবর্তী বলেন, নির্বাচিত হলে নগর কাউন্সিলের মাধ্যমে জনগননের মতামত নিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হবে। আমি এই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের প্রথম নারী প্রার্থী। বিগত ১৫ বছরে কোন মেয়রই নারী বান্ধব কর্মসূচী হাতে নেয়নি। আমি মেয়র হলে কর্মজীবি নারী হোষ্টেল, ডে কেয়ার সেন্টারসহ নারীবান্ধব কর্মকান্ড পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে পাড়ায় পাড়ায় পাঠশালা তৈরি,রচনা প্রতিযোগীতা, গনিত উৎসব, সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যবস্থা করা হবে।

সিপিবির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকে দৃষ্টিনন্দন একটি নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক উন্নয়নসহ নাগরিক সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে। নগরের বস্তি এলাকার মানুষদের পুনঃবাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের দাবী জানিয়ে জাতীয়পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন (তাপস) বলেন,জনগনের উন্নয়ন আর প্রতিশ্রুতির ফুল ঝুড়ি দিতে চাইনা। জনগন সবার ওপরে। নির্বাচিত হলে নগরভবনে নগরপিতা হিসেবে নয়, সেবকভবনে নগরের সেবক হিসেবে বসতে চাই।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী ওবাইদুর রহমান মাহবুব বলেন,সিটি কর্পোরেশনকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করার জন্য দুর্ণিতীমুক্ত করা হবে। পার্সেন্টিস মুক্ত কর্পোরেশন গড়া হবে। এসময় তিনি সৎলোককে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের কাছে আহবান জানান।

সুজন বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম, জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক রনজিৎ দত্তসহ ভোটার ও বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা।